সঠিক সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে, সামাজিক জীবনে নানা দুর্ঘটনার শিকার আমরা প্রায়শই হয়ে থাকি। তেমনি একটি দুর্ঘটনার নাম প্রশ্ন ফাঁস। ভর্তিপরীক্ষা থেকে শুরু করে পাবলিক পরীক্ষা কি চাকরির পরীক্ষা – কোনোটাই এ দুর্ঘটনার বাইরে নেই। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি এর কিছু বাই প্রোডাক্ট আমাদের জীবনকে বিষিয়েও তোলে। যেমনটা ঘটেছে গত ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে।

 

এরপর নতুন করে ওই পরীক্ষা নেয়ার জন্য আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। আমাদের জেনে ভালো লাগছে যে, শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার তারা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন যে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের আবারো পরীক্ষা নেয়া হবে। উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেছেন, গত ১২ অক্টোবর নেয়া ভর্তি পরীক্ষায় যে ১৮,৪৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল, কেবল তাদের নিয়েই নতুন করে পরীক্ষাটি হবে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে আমরা একটি সঠিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি এবং অভিনন্দন জানাই।

 

এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে শুধু সত্যিকার মেধাবীদের মূল্যায়ন হবে তা-ই নয়, প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন ফাঁসকারী এবং সেই প্রশ্ন ব্যবহারকারীরাও একটি বার্তা পেয়ে যাবে যে, প্রশ্ন ফাঁস করে খুব-একটা লাভ হবে না আর ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েও বেশি দূর যাওয়া যাবে না। ধরা পড়তেই হবে। দুষ্কৃতকারীদের এ বার্তাটা দেয়া খুবই জরুরি ছিল।

 

এ ইস্যুতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, বিশেষ করে দেশের বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ভূমিকার প্রশংসা করতেই হয়। তারা আগাগোড়াই এ আন্দোলনে ছিল। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিন মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী মৌন পদযাত্রা করে উপাচার্য কার্যালয়ে যায় এবং স্মারকলিপি দেয়। তাদের এ ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আবারও সাধুবাদ জানাই এবং বলতে চাই, এবারের পরীক্ষাটি যেন শতভাগ নিশ্ছিদ্র হয়, কোনো রন্ধ্রপথে যেন দুর্নীতির কালসাপ এখানে তার বিষাক্ত ছোবল মারতে না-পারে, সে-ব্যাপারে সম্ভবপর সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হোক।