আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

আফগানদেরদের কাছে লজ্জার হার বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্কঃ চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যর্থতার পর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানদেরদের কাছে লজ্জার পরাজয় বাংলাদেশের। রোববার মিরপুরে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২৫ রানে হেরেছে সাকিব-মুশফিকরা। জয়ের জন্য ১৬৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১৯.৪ ওভারে ১৩৯ রানে।

এদিন ওপেনিংয়ে নামেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মুজিব উর রহমানের বলে বিদায় নেন লিটন (০)। এবার ব্যক্তিগত ৫ রান করে ফরিদ আহমেদের বলে বোল্ড হন প্রথমবার ওপেনিংয়ে নামা মুশফিকুর রহিম। 

দলীয় ১১ রানে বাংলাদেশ দুই ওপেনারকে হারায়। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মুজিব ফিরিয়ে দেন ১৩ বলে দুই চারের সাহায্যে ১৫ রান করা সাকিবকে। দলীয় ৩১ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। একই ওভারে মুজিব ফিরিয়ে দেন সৌম্য সরকারকে। নিজের প্রথম বলেই এলবির ফাঁদে পড়েন সৌম্য। 

৫ ওভারে টপঅর্ডারের ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাব্বিরের জুটিতে স্বপ্ন দেখতে থাকে টাইগার ভক্তরা। দলের বিপদে দারুণ ব্যাটিং উপহার দিয়ে নিজের ভুলেই বিদায় নেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ। 

১৩.৩ ওভারে দলীয় ৯০ রানের মাথায় নবীর বলে ব্যক্তিগত ৪৪ রান করে বিদায় নেন। ৩৯ বলে ৫ বাউন্ডারিতে এ রান করেন তিনি। পরের ওভারেই সাব্বির ২৭ বলে মাত্র ২৪ রান করে নুজিবের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ১৪.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ফের ব্যাটিং বিপর্য।

সেই মহুর্তে উইকেটে আসেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় এনে দেয়া আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন। দলের বিপদে আজ জ্বলে উঠতে পারেনি আফিফ। ১৪ বলে ব্যক্তিগত ১৬ রান করে নাবীর বলে নাজিবুল্লাহ হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দলীয় ১২০ রানের মাথায় ১৮.১ ওভারে মাত্র ২ রান করে বিদায় নেন সাইফুদ্দিন। রশিদের ঐ ওভারেই মাত্র ১২ রান করে সরাসরি বোল্ড মোসাদ্দেক। শেষ মহুর্তে মুস্তাফিজুর রহমান ৬ বলে দুই বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১৫ রান করে বিদায় নেন। 

আফগানদের হয়ে অসাধারণ বোলিং করেন মুবিজ উর রহমান। ৪ ওভারে ১৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন এই স্পিনার। এছাড়া গুলবাদিন, রশিদ ও ফারিদ দুটি করে উইকেট নেন।

এর আগে মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৪ তোলে আফগানরা। অবশ্য বল হাতে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট শিকার করেন সাইফুদ্দিন। প্রথম বলেই আগের ম্যাচে অভিষিক্ত রহমানুল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করেন সাইফুদ্দিন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ১০ রানের মাথায় সাকিব ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাইকে।

লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি করেন ১ রান। সাকিব নিজের প্রথম ওভারে মেডেন উইকেট তুলে নেন। তৃতীয় ওভারে সাইফুদ্দিনের করা পঞ্চম বলে নাজিব তারাকাইয়ের বিশাল ছক্কা। কিন্তু পরের বলেই আফগান টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিলেন এই পেসার। ব্যক্তিগত ১১ রান করে সাব্বিরের তালুবন্দি হন তিনি। দলীয় ১৯ রানে তিন উইকেট হারায় আফগানরা। 

এরপর দলীয় ৪০ রানে সাকিবের বলে ব্যক্তিগত ৫ রান করে সৌম্যর তালুবন্দি হন নাজিবুল্লাহ জাদরান। শুরুতেই উইকেট দ্রত চার উইকেট হারিয়ে আজগর আফগান ও মোহাম্মদ নবী আফগানদের এগিয়ে নেন। অবশ্য ব্যক্তিগত ৩১ রানে তাইজুলের বলে ক্যাচ দিয়েও জীবন পান আজগর আফগান। তাইজুলের নো বলে জীবন পান তিনি। 

ইনিংসের ১৭তম ও নিজের ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারের বোলিংয়ে এসে সাইফুদ্দিনের জোড়া আঘাত। ওভারের দ্বিতীয় বলে আজগর আফগান ব্যক্তিগত ৪০ রান করে সাইফুদ্দিন বলে সাব্বিরের তালুবন্দি হন। একই ওভারের পঞ্চম বলে গুলবাদিন নাইবকে শুন্য রানে বোল্ড করেন এই পেসার। আফগানদের দলীয় রান তখন ৬ উইকেটে ১২১।

কিন্তু এরপরও নবীল ঝড় থামাতে পারেনি স্বাগতিকরা। অষ্টম উইকেট জুটিতে করিম জানাতকে সাথে নিয়ে ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই আফগান অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে তিন বাউন্ডারি ও সাত ছক্কায় অপরাজিত ৮৪ রান করেন তিনি। করিম ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সফল হয়েছেন পেসার সাইফুদ্দিন। ড৪ ওভারে ৩৩ রানে শিকার করেন চার উইকেট। এছাড়া সাকিব ৪ ওভারে ১৮ রানে নেন দুটি। মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ২৫ রানে উইকেট শুন্য।

Leave a Reply

      আরও নিউজ

ফেসবুক পেইজ