সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে দিয়েছে, দাবি ফখরুলের

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

সরকার দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার বিকালে উত্তরার বাসা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সিলেটে সাউথ সুরমা ন্যাশনালিস্ট ফোরামের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা আছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটা আছে। বাংলাদেশের দূর্ভাগ্য এই সরকার দুর্নীতি করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে একেবারে ভেঙে দিয়েছেন, ভঙ্গুর করে দিয়েছেন। এখানে মানুষ কোনো স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না।

সিলেট সাউথ সুরমা ন্যাশনালিস্ট ফোরামের উদ্যোগে করোনা সংক্রামণে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও স্বাস্থ্য্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। মির্জা ফখরুল প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার পর ভার্চুয়ালে এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সিলেটের সাবেক সভাপতি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব। সাউথ ন্যাশনালিস্ট ফোরামের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব কামাল হাসান জুয়েলের পরিচালনায় ভার্চুয়াল আলোচনায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হাসান জীবন, সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, সিলেটের সিটি মেয়র বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ এবং লন্ডন থেকে যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি এম এ মালেক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

হাসপাতালগুলোর চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতালে গেলে অক্সিজেনের অভাব, ভেন্টিলেটর বাদই দেন। আপনার এমনিতেই লোকে অক্সিজেন পাচ্ছেন না। সাড়ে তিন হাজার টাকার অক্সিজেন এখন ৩৬ হাজার, ৩৮ হাজার টাকা দাম হয়ে গেছে। গালপস বলুনমাস্ক বলুন, স্যানিটাইজার বলুন, সুরক্ষার সামগ্রি বলুন প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রকৃতপক্ষে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই, তারা ব্যর্থ হয়ে গেছে এই কাজে।

তিনি বলেন, খুব কঠিন ছিলো না এটাকে (করোনাভাইরাস) নিয়ন্ত্রণ করা। আপনারা দেখেছেন ভিয়েতনামে নিয়ন্ত্রণ করেছে, কিউবাতে নিয়ন্ত্রণ করেছে, চীনে এতোবড় আক্রমনের পরে তারাও নিয়ন্ত্রণ করেছে, নিউজিল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেছে। অর্থাৎ সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে, তার যদি কাজ করার মতো সত্যিকার অর্থেই একটা ভালো ইচ্ছা থাকে তাহলে সে জনগণকে উদ্ধব্ধ করে সেখানে অবশ্যই যেমন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পড়া ইত্যাদি কাজ গুলো করা প্রয়োজন সেই কাজগুলো করা খুব কঠিন ছিলো না। আমি মনে করি আমাদের এখানে যে ভুলগুলো হয়েছে সেই ভুলগুলো সরকার তাদের সম্পূর্ণ অজ্ঞতা, অদক্ষতা, অযোগ্যতার কারণে আজকে কোভিড সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বারবার ভুল সিদ্ধান্তের ফলে, একবার ঢাকা থেকে চলে যাওয়া আবার ঢাকায় নিয়ে আসা, আবার ঢাকায় কিছু কিছু অঞ্চল লকডাউন করা। এখন আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি যে, কোরবানীর ঈদ আসবে, এই ঈদের আবার কী. কীভাবে ব্যাপক সামাজিক সংক্রামণ হবে।

তিনি বলেন, আমরা দেখছি যে, সিলেটে গত কয়েকদিনের সংক্রামণ প্রচণ্ডভাবে বেড়েছে। ইট হ্যাজ বি কাম এ হটস্পট নাউ। আমি সিলেটের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ জানাবো, সরকার কি করছে না করছে- এটা দেখার দরকার নেই। তারা যা করছে তারা করুক। আপনারা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এই উদ্যোগগুলোকে সফল করার জন্য আপনারা সবাই নিয়ে এগিয়ে আসার চেষ্টা করুন। আজকে যে উদ্যোগটা আপনারা নিয়েছেন এটা একটা মহত উদ্যোগ। এটাকে নিয়ে কাজ করুন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, একদিকে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের ওপর অত্যাচার করছে, নির্যাতন করছে। আমাদেরকে কাজ করতে দেয় না। আমাদের অসংখ্য মামলা দিয়েছে নেতাকর্মী বিরুদ্ধে, আমাদের নেতাকর্মীদের গুম করে, হত্যা করে। সিলেটের ইলিয়াস আলীকে গুম করে দিয়েছে কোনো হদিস নেই আজ পর্যন্ত। তারপরও বিএনপি কিন্তু মাথানত করে বসে যায়নি। লড়াই করছে, সংগ্রাম করছে। আমি বিশ্বাস করি যে, বিএনপি উঠে দাঁড়াবে সেই ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়াবে এবং জয়ী হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি আসবেন সামনে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে আসবেন, এসে গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠা করবো এবং সব ধরনের সংকটকে মোকাবিলা করে আমরা জয়ী হবো-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।