আজ ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

সিরিয়ায় সামরিক অভিযান বন্ধ করেছে তুরস্ক

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক। দীর্ঘ প্রায় ১০ দিন অভিযান শেষে এই ঘোষণা দিয়েছে আঙ্কারা।

বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট মাইক পম্পেও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে আঙ্কারায় এক বৈঠক করেন। বৈঠকে সিরিয়ায় অভিযানের ব্যাপারে একটি চুক্তিতে আসে দুই পক্ষ। মূলত ওই বৈঠকের পরই সিরিয়ায় চলমান অভিযান পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেয় তুরস্ক।

এ সম্পর্কে মর্কিন ভাসস প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধ বিরতির ফলে কুর্দিদের নেতৃত্বাধীন সেনারা তুস্কের দাবি মোতাবেন সীমান্তের ‘সেফ জোনে’ সরে যেতে পারবে। তবে কুর্দি বিদ্যোহীদের সংগঠন ওয়াইপিজে এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে সিরিয়ায় অভিযান বন্ধের জন্য এরদোগানকে আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এরদোগান তাতে সাড়া দেননি। এ কারণে এরদোগানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে মাইক পেন্স ও মাইক পম্পেও তুরস্কে আসেন। শুরুতে এ দুজনও ব্যর্থ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছিল রয়টার্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুরস্ক তাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।

এদিকে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সেনা অভিযানের ঘটনায় দেশটির দুইজন মন্ত্রী এবং তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া গত সোমবার দ্রুত যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানিয়ে সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে টেলিফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্পের অনুরোধ অগ্রাহ্য করে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা ওয়াইপিজি’র গেরিলাদের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিয়েছি তা বন্ধ করবো না, যে যাই বলুক অভিযান চলবে।…আমরা ডান-বাম সব জায়গা থেকেই হুমকি পাচ্ছি। কিন্তু কোন হুমকির কাছে মাথা নত করব না।’

এরপরই তুর্কি প্রেসিডেন্ট কড়া ভাষায় চিঠি লেখেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি এরদোয়ানকে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। আর যুদ্ধ বন্ধ না হলে চরম পরিণতির জন্য তৈরি থাকার বিষয়েও সতর্ক করে দিয়ে বলেন,‘কঠোর হবেন না। গর্দভের মতো আচরণ করবেন না। ’

প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সকে (এসডিএফ) লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তুর্কি সেনারা। ওই অঞ্চল থেকে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে এসডিএফ। কিন্তু তুরস্ক উল্টো এসডিএফকে জঙ্গি সংগঠন বলে মনে করে। সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ‘নিরাপদ এলাকা’গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে সেখানে তুরস্কে অবস্থান নেওয়া সিরিয়ার শরণার্থীদের বড় একটি অংশকে পুনর্বাসনের কথা বলছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও রাস আল আইন এলাকায় লড়াই অব্যাহত আছে। সংগঠনটি আরো জানায়, গত কয়েকদিনের লড়াইয়ে ৭২ জন বেসামরিক নিহত এবং ৩ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

Comments are closed.

      আরও নিউজ