চারদিকে পানি, ঘরের চালেই জীবন-সংসার

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২০

চারদিকে শুধু পানি। ডুবে গেল সব বাড়িঘর। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই এখানকার মানুষের। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের চালে খোলা আকাশের নিচেই শিশু সন্তান নিয়ে থাকতে হচ্ছে। এভাবেই চলছে তাদের জীবন-সংসার। এরইমধ্যে অনেকের ঘরের খাবারও ফুরিয়ে গেছে। আবার অনেকে এক বেলা রান্না করেই খাচ্ছেন দুই বেলা। এমনই দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায়।

উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে ওই উপজেলার যমুনাসহ সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলার ১৩ ইউপির নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

দ্বিতীয় দফা বন্যায় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রূপপুর নতুনপাড়ার চর ও নিচু এলাকার প্রায় দুই শতাধিক তাঁত শ্রমিকের বাড়িঘর ডুবে গেছে। অনেকের তাঁত কারখানা ডুবে যাওয়ায় কাপড় বোনাও বন্ধ রয়েছে। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। শিশু সন্তান নিয়ে ঘরে মাচা কিংবা চৌকি উঁচু করে বন্যার পানিতেই থাকতে হচ্ছে তাদের।

বানভাসিদের অভিযোগ, তারা উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা কার্যালয় থেকে মাত্র কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে থাকছেন। অথচ গত ১৫ দিন ধরে তারা বন্যার পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণসামগ্রী দেয়া দূরের কথা কেউ তাদের খোঁজও নেয়নি।

শাহজাদপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বন্যাদুর্গতদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। অচিরেই তাদের ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার পিআইও আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলার বন্যাদুর্গত ৭৯০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ কেজি চাল, দুই কেজি চিড়া, এক কেজি চিনি, এক কেজি ডাল, তিন প্যাকেট নুডলস ও এক লিটার তেল রয়েছে।

এদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পাট, তিল, কাউন ও সবজি ফসল। ফলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বন্যার কারণে কাঁচা ঘাসের মাঠ ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন।