করোনায় অতিদরিদ্রে পরিণত হবে ১১০ কোটির বেশি মানুষ

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

গবেষণাটি করেছে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকস রিসার্চ বা ইউএনইউ-ওয়াইডার। যেখানে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত নানা মাত্রার দারিদ্র্য সীমারেখা মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

করোনাভাইরাস সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার চাপে সাড়ে ৩৯ কোটি মানুষ অতিদারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে চলেছে। দৈনিক ১ দশমিক ৯০ মার্কিন ডলারের কম আয়ের মানুষকে অতিদরিদ্র হিসাবে চিহ্নিত করে বিশ্বব্যাংক। চলমান বিশ্ব মহামারিতে এদের সংখ্যা ১১০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আজ শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়।

গবেষণাটি করেছে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকস রিসার্চ বা ইউএনইউ-ওয়াইডার। যেখানে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত নানা মাত্রার দারিদ্র্য সীমারেখা মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয়। দৈনিক আয় ৫ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার সমমানের হলে তা দারিদ্র সীমার উচ্চস্তর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে করোনার ফলে সৃষ্ট মন্দায় বেশ কয়েকটি সঙ্কটকালীন মুহূর্তের অনুমান করা হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাথাপিছু আয় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ফলে চরম দারিদ্র্যে নিপতিত হবেন ১১২ কোটি মানুষ। খবর এনডিটিভির।

একই দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে, উচ্চ থেকে মধ্য আয়ের দেশগুলোতে দৈনিক সাড়ে পাঁচ মার্কিন ডলার আয়কারীদের উপার্জন সংকুচিত হলে তাতে দারিদ্র সীমার নিচে চলে যাবে প্রায় ৩৭০ কোটি মানুষ। যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।

গবেষণা প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক অ্যান্ডি সামার জানান, ‘বিশ্বের দরিদ্রদের জন্য এমন পূর্বাভাস খুবই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নির্দেশ করে। সকল দেশের সরকার আরও দ্রুতগতিতে এবং ব্যাপক আকারে আয় কমে আসা দরিদ্রদের পাশে এসে না দাঁড়ালে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনে অর্জিত সফলতা আবারও দুই থেকে তিন দশক পিছিয়ে যেতে পারে। এর ফলে জাতিসংঘের দারিদ্র্য নির্মূলের পরিকল্পনা অবাস্তব স্বপ্নে পরিণত হবে।’