চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ত্রিপুরা-আসামে পণ্য পরিবহন শুরু

প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২০

চুক্তি অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে আসাম ও ত্রিপুরায় পণ্য পৌঁছে দিতে কলকাতার বন্দর থেকে একটি জাহাজ রওনা হয়েছে। আগামী সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে জাহাজটি।

বৃহস্পতিবার দুই দেশের উপকূলীয় চুক্তির অধীনে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ।

পরীক্ষামূলকভাবে পণ্য পরিবহনের এ জাহাজে মাত্র ৪টি কন্টেইনার রয়েছে ত্রিপুরা ও আসামের জন্য। এর মধ্যে দুটি কন্টেইনারে রয়েছে রড এবং অন্য দুটিতে রয়েছে ডাল। এ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি ট্রাকে করে আসাম ও ত্রিপুরায় পণ্য পৌঁছানো হবে।

আগামী দিনে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চাল, গম, ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আরো বেশি পরিমাণে পাঠানো হবে।

এ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য। তিনি বলেন, এ যাত্রাপথের সূচনার মধ্যে দিয়ে উভয় দেশের মধ্যে এক নতুন সুযোগের দরজা খুলে গেল। এটি বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলে সংযোগ স্থাপনের বিকল্প রাস্তা। এতে সময়ও কম লাগবে।

ভারতের হাইকমিশনার ও বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত বাংলাদেশ ট্রান্সশিপমেন্ট এর চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো এ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এরপর, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কাভার্ড ভ্যানে করে চারটি কনটেইনার আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর হয়ে প্রবেশ করবে ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্যে।

ভারতীয় হাইকমিশন ও বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির সূত্রে জানা গেছে, এ চারটি কনটেইনারের মধ্যে দুই কনটেইনার রড ত্রিপুরার জিরানিয়ার এস এম কর্পোরেশনের। বাকি দুই কনটেইনার ডাল যাবে আসামের জেইন প্রতিষ্ঠানের কাছে।

এ চালানের মাধ্যমেই বাংলাদেশের বন্দর ও সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে পরিবহনের প্রথম পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করলো।

‘এমভি সেঁজুতি’ জাহাজের এজেন্ট ম্যাঙ্গো লাইন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইয়াকুব সুজন ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা বন্দর থেকে ভারতের আরেক বন্দর হলদিয়া বন্দরে যাবে এ জাহাজটি। সেখান থেকে কিছু কনটেইনার নিয়ে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে রওনা দেবে।

জাহাজটিতে ১০৮টি কনটেইনারের মধ্যে বাংলাদশি ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে ১০৪টি। বাকি চার কনটেইনার সড়ক পথে ভারতে যাবে। বিস্তারিত কাগজপত্র আমাদের হাতে এলেই জাহাজটি বাংলাদেশের বন্দরে ভেড়ানোর জন্য কাস্টমসের কাছে অনুমতি চাইবো।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, এখন বন্দরের কোন জাহাজ জট নেই। ফলে জাহাজটি আসা মাত্রই বার্থিং কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। দেশের অন্যান্য আমাদানিকারকদের মতোই নির্ধারিত হারে মাশুল আদায় করে জাহাজটিকে ছাড়পত্র দেয়া হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্য ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাত ধরনের মাশুল আদায় করবে। এই সাতটি হলো প্রতি চালানের প্রসেসিং ফি ৩০ টাকা, প্রতি টনের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ৩০ টাকা, নিরাপত্তা মাশুল ১০০ টাকা, এসকর্ট মাশুল ৫০ টাকা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক মাশুল ১০০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি কনটেইনার স্ক্যানিং ফি ২৫৪ টাকা এবং বিধি অনুযায়ী ইলেকট্রিক সিল ও লক মাশুল প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবরে দিল্লিতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনে দুই দেশের চুক্তি হয়।