Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ব্রেকিং নিউজ / বন্ধ হয়ে গেল আরও তিন লাখ বিও হিসাব – Songbad Protidin BD

বন্ধ হয়ে গেল আরও তিন লাখ বিও হিসাব – Songbad Protidin BD

  • ০৪-০৮-২০১৭
  • b71b37e061d8d49bc0dfd2dbcf3467bb-Graphসংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  বন্ধ হয়ে গেছে শেয়ারবাজারের প্রায় ৩ লাখ বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক নবায়ন ফি না দেওয়ায় বিও হিসাব সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এসব হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে প্রায় ৩ লাখ বিও হিসাবধারীর সঙ্গে শেয়ারবাজারের সম্পর্কের অবসান ঘটেছে। প্রতিবছর নবায়ন মাশুল পরিশোধ না করায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিও হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়।
    সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন শেয়ারবাজারে সক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৯ লাখ ২৮ হাজার। গতকাল ৩ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬০টিতে। সেই হিসাবে প্রায় এক মাসের ব্যবধানে ২ লাখ ৮১ হাজার ৫৪০টি বিও হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও গত ১ জুন বাজেট ঘোষণার আগে থেকে শেয়ারবাজারের লেনদেন ও সূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল।

    নিয়ম অনুযায়ী, বিও হিসাব সক্রিয় রাখতে ৪৫০ টাকা বার্ষিক নবায়ন মাশুল দিতে হয়। সাধারণত ৩০ জুনের মধ্যে এ টাকা পরিশোধ করতে হয় বিও হিসাবধারীদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাশুল পরিশোধ করা না হলে জুলাই মাস থেকে ক্রমান্বয়ে হিসাবগুলো বন্ধ করা হয়। এ বছরও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় গত বছরও প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার বিও হিসাব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

    সিডিবিএলের ওয়েবসাইটের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ জুন শেয়ারবাজারে ৩১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১টি সক্রিয় বা সচল বিও হিসাব ছিল। প্রায় ১৩ মাসের ব্যবধানে তা ৫ লাখেরও বেশি কমে গতকাল প্রায় ২৬ লাখ ৪৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের জুনেও শেয়ারবাজারে ৩২ লাখের বেশি সচল বিও হিসাব ছিল। চলতি বছর এসে তা ৩০ লাখের নিচে নেমে গেছে।

    নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে লেনদেনের জন্য ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি প্রত্যেক বিনিয়োগকারীকে ব্রোকারেজ হাউসে ন্যূনতম একটি হিসাব খুলতে হয়। শেয়ারবাজারে এটি বিও হিসাব নামেই পরিচিত। একজন বিনিয়োগকারী নিজ নামে ও যৌথভাবে সর্বোচ্চ দুটি হিসাব খুলতে পারেন। আর প্রতি দুজন মিলে সর্বোচ্চ তিনটি বিও হিসাব খোলা যায়।

    বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাজারের প্রতি আস্থা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় অনেক বিনিয়োগকারী নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ করে যাঁরা ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে ব্যবসা করতেন, তাঁদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি। দীর্ঘদিন কোনো হদিস না পেয়ে অনেক ঋণদাতা ব্রোকারেজ হাউস বিও হিসাবে থাকা শেয়ার জোরপূর্বক বিক্রি (ফোর্সড সেল) করে দিয়েছে। ফলে অনেক বিও হিসাব শেয়ারশূন্য হয়ে পড়ে। শেয়ার না থাকা এসব বিও হিসাবধারী বাজারের সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন থাকায় নবায়ন মাশুলও পরিশোধ করেননি।

    বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিও হিসাবের সিংহভাগই প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আবেদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এমনও আছে, পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে হিসাব খুলে আইপিও আবেদন করা হয়। সেকেন্ডারি বাজারে নিয়মিত লেনদেনে ব্যবহৃত হয়, এ রকম বিও হিসাবের সংখ্যা কম। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে আইপিও আসা কমে গেছে। এ কারণেও অনেকে আইপিও আবেদনের জন্য ব্যবহার করা বিও হিসাবের সংখ্যা কমিয়ে ফেলছেন।

    জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী সংবাদ প্রতিদিন বিডিকে বলেন, ‘আমার ধারণা, যেসব বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে, তার ৯০ শতাংশেরও বেশি আইপিওতে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আইপিওর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আবার আইপিওতে কোটার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগের মতো সুবিধা করতে পারছেন না। এ কারণে অনেকে বিও হিসাব কমিয়ে ফেলেছেন।’

    প্রতিটি বিও হিসাব নবায়নের জন্য বাৎসরিক যে ৪৫০ টাকা মাশুল নেওয়া হয় তার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ যার অধীনে বিও হিসাবটি খোলা হয় সেই প্রতিষ্ঠান পায় ১০০ টাকা। সিডিবিএল পায় ১০০ টাকা, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পায় ৫০ টাকা আর বাকি ২০০ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়।

    (Visited 15 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *