Categories
জাতীয় ফিচার

ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি/আমি কি ভুলিতে পারি/ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়া এ ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি/আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’ বরেণ্য সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর এই গান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের কথা।  ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য যারা শহিদ হন তাদের ভুলে যায়নি বাঙালি জাতি। শুধু বাঙালিরা নয়, সারাবিশ্বের মানুষ আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ভাষা সংগ্রামীদের।

আমরাই পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। তাই জাতি হিসেবে আমাদের ভাষার প্রতি অগাধ ভালোবাসার জন্য ইউনেস্কো ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বরে। ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছরই জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত দেশগুলো ২১  ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে পালন করে আসছে।

বাংলা ভাষার এ স্বীকৃতি সহজে আসেনি, বহু মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে এসেছে।

ভাষা আন্দোলনের সূচনা: ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের (পূর্ব বাংলা) বাংলাভাষী ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ৬ কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যাবিশিষ্ট নবগঠিত পাকিস্তানের নাগরিকে পরিণত হয়। কিন্তু পাকিস্তান সরকার, প্রশাসন এবং সামরিক বাহিনীতে পশ্চিম পাকিস্তানিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ১৯৪৭ সালে করাচিতে জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাপত্রে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশসহ প্রচারমাধ্যম ও বিদ্যালয়ে কেবলমাত্র উর্দু ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়। তাৎক্ষণিক এ প্রস্তাবের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সমাবেশে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা এবং পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের প্রবল দাবি উত্থাপন করা হয়। কিন্তু পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশন বাংলাকে তাদের অনুমোদিত বিষয়তালিকা থেকে বাদ দেয় এবং মুদ্রা ও ডাকটিকেট থেকেও বাংলা অক্ষর বিলুপ্ত করে।

ফলে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ১৯৪৭ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্রদের একটি বিশাল সমাবেশে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদানের আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবি আদায়ে ছাত্ররা ঢাকায় মিছিল এবং সমাবেশ করেন।

পাকিস্তানের কোনো অংশেই উর্দু স্থানীয় ভাষা ছিল না বলে উল্লেখ করেন ভাষাবিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের যদি একটি দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণ করার প্রয়োজন হয়, তবে আমরা উর্দুর কথা বিবেচনা করতে পারি।

সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, উর্দুকে যদি রাষ্ট্রভাষা করা হয় তবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজ ‘নিরক্ষর’ এবং সব সরকারি পদের ক্ষেত্রেই ‘অনুপযুক্ত’ হয়ে পড়বে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার সমর্থনে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। তমদ্দুন মজলিশের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া এ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে এমপি সামসুল হক আহ্বায়ক হয়ে নতুন কমিটি গঠন করেন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে কার্যক্রম জোরদার করেন।

গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষার দাবি: ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি সদস্যদের বাংলায় বক্তৃতা প্রদান এবং সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। বাংলাকে অধিকাংশ জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে উল্লেখ করে ধীরেন্দ্রনাথ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবি তোলেন। খাজা নাজিমুদ্দিন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বক্তৃতা দেন। অনেক বিতর্কের পর সংশোধনীটি ভোটে বাতিল হয়ে যায়।

প্রথম প্রতিক্রিয়া: গণপরিষদের ঘটনার প্রথম প্রতিক্রিয়া শুরু হয় ঢাকায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ ছাত্রদের উদ্যোগে শহরের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ক্লাস বর্জন করে। ২৯ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ঘোষিত হয় এবং পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিবাদ দিবস ও ধর্মঘট পালন করা হয়। সরকারের প্ররোচনায় পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করে এবং অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। তমদ্দুন মজলিস ওই সময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ছাত্র-বুদ্ধিজীবিদের এক সমাবেশ ঘটে। ওই সভায় দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং শামসুল আলম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। সেখান থেকে ছাত্ররা ১১ মার্চ ধর্মঘট আহ্বান করেন।

১১ মার্চ ভোরে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে ছাত্ররা বের হয়ে আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘট পালিত হয়। সকালে ছাত্রদের একটি দল রমনা ডাকঘরে গেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ছাত্রদের আরো একটি দল রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সচিবালয়ের সামনে নবাব আবদুল গণি রোডে পিকেটিংয়ে অংশ নেয়। এ বিক্ষোভ দমনে সরকার সেনাবাহিনী তলব করে। বিকেলে এর প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হলে পুলিশ সভা পণ্ড করে দেয় এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের মধ্যে ছিলেন শামসুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদ, শওকত আলী, কাজী গোলাম মাহবুব, রওশন আলম, রফিকুল আলম প্রমুখ।

খাজা নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে চুক্তি: ১১ তারিখের এ ঘটনার পর ১২ থেকে ১৫ মার্চ ধর্মঘট পালন করা হয়। আন্দোলনের তীব্রতার মুখে ১৫ মার্চ খাজা নাজিমুদ্দিন সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে আবুল কাশেম, কামরুদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আবদুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ অংশগ্রহণ করেছিলেন। আলোচনা সাপেক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে ৮টি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে সরকারের এ নমনীয় আচরণের প্রধান কারণ ছিল ১৯ মার্চ জিন্নাহ্’র ঢাকা আগমন।

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্’র ঢাকা সফর: ১৯ মার্চ ১৯৪৮-এ ঢাকায় পৌঁছান পাকিস্তানের স্থপতি ও গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) এক গণসংবর্ধনায় তিনি ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, অন্য কোনো ভাষা নয়। জিন্নাহ্’র এ মন্তব্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে উপস্থিত ছাত্র-জনতা। ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে তিনি একই ধরনের বক্তব্য রাখেন। প্রতিবাদে উপস্থিত ছাত্ররা সমস্বরে না না বলে চিৎকার করে ওঠে।

একই দিনে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল জিন্নাহ্’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দেয়। কিন্তু জিন্নাহ্ খাজা নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে একপেশে এবং চাপের মুখে সম্পাদিত বলে প্রত্যাখান করেন।

২৮ মার্চ জিন্নাহ্’র ঢাকা ত্যাগের পর ছাত্রলীগ এবং তমদ্দুন মজলিসের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তমদ্দুন মজলিসের আহ্বায়ক শামসুল আলম তার দায়িত্ব মোহাম্মদ তোয়াহার কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে তমদ্দুন মজলিস আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার জন্য কমিউনিস্টদের দায়ী করে একটি বিবৃতি প্রদান করে এবং পরে তারা আস্তে আস্তে আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসে।

লিয়াকত আলি খানের ঢাকা সফর: ১৯৪৮ সালের ২৭ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ছাত্রসভায় ভাষণ দেন। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের তরফ থেকে প্রদত্ত মানপত্রে বাংলা ভাষার দাবি পুনরায় উত্থাপন করা হয়, কিন্তু তিনি কোনোরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। ১৭ নভেম্বর আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের এক সভায় আজিজ আহমদ, আবুল কাশেম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কামরুদ্দীন আহমদ, আবদুল মান্নান, তাজউদ্দিন আহমদ প্রমুখ একটি স্মারকলিপি প্রণয়ন করেন এবং সেটি প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের কাছে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রেও কোনো সাড়া দেননি।

ভাষা সমস্যার প্রস্তাবিত সমাধান: এর কিছুদিন পরই, পূর্ব বাংলা সরকারের পক্ষ থেকে ভাষা সমস্যার ব্যাপারে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে মাওলানা আকরাম খানের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি গঠন করা হয় এবং এই বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়। প্রতিবেদনে তারা বাংলাকে আরবি অক্ষরের মাধ্যমে লেখার সুপারিশ করেছিলেন।

ভাষা আন্দোলনের পুনর্জাগরণ: 
১৯৫২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। নাজিমুদ্দিনের বক্তৃতার প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৯ জানুয়ারি প্রতিবাদ সভা এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালন করে। সেদিন ছাত্রসহ নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমবেত হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তারা তাদের মিছিল নিয়ে বর্ধমান হাউসের (বর্তমান বাংলা একাডেমি) দিকে অগ্রসর হয়।

পরদিন ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে সভায় মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদ গঠিত হয়। সভায় আরবি লিপিতে বাংলা লেখার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করা হয় এবং ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেয়া হয়। পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল, সমাবেশ ও মিছিলের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।

৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে সমবেত হয়। সমাবেশ থেকে আরবি লিপিতে বাংলা লেখার প্রস্তাবের প্রতিবাদ এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় এক মাসের জন্য সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিভিন্ন হলে সভা করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ৯৪ নবাবপুর রোডস্থ আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের সভা হয়। পরিষদের কিছু সদস্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পক্ষে থাকলেও, সবশেষে ১১-৩ ভোটে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে একই বিষয় নিয়ে সভা হয়। সন্ধ্যায় সলিমুল্লাহ হলে ফকির শাহাবুদ্দীনের সভাপতিত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শাহাবুদ্দিন আহমদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে এ সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নেন আবদুল মোমিন এবং শামসুল আলম।

২১ ফেব্রুয়ারির সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকে এবং পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্যদের ভাষা সম্পর্কে জনগণের মতামতকে বিবেচনা করার আহ্বান জানাতে থাকে। পুলিশ অস্ত্র হাতে সভাস্থলের চারদিক ঘিরে রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন এবং উপাচার্য ওই সময় উপস্থিত ছিলেন। বেলা এগারো টার দিকে ছাত্ররা গেটে জড়ো হয়ে প্রতিবন্ধকতা ভেঙে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছাত্রদের সতর্ক করে দেয়। কিছু ছাত্র ওই সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে দৌঁড়ে চলে গেলেও বাকিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পুলিশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। উপাচার্য তখন পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ বন্ধ করতে অনুরোধ জানান এবং ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। ছাত্ররা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় কয়েকজনকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ছাত্ররা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় তাদের বিক্ষোভ শুরু করে।

বেলা ২টার দিকে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে, যখন কিছু ছাত্র সিদ্ধান্ত নেয় তারা আইনসভায় গিয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করবে। ছাত্ররা আইনসভার দিকে রওনা করলে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ এসে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিবর্ষণে আব্দুল জব্বার এবং রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ আরো অনেকে নিহত হন। ওইদিন অহিউল্লাহ নামের একজন কিশোরও নিহত হয়।

ছাত্র হত্যার সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনগণ ঘটনাস্থলে আসার উদ্যোগ নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সব অফিস, দোকানপাট ও পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদের শুরু করা আন্দোলন সঙ্গে সঙ্গে জনমানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়। রেডিও শিল্পীরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শিল্পী ধর্মঘট আহ্বান করে এবং রেডিও স্টেশন পূর্বে ধারণ করা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে থাকে।

ওই সময় গণপরিষদে অধিবেশন শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশের গুলির খবর জানতে পেরে মাওলানা তর্কবাগিশসহ বিরোধী দলীয় বেশ কয়েকজন অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান। গণপরিষদে মনোরঞ্জন ধর, বসন্তকুমার দাস, শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ ছয়জন সদস্য মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে হাসপাতালে আহত ছাত্রদের দেখতে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং অধিবেশন স্থগিত করার কথা বলেন। নুরুল আমিন অনুরোধ না রেখে অধিবেশনে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।

ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে সারাদেশ হয়ে উঠে মিছিল ও বিক্ষোভে উত্তাল। জনগণ ১৪৪ ধারা অমান্য করার পাশাপাশি শোক পালন করতে থাকে। বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থল ত্যাগ করে ছাত্রদের মিছিলে যোগ দেয়। সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শহরের নাগরিক সমাজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস পরিদর্শন করেন। পরে তাদের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টার দিকে ৩০ হাজার লোকের একটি মিছিল কার্জন হলের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। প্রথমে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে তাদের উপর গুলিবর্ষণ করে। ওই ঘটনায় সরকারি হিসেবে ৪ জনের মৃত্যু হয়।

একই দিনে পুলিশ দ্বারা আক্রমণ ও হত্যার বিভিন্ন ঘটনা ঘটে। নবাবপুর রোডের বিশাল জানাজার মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে শহিদ হন ঢাকা হাইকোর্টের কর্মচারী শফিউর রহমান, ওয়াহিদুল্লাহ এবং আবদুল আউয়াল।
২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর সরকার আন্দোলনের বিপক্ষে অপপ্রচার চালাতে থাকে। ২৫ ফেব্রুয়ারি আবুল বরকতের ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করার চেষ্টা করলে, উপযুক্ত কাগজের অভাব দেখিয়ে সরকার মামলাটি গ্রহণ করেনি। রফিকউদ্দিন আহমদের পরিবার একই ধরনের প্রচেষ্টা নিলে, একই কারণে বাতিল হয়। ৮ এপ্রিল সরকার ঘটনার তদন্ত শুরু করে। সরকারের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ প্রত্যাখান করে। ২৭ এপ্রিল বার সেমিনার হলে কেন্দ্রীয় সর্বদলীয় কর্মপরিষদ সেমিনার আহ্বান করে এবং সরকারের কাছে ২১ দফা দাবি উত্থাপন করে। ১৬ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খুললে সেদিন ছাত্ররা সমাবেশ করে। গ্রেফতার করা হয় ভাষা সংগ্রামী আব্দুল মতিনকে।

শহিদ মিনার: ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু করে। কাজ শেষ হয় ২৪ তারিখ ভোরে। মিনারটি তৈরি হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র হোস্টেলের (ব্যারাক) বার নম্বর শেডের পূর্ব প্রান্তে। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জি এস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), নকশা অঙ্কন করেছিলেন বদিউল আলম। তাদের সঙ্গে ছিলেন সাঈদ হায়দার। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে শহিদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায় শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন। উদ্বোধনের দিনই পুলিশ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী শহীদ মিনার ভেঙে ফেলে। এরপর ঢাকা কলেজেও একটি শহিদ মিনার তৈরি করা হয়। এটিও একসময় সরকারের নির্দেশে ভেঙে ফেলা হয়। অবশেষে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়ার পরে ১৯৫৭ সালে সরকারিভাবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কাজ শুরু হয়। ১৯৬৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ বরকতের মা মিনারটি উদ্বোধন করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী এটি ভেঙে দেয়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার এটি পুনরায় নির্মাণ করে।

১৯৫৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি: প্রথম শহিদ দিবস সকালে মেডিকেল হোস্টেল মোড়ে (যেখান থেকে গুলি চলেছিল) শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। কেন্দ্রীয় সর্বদলীয় কর্মপরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি স্মরণে শহিদ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানও দিবসটি পালনে সম্মত হন। ১৯৫৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভাষা আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে সারা দেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ দিবস পালিত হয়। ১৯৫৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছাদে কালো পতাকা উত্তোলনের সময় পুলিশ কযেকজন ছাত্রকে গ্রেফতার করে।

রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি: ১৯৫৪ সালে পূর্ব বঙ্গে এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। গণপরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করে; যেখানে মুসলিম লীগের আসনসংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম।

১৯৫৪ সালের ৭ মে বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেয়া হয়। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হলে ২১৪ নং অনুচ্ছেদে বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উল্লিখিত হয়। সংবিধানের ২১৪(১) অধ্যায়ে রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে লেখা হয়: উর্দু এবং বাংলা হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলেও বস্তুত এর বীজ রোপিত হয়েছিল বহু আগে। অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

১৯৫৬ সালের পর সরকারি ভাষার বিতর্ক শেষ হলেও নানান বৈষম্যের ফলে বাঙালিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের জন্ম নিতে থাকে। এরই প্রভাব হিসেবে আঞ্চলিক স্বার্থসংরক্ষণকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের সমর্থন নিরঙ্কুশভাবে বাড়তে থাকে। এর ফলেই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আরো বড় অধিকার আদায় ও গণতন্ত্রের দাবিতে ছয় দফা আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনই পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আকার ধারণ করে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া

Categories
জাতীয় রাজনীতি

মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে চাঁদাবাজি করা যাবে না: কাদের

সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে চাঁদাবাজির দোকান যেন না খোলা হয় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ।

মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে যৌথ সভা শেষে একথা বলেন তিনি। এসময় পরীক্ষিত নেতাদের দলে জায়গা না দিলে দুঃসময়ে আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মী খুজেঁ পাওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করছে । বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফোনে অনুরোধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যেন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করি । এসময় ব্যাপারটি এখন মির্জা ফখরুল অস্বীকার করলে তা প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

বিদেশ গমনাগমনে সঙ্গে রাখা যাবে ১০ হাজার ডলার ।। songbadprotidinbd.com

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশে যাওয়া-আসায় সঙ্গে ডলার রাখার সর্বোচ্চ অঙ্ক দ্বিগুণ করে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে। এখন থেকে বিদেশ গমনাগমনে ঘোষণা ছাড়াই ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত সঙ্গে রাখা যাবে। যা আগে ছিল পাঁচ হাজার ডলার।

বিদেশ গমনাগমনে সঙ্গে রাখা অর্থের অঙ্ক বাড়িয়ে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৫ হাজার ডলার করা হয়েছিল।

এদিকে বিদেশ গমনাগমনে বছরে ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত নেয়ার সীমা বেঁধে দেয়া রয়েছে।

এখন থেকে একবারে কোনো বাংলাদেশি বিদেশ যাওয়ার সময় কোনো ঘোষণা ছাড়া অনধিক ৫ হাজার মার্কিন ডলার সঙ্গে রাখতে পারবেন এবং বিদেশ থেকে আসার সময়ও একই পরিমাণ ডলার ঘোষণা ছাড়াই বহন করতে পারবেন।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকগুলোর নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি খুব ভালো একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমেরিকায় ১০ হাজার ডলার নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্ত বাংলাদেশ থেকে এতদিন ৫ হাজার ডলার নিয়ে যাওয়া যেত। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী ডলার বৈধভাবে নিয়ে যাবে।

নিয়ম অনুযায়ী, ঘোষণা ছাড়া আনা ডলার অনিবাসী বাংলাদেশিরা ফেরত আসার পর যে কোনো সময় টাকায় ভাঙাতে পারবেন অথবা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমা করতে পারবেন। তবে এই পরিমাণের বেশি ডলার ঘোষণা দিয়ে আনার ৩০ দিনের মধ্যে টাকায় ভাঙাতে হয়।

শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে এফএমজে ফরমে ঘোষণা দিয়ে যে কোনো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে আনার সুযোগ রয়েছে।

Categories
জাতীয়

আইটি আয় পোশাক খাতকে ছাড়িয়ে যাবে: জয় ।। songbadprotidinbd.com

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দেশের তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) ও প্রযুক্তি খাতটি খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় এই খাতের আয় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গার্মেন্টস খাতকে ছাড়িয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিআইসিসি হলে তিন দিনের ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জয় বলেন, আজ অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী আইটি খাতে বাংলাদেশের রফতানি ১শ’ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বাস করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের প্রযুক্তি খাতের রফতানি গার্মেন্টস খাতকে অতিক্রম করবে।

তিনি বলেন, অধিকাংশ আইটি সেবা ইন্টারনেট ভিত্তিক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমেই এ খাতে রফতানি হচ্ছে। তাই প্রকৃতপক্ষে কি পরিমাণ রফতানি হচ্ছে তা জানা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বাস করি যে আইটি খাত থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আনঅফিসিয়ালি অন্তত আরো ১শ’ থেকে ২শ’ কোটি মার্কিন ডলার রফতানি হচ্ছে। কিন্তু তা জানা যাচ্ছে না। তাই আমাদের আইটি সেবা গার্মেন্টস শিল্পের রফতানি আয়কে ছড়িয়ে যাওয়ার পথেই এগোচ্ছে।

জয় আশা প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের দেশেও ৫জি প্রযুক্তি চালু হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান একেএম রহমত উল্লাহ্, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও ঝাং ঝেংজুন এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব নূর-উর রহমান।

Categories
জাতীয়

‘এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথে রয়েছে।

মঙ্গলবার আবুধাবিতে ‘ফিউচার সাসটেইনেবলিটি সামিট’-এ ইন্টারভিউ সেশনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘এমডিজি অর্জনে আমরা চমৎকার সাফল্য অর্জন করেছি এবং ইতোমধ্যে আমরা এসডিজি অর্জনের পথে রয়েছি।’

এসডিজি উন্নয়নে জাতিসংঘে বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের মানুষের জন্য সকল দেশের গৃহীত এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে আমরা বিবেচনা করি।’

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যদি দৃশ্যমান না হয় তাহলে বৈষম্য সৃষ্টি হবে এবং অসমতা দেখা দেবে। এতে প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে।

প্রধানমন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এসডিজির অনেক আগেই আমরা রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ ঘোষণা করেছি। এতে সাসটেইনেবলিটির বিষয়টি আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি উন্নয়নের পথে সবসময় সম্পদের স্বল্পতাই মূল কারণ নয়, সম্পদের সমবণ্টনের সমস্যাও আরেকটি কারণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার প্রান্তিক জনগণকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করেছে। নারী ও শিশু, সাধারণ দরিদ্র মানুষ, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার জন্য এ ক্যাটাগরি করা হয়েছে।

প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষা দিয়ে শুরু করেছি এবং সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল ও ৬৮৫টি মাধ্যমিক স্কুলকে জাতীয়করণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের লেখাপড়া অবৈতনিক করা হয়েছে এবং অটিস্টিকসহ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন সারাদেশে ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ প্রকল্পের আওতায় এক লাখ ৪২ হাজার সমবায় সমিতির মাধ্যমে ৬০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে সংগঠিত করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ পরিবার সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচির আওতায় এসেছে।

রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের খাদ্য, আবাসন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরিসেবা প্রদান করে আসছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যদিও কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী নয়, কিন্তু কার্বন নিঃসরণের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু বসে না থেকে এটি মোকাবেলায় নিজস্ব সম্পদ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি।’

সূত্র: বাসস

Categories
জাতীয়

বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় আ.লীগ নেতারা কোথায় ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় আওয়ামী লীগের নেতারা কোথায় ছিলেন এবং কেন তাদের কেউ এ হত্যার বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালন করতে এগিয়ে আসেননি তার উত্তর এখনও খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার ৪৯তম বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এটা (আওয়ামী লীগ) এত বড় সংগঠন…এত নেতা! তারা কোথায় ছিলেন? মাঝে মাঝে আমি তা জানতে চাই, কেউ সাহস করে এগিয়ে এলো না। সাধারণ মানুষ সব সময় বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিল।’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি অবাক হন যে কেন দেশের কেউ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বিষয়ে জানতে পারল না এবং কেন কেউ এ হত্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিল না।

‘লাশ (ধানমন্ডি) ৩২ নম্বরে পড়ে ছিল, কেন? সেই উত্তর আমি আজও পাইনি,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে রক্ষায় ব্যর্থতার খেসারত জাতিকে পরবর্তী দশকগুলোতে দিতে হয়েছে। ‘কারণ, বারবার ক্যু হয়েছে। জাতির পিতার হত্যার পর এ দেশে ১৮-১৯টি ক্যু হয়েছে…দলের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন হয়েছে।’

‘যদি কেউ সাহস নিয়ে এগিয়ে আসতেন তাহলে হয়তো এসব অত্যাচার ও নির্যাতন হতো না এবং হয়তো দেশে বারবার ক্যু হতো না… বারবার ক্যু দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল,’ বলেন তিনি।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা, হুমায়ুন কবির ও এসএম মান্নান কচি।

Categories
জাতীয় রাজনীতি

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে কোনো আপস নয়: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।সোমবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একাত্তরে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর এ কথা বলেন তিনি।

কাদের বলেন, রাজাকারের উত্তরসূরিদের সাথে কোন আপস নেই। দলে অনুপ্রবেশকারি হিসেবে কেউ থাকলে দলের সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের বের করে দেয়া হবে।

স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর ও তাদের প্রেতাত্মারা আজও বাংলার মাটিতে বিজয়কে সুসংহতকরণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।

এ সময় আরও শ্রদ্ধা জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

এর আগে সোমবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Categories
জাতীয়

সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার বলেছেন, তার সরকার পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য একটি পেশাদার ও সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য কখন, কী প্রয়োজন সে সম্পর্কে আমরা ভালোভাবে জানি এবং আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। এজন্য আমরা একটি পেশাদার ও সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।’

মিরপুর সেনানিবাসে শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) ও সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধ কোর্স (এএফডব্লিউসি) ২০১৯ এর স্নাতক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার গৃহীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে সরকার ‘সশস্ত্র বাহিনী গোল ২০৩০’ প্রণয়ন করে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

‘বিশ্ব ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। সেজন্য পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমাদের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম থাকতে হবে এবং এসবের জন্য সব ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সর্বশেষ সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। যাতে তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহৃত আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জামসমূহের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে ও যেকোনো পরিস্থিতিতে ভূমিকা পালন করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার সময় দেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে অবদানের রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা দেশকে আরও উন্নত করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা আশা করেন, সনদপ্রাপ্ত স্নাতকরা জাতিকে স্থিতিশীলতা, স্বনির্ভরতা ও টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনডিসি কমানড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ।

সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন এবং বিদেশি সামরিক বাহিনীর মোট ৮৫ কর্মকর্তা এনডিসি কোর্স ২০১৯ এবং ৩৮ জন এএফডব্লিউসি-২০১৯ কোর্স সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।

এনডিসি স্নাতকদের মধ্যে চীন, মিশর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া, যুক্তরাজ্য, মালি ও নাইজার থেকে ১৬ জন বিদেশি সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুটি কোর্সের স্নাতক শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশংসাপত্র বিতরণ করেন।

Categories
জাতীয়

মীরজাফররা আর যেন ক্ষমতায় না আসে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ দেশে মোশতাক, জিয়ার মতো মীরজাফররা আর যেন কোনো দিন ক্ষমতায় না আসতে পারে, দেশের উন্নয়ন আর যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।

শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর একটাই স্বপ্ন ছিল। সেটা হলো দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দেশের একজন মানুষও যেন খাদ্যে কষ্ট না পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ওপর কালো মেঘের ছায়া ছিল। সে মেঘ কেটে গেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, হত্যা, খুন, সন্ত্রাস আর লুটপাট করেছে তাদের রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে জিয়া। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা পালিয়েছিল তাদের ধরে এনে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছে।

‘এ দেশে মোস্তাক, জিয়ার মতো মীরজাফররা আর যেন কোনওদিন ক্ষমতায় না আসতে পারে, দেশের উন্নয়ন আর যেন বাধাগ্রস্ত না হয়’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তো আরও এক ধাপ এগিয়ে যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের মন্ত্রী বানিয়েছে। তাদের গাড়িতে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে। ভোট চুরি করে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদকে বিরোধী দলের নেতা বানিয়েছে।

তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ ২৪ বছরের পাকিস্তানি বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে দেশের আপামর জনসাধারণকে সংগঠিত করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় জামায়াতসহ ধর্মান্ধ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তারা আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে পাক বাহিনীকে সহায়তার পাশাপাশি হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুট করে।

‘বাঙালি জাতির বিজয়ের প্রাক্কালে তারা দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, প্রকৌশলীসহ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে।’

Categories
জাতীয়

ফোর্বসের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা

বিশ্বের প্রভাবশালী ১শ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস ম্যাগজিন। এই তালিকার শীর্ষ একশ নারীর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। তালিকার ২৯তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফোর্বসের তালিকায় প্রভাবশালী শীর্ষ ১০ নারীর তালিকায় আছেন অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ক্রিস্টিনে লেগারদে, নেন্সি পেলোসি, আরসুলা ভন দের লেয়েন, মেরি বারা, মেলিন্ডা গেটস, আবিগেইল জনসন, আনা পেট্রিসিয়া বোটিন, গিনি রোমেটি এবং মেরিলিন হিউসন। ২০১৮ সালে ফোর্বসের প্রভাবশালী ১শ নারীর তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল ২৬তম।

বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘকালীন সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি চতুর্থবারের মতো জয়ী হয়ে টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত নির্বাচনে তার দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংসদের ৩শ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতেই জয় লাভ করে।

বিশ্বের সেরা ১০০ ক্ষমতাশালী মহিলার তালিকায় ৪০ নম্বরে রয়েছেন ইংল্যান্ডের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাংকা ট্রাম্প রয়েছেন ৪২ নম্বর স্থানে। এদের পেছনে ফেলে ৩৪ নম্বরে স্থান পেয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। যদিও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য ক্রমাগত বিরোধীদের সমালোচনায় বিদ্ধ তিনি। বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে তাঁর ব্যর্থতা সোশ্যাল মিডিয়াতেও সমালোচনার শিকার হয়েছে।

ফোর্বসের সেরা ১০০ ক্ষমতাশালী মহিলার তালিকায় রয়েছেন আরও দুই ভারতীয়, ৫৪ নম্বরে রোশনি নাদার মালহোত্রা এবং ৬৫ নম্বরে কিরণ মজুমদার শাহ।