Templates by BIGtheme NET
Home / অন্যান্য / জমি বা ভূমি স্বত্ব পাওয়ার পদ্ধতি – Songbad Protidin BD

জমি বা ভূমি স্বত্ব পাওয়ার পদ্ধতি – Songbad Protidin BD

  • ১৪-০৮-২০১৭
  • Land-titleসংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  জমি হাতবদলের অধিকারকে স্বত্ব বলা যেতে পারে। এই স্বত্ব তিনভাবে পাওয়া যায়। ক্রয় দলিল বা দানপত্র দ্বারা হস্তান্তর, ভূমি স্বত্ব ও জমি জরিপ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করতে পারলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। সাধারণ লোকেরও উপকার হবে।

    জরিপের গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সংজ্ঞাসমূহ:
    জমি জরিপ ও খতিয়ান প্রস্তুতি ও সংশোধন জানতে হলে ট্রাভার্স সার্ভে, ক্যাডাস্ট্রারাল সার্ভে, খানাপুরি বুঝারৎ, তসদিক ইত্যাদি বিষয় ভালভাবে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

    ট্রাভার্স সার্ভে:
    কোন জেলার বা তদীয় অংশের খতিয়ান সংশোধন বা প্রস্তুতের জন্য ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে ট্রাভার্স সার্ভের ভিত্তিতে হবে। এই ট্রাভার্স সার্ভে থিওডোলাইটি যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করে করতে হবে। বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক পদ্ধতি অনুসরণ করে থিওডোলাইট যন্ত্রের সাহায্যে একটি মৌজা ও গ্রামের (যদিও একটি মৌজায় একাধিক গ্রাম থাকতে পারে) বহি:সীমার বেশ কয়েকটি স্থির বিন্দু সঠিকভাবে নির্দেশ করে মৌজার বা গ্রামের সীমারেখাটি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় এই পদ্ধতিকেই সাধারণভাবে ট্রাভার্স সার্ভে বলে। জমির মানচিত্রটি সঠিক ও বাস্তবানুগ করতে ট্রাভার্স সার্ভের খুবই প্রয়োজনীয়তা আছে। প্রসঙ্গক্রমে সার্ভে কথাটি বোধগম্য হওয়া প্রয়োজন।

    সার্ভে:
    সার্ভের পরিস্কার অর্থ জমির মাপজোক। একাধিক পদ্ধতিতে জমির মাপজোক করা হয়। মাপজোকের পর বিহিত পদ্ধতিতে খাতাপত্রে একটি স্থানের জমির পরিচয় লিপিবদ্ধ করা হয়। এটাই প্রাথমিক পর্যায়ের সার্ভে রেকর্ড।

    ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে:
    জরিপের কার্যাবলী সমূহ চলাকালীন পূর্বেকৃত জমি রাজস্ব জরিপের প্রতিটি গ্রামে যেরূপ অবলম্বিত হয়েছিল, সেরূপ প্রতিটি গ্রামের অথবা যে কোনও নির্দিষ্ট গ্রামের সরকার কৃত জরিপের সরকারি গেজেটে অধিসূচনতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট গ্রামের বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র প্রস্তুত করতে হয়। এই মানচিত্রে রাজস্ব, নদী, রেললাইন এবং উক্ত অঞ্চলের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য তৎসহ বাস্তভিটা ও দাগসমূহ দেখাতে হবে। ক্যাডাস্টাল শব্দটি এসেছে ফরাসী শব্দ থেকে। শব্দটির বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, জমির দাগে গিয়ে সেই স্থানের জমির চরিত্র ও পরিমাণ নিরূপণ করা এবং সেই নির্দিষ্ট জমিতে কে কি ধরণের স্বত্ব, স্বার্থ ও অধিকার ভোগ করেন এবং কি ধরণের, ভোগ দখলের ধরণটি কি রকম তার পূর্ণ বিবরণ যে সার্ভের মাধ্যমে নির্ণয় করা হবে। হয়ত বেশ কিছু গ্রামের মানচিত্র আগেই জরিপ করে তৈরি হয়ে থাকতে পারে, সেই ক্ষেত্রে পূর্বের সেই জরিপকৃত গ্রামের মাত্রা চিত্রের সীমানাযুক্ত আয়তন পরিকল্পিত ও জরিপের একক হিসেবে অনুপযুক্ত বলে বিবেচিত হলে প্রশাসনিক আধিকারীক সংশ্লিষ্ট রায়তদের বক্তব্য শুনে যথাবিহিত পদ্ধতি অনুসরণ করে যুক্তিসহকারে তাঁর রিপোর্ট রাজস্ব পর্ষদের নিকট দাখিল করবেন। ভূ-বাসন আধিকারিকের রিপোর্ট রাজস্ব পর্ষদ অনুমোদন করলে খতিয়ান সংশোধন ও মানচিত্র প্রস্তুতের জন্য একক হিসেবে যেই ক্ষেত্রে গৃহীত হবে। এর পরে রাজস্ব পর্যদের নতুন আদেশের নকল গেজেট প্রকাশ করার জন্য (গেজেট নোটিফিকেশন) সরকারের নিকট পাঠিয়ে দিতে হবে।

    খানাপুরী:
    এই স্তরে খতিয়ান সংশোধন বা প্রাথমিক খতিয়ানের প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে। খসড়া নথিতে স্বত্বের বিবৃতি থাকবে এবং অনত:পর এগুলি খতিয়ানরূপে বর্ণিত হবে। জমিতে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির বা যুক্তভাবে একটি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দলের ব্যক্তিগণের জন্য পৃথক খতিয়ান হবে। এই সময় খসড়া খতিয়ানে উক্ত বিবরণসমূহ লিপিবদ্ধ হবে এবং পরবর্তী দুই স্তরে খসড়া এবং প্রত্যেক খতিয়ানে ২৩ নিয়মের উল্লিখিত বিবরণ অনুসারে প্রত্যেক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণের স্বত্ব ও দায়িত্ব প্রদর্শিত হবে। এই স্তরে গ্রামের দাগের ধারাবাহিক ফিল্ড ইনডেক্স বা খসড়া প্রস্তুত করতে হবে। এই ফিল্ড ইনডেক্স অবশ্য খসড়া খতিয়ানের অংশ হবে না।

    বুঝারৎ:
    এই স্তরের প্রারম্ভে নতুন খতিয়ানের প্রতিটি দাগের আয়তন বা বক্তব্য লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং তারপর এরূপ প্রাথমিক খতিয়ানের নকল প্রত্যেক রায়ত এবং যাদের নাম খতিয়ানে লিপিবদ্ধ হয়েছে, তাঁদের সকলকে অথবা তাঁদের প্রতিনিধিদের প্রদান করতে হবে। প্রাথমিক খতিয়ানের নকলকে ‘পর্চা’ বলা হয়। পর্চা বিতরণের পর জরিপ অফিসার প্রতিটি দাগের উপস্থিত হয়ে, যাঁর বা যাঁদের নামে দাগটি লিপিবদ্ধ হয়েছে, গ্রামের মানচিত্র উল্লেখ করে তাঁকে তা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধিকে (যদি তিনি উপস্থিত থাকেন) বুঝিয়ে দেবেন। এই সময় জরিপ অফিসার প্রয়োজন অনুসারে মানচিত্র, খতিয়ান ইত্যাদি সংশোধন করবেন এবং পর্চা দাখিল হলে তাও সংশোধন করে দেবেন। এই স্তরের রায়তের বক্তব্য অনুযায়ি তাঁর দ্বারা প্রদেয় রাজস্ব ও উপকর লিখিতে হবে। বিধিগত অন্যান্য বিষয় তসদিক স্তরে সম্পন্ন হবে।

    ‘বুঝারৎ’ শব্দটির অর্থ পরিস্কারভাবে বুঝতে গেলে কে. বি. শব্দটির মানে জানতে হবে। কে. বি. হলো খানপুরী বুঝারৎ। খানাকে বলা হয় দাগ বা নির্দিষ্ট কোনও প্লট। পুরী শব্দটির অর্থ হল পূর করা। নির্দিষ্ট দাগ বা প্লট সম্পর্কে সবরকম স্বত্বের তথ্য সংগ্রহ করা।

    ‘তসদিক’সহ উপরোক্ত স্তরগুলি সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে বাতিল বা যুক্ত করে খতিয়ান প্রস্তুত করা যেতে পারে।

    রাজস্ব আধিকারিক অর্থাৎ ভূ-বাসন আধিকারিক খতিয়ানের চূড়ান্ত প্রকাশনার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত খতিয়ান সংশোধন বা প্রস্তুত করণের যে কোনও কার্যাবলী বাতিল করে নতুনভাবে সংশোধন বা প্রস্তুতের আদেশ দিতে পারেন।

    ব্যাখ্যা-১: যদি খন্ড ১ এর দ্বিতীয় অনুবিধিতে উল্লিখিত বর্গাদার বা জমির দখলকারী বা হস্তান্তরকারীর নাম বুঝারৎ এর পরবর্তী স্তরে নথিবদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে জরিপ অফিসার কর্তৃক যাঁর নাম খতিয়ানে নথিবদ্ধ হয়েছে, তাঁকে বা তাঁর প্রতিনিধিকে খতিয়ানের একটি নকল দেবেন।

    ব্যাখা-২: বর্গাদারের ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার, খতিয়ানের নকল প্রেরণ মুলতবী থাকাকালীন রাজ্য সরকার যেরূপ বিহিত করবেন, সেরূপ ফরমে একটি প্রমাণপত্র প্রদান করবেন ।

    তসদিক:
    গ্রামের নিকট সুবিধাজন স্থানে তসদিকের কাজ শুরু করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বুঝারৎ পর্যন্ত সকল স্তর বাতিল করে তসদিক স্তর হতে খতিয়ান প্রস্তুত করতে হবে। সেক্ষেত্রে তসদিকের পূর্বে তসদিক অফিসার প্রয়োজন অনুযায়ি প্রতিটি দাগের বর্তমান অবস্থা তদন্ত করে পূর্বের মানচিত্র ও খতিয়ান সংশোধন করবেন। তসদিকের পূর্বে নোটিশ জারি করে সকল রায়ত ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাদের স্বত্ব ও দখল প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তসদিকের সময় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানাবেন।

    (জমির হিস্যা লেখার পদ্ধতি, নদীতে ভেঙে যাওয়া ও জেগে উঠা ভূমি সংক্রান্ত আইন ও দখলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি সংক্রান্ত তথ্য জানতে চোখ রাখুন আগামী কালকের পর্বে)

    জনস্বার্থে: সংবাদ প্রতিদিন বিডি ।

    (Visited 12 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *