Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ব্রেকিং নিউজ / ‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি – Songbad Protidin BD

‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি – Songbad Protidin BD

  • ১৬-০৭-২০১৭
  • image-90153-1500212494সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ  জন্মগতভাবে বিরল ‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত সাতীরার ১১ বছরের শিশু মুক্তামনি। রোববার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন এই তথ্য। মেয়েটি বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যতদিন পর্যন্ত মুক্তামনি সুস্থ না হয় ততদিন তাকে সরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে; সুস্থ করেই মুক্তামনিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিরল রোগী মুক্তামনির চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, মুক্তামনি বিরল ‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত বলেই আমাদের বদ্ধমূল ধারণা। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করা হয়েছিলÑ ডারমাল ভাসকুলার ম্যালফরমেশন, লিমফেটিক ম্যালফরমেশন, নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস, কনজেনিটাল হাইপারক্যারাটোসিস-এই চার চর্মরোগের মধ্যে একটিতে আক্রান্ত মুক্তা। অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে ওই ৪ রোগে মধ্যে লিমফেটিক ম্যালফরমেশন রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি। এটি একটি জন্মগত রোগ (কনজিনেটাল ডিজিস)। এই রোগের বিশেষত্ব হচ্ছে জন্মের পরপরই কারও ক্ষেত্রে এটি প্রকাশ পায়। কারও কারও ক্ষেত্রে লাগে কয়েক বছর। মুক্তামনিরটা প্রকাশ পেয়েছে তার জন্মের দেড় বছর পর।

    মুক্তামনির চিকিৎসা পদ্ধতির বিষয়ে তিনি জানান, শিশুটিকে ইতোমধ্যে দুই ব্যাগ রক্ত এবং এক ব্যাগ প্লাজমা দেওয়া হয়েছে। তাকে হাসপাতাল থেকে ডাবল ডায়েট দেওয়া হচ্ছে। গত তিনদিনে মুক্তার রক্তের অনেকগুলো পরীা এবং ইউরিন টেস্ট করা হয়েছে। এছাড়াও তার সিটিস্ক্যন, এমআরআই, ডুপেক্স ও আলট্রাসোনোগ্রাফি পরিক্ষা করা হয়েছে। রক্ত ও ইউরিনের রিপোর্ট হাতে পেলেও বাকিগুলো সোমবার পাওয়া যেতে পারে। যে রিপোর্টগুলো মিলেছে, সেগুলো পজেটিভ। বাকি রিপোর্টগুলো পেলে তার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসায় পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ডা. সামন্ত লাল আরও জানান, মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের আট সদস্য তাদের অভিমত দিয়েছেন। এর বাইরেও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কবীর চৌধুরী এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জন সহযোগী অধ্যাপক জিএম মকবুল হোসেন তাকে দেখেছেন। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব অভিমত দিয়েছেন। তবে টিস্যু পরীা ও বায়োপসি না করে কিছু কনফার্ম করা যাচ্ছে না। মেডিক্যাল বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তার চিকিৎসা পরিকল্পনা চলছে। সব রিপোর্ট হাতে পেলে সবার সম্বনয়ে পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    মুক্তামনির সুস্থতায় কতদিন লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে মুক্তামনির চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হবে। এখানে মূল দায়িত্ব প্লাস্টিক সার্জারির। এর সঙ্গে অর্থোপেডিক, মেডিসিন, ভাসকুলার সার্জারি টিম এরা সবাই জড়িত থাকবে। তার চিকিৎসা একধাপে করা হবে না। ধাপে ধাপে সার্জারির মাধ্যমে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যাবে।

    মুক্তামনির বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পেলে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে গত ১০ জুলাই সাতীরা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাড়িতে গিয়ে মুক্তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য ৮ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।

    (Visited 15 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *