আজ ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

ভয়ঙ্কর ‘ছোট ভাইয়্যা গ্রুপ’

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: ‘অপরাধের যেমন ধরন আছে অপরাধীদেরও তেমনি প্রকার আছে। কাইল্যা গ্রুপ, ৭ স্টার গ্রুপ, বস গ্রুপ, বড় ভাই গ্রুপ এরকম কত গ্রুপের নামই আমরা পূর্বে শুনেছি। আমাদের রূপগঞ্জে এবারই প্রথম শুনলাম ছোট ভাইয়্যা গ্রুপ নামে একটি ভয়ঙ্কর অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে’- কথাগুলো বলছিলেন রূপগঞ্জের ভুলতা ইউনিয়নের পাচাইখা এলাকার ওবায়দুল মিয়া।

রূপগঞ্জে ‘ছোট ভাইয়্যা গ্রুপ’ নামে একটি অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্রুপটির সদস্যরা ভূলতা ও গোলাকান্দাইল মার্কেট এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত।

চুরি, ছিনতাই ডাকাতিসহ অপহরণের ঘটনার সাথে তারা জড়িত। জানা যায়, এই গ্রুপটি ব্যবসায়ী মার্কেটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা, সাধারণ পথচারীসহ নিরীহ লোকদের টার্গেট করে আটকে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে।

সূত্র মতে, রূপগঞ্জের উল্লেখিত এলাকায় এদের প্রভাব গত কয়েক মাসে চরম আকার ধারণ করেছে। এলাকাবাসীর ধারণা এ অপরাধের সাথে জড়িত আছে স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনের লোকজন। এই ভাইয়্যা গ্রুপের আতঙ্কে ক্রেতারা মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা করতে আসছেনা।

জানা যায়, ছোট ভাইয়্যা গ্রুপের সদস্য সংখ্যায় প্রায় ৫০জন। এরা গ্রুপে ৫/৬ জন করে চলাফেরা করে।

বৃহত্তর পাইকারি গাউছিয়া মার্কেটে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, ছোট ভাইয়্যা গ্রুপের সদেস্যরা অনেক ভয়ঙ্কর। বেশিরভাগ সদস্যই টিনেজার। দেখে বোঝার উপায় নেই এরা ভয়ঙ্কর ভাইয়্যা গ্রুপের সদেস্য। এই গ্রুপের সদস্যরা স্কুল কলেজগামী মেয়েদেরসহ মার্কেটে আগত নারীদের বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে। অভিযোগ রয়েছে এরা অনেক সময় জোড়পূর্বক নারীদের উঠিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ করে।

ব্যবসায়ীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে প্রায়শই। যানজটে পড়ে থাকা গাড়ির যাত্রীদের কাছ থেকেও লুটে নেয় মোবাইল, টাকাসহ মালামাল। গাড়ি ছিনতাইয়ের সাথেও এদের একটি চক্র জড়িত। এই অপহরণকারী গ্রুপের পাতা জালে আটকা পড়ছে ব্যবসায়ী, পথচারী, মিল কারখানার শ্রমিক, গার্মেন্টসকর্মীসহ স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা।

এরা সকলের সামনেই বিভিন্ন অভিযোগ (পাওনা টাকা, মেয়ে নিয়ে আসা, ছোট ভাইকে মারধর করছে) দেখিয়ে ধরে নির্জন এলাকায় নিয়ে কাছে থাকা টাকা-পয়সা কেঁড়ে নিয়ে মারধর করে মোবাইলে পরিবারের কাছ থেকে মিথ্যা অপবাধ দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছোট ভাই গ্রুপের সদস্যরা কোনো অপরিচিত লোক দেখার পর তাকে র্টাগেট করে এবং তাকে বিভিন্ন কৌশলে অপহরণ করে নিচ্ছে বলে অনেক অভিযোগ রয়েছে।

ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুল আলম জানান, এ ধরণের একটি গ্রুপের কথা শুনেছি। অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চলছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবেনা।

Comments are closed.

      আরও নিউজ