সংবাদ প্রতিদিন বিডি

সংবাদ প্রতিদিন বিডি

নারায়ণগঞ্জে ট্রলার ডুবি: এখনও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজদের

1 min read

নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে নিখোঁজদের স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোর সৃষ্টি হয়েছে। নৌ বাহিনীর ডুবুরি দল সোলার সার্স মেশিনের মাধ্যমে নিখোঁজ যাত্রী ও ট্রলারের সন্ধান করছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। এদিকে তিন নদীর মোহনার কাছাকাছি এ এলাকা দিয়ে চলাচলরত বড় বড় জাহাজ ও খেয়াঘাটের ট্রলার ঘন কুয়াশার সময় চলাচলে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এম ভি ফারহান-৬ যাত্রীবাহী লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসানসহ গ্রেফতারকৃত ৩ জনকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। 
গত ৫ জানুয়ারি বুধবার সকাল আটটায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে এমভি ফারহান-৬ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে সরকারি হিসেবে দশজন নিখোঁজ রয়েছে। সারাদিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান চালিয়েও ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পায়নি। ঘন কুয়াশা ও অন্ধকারের কারনে বুধবার রাত ৭ টায় প্রথম দিনের উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার কাজ শুরু হয়। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের যুক্ত রয়েছে নৌ -বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল। 
বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় ট্রলার ডুবির ঘটনার বত্রিশ ঘন্টা পরেও নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়ায় নিখোঁজদের স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ভোর থেকে স্বজনদের খোঁজে নদীর তীরে অসংখ্য মানুষ বসে ছিলেন। কেউ সন্তান, কেউ ভাই এবং নিজের সহকর্মীর সন্ধানে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। নদীর দুইপাড়ে ঘুরেছে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। কেউ কেউ রাত কাটান নদীর তীরে ঘুরে ঘুরে।

তারা মরে গেলেও নিখোঁজদের লাশ নিয়ে দাফন করতে চান। নিখোঁজদের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে নদীর তীরের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
নিখোঁজ জেসমিনের বোন তাসলি জানান, তার বোনের পরিবারের চারজন নিখোঁজ। তার বোন বোনের মেয়ে তাসনিম, ছেলে তামিম ও ১৩ মাসের মেয়ে তাসফিয়া। তাদের কারো কোনো সন্ধান মেলেনি। তিনি আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘জীবিত না দেন তাগো লাশটা ফেরৎ দেন। সরকার কি করতাছে। না ভাইসসা ওঠোন পর্যন্ত হেগো খুইজ্জা পাইতাম না?’
দুর্ঘটনাস্থলের একটু সামনেই তিন নদীর মোহনা। মোহনার কাছাকাছি এ এলাকা দিয়ে চলাচলরত বড় বড় লঞ্চ-জাহাজ ও খেয়াঘাটের ট্রলার ঘনকুয়াশার সময় চলাচলে কঠোর নজরদারীর দাবি জানিয়ে ধর্মগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নূরে আলম বলেন, আগে এমন কুয়াশা হলে বড় নৌযান চলতো না। কিন্তু এখন সে নিয়ম মানা হয়না কেন ? এ নিয়ম মানা না হওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। 
নৌ বাহিনীর ডুবুরি দল সোলার সার্চ মেশিনের মাধ্যমে নিখোঁজ যাত্রী ও ট্রলারের সন্ধান করছে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলম হোসেন জানান, ভোর থেকে নদীতে প্রচুর কুয়াশা। এ কারণে উদ্ধার অভিযানে ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা নদীতে কয়েটিভাগে উদ্ধার অভিযান করছি। নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল নদীতে নেমেছে। তবে এখনো ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। কারো মরদেহও উদ্ধার করা যায়নি।

এদিকে ট্রলারটিকে ডুবিয়ে দেয়া এমভি ফারহান-৬ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটি জব্দ করে লঞ্চের চালক মাষ্টারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। বুধবার রাতে নৌ নিরাপত্তা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে ফতুল্ল্া মডেল থানায় তিন জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। 
আসামিরা হলো এম ভি ফারহান-৬ যাত্রীবাহী লঞ্চের মাস্টার মো:কামরুল হাসান, ড্রাইভার মো. জসিমউদ্দিন ভূইয়া ও সুকানি জসিম মোল্লা। গতকাল চারজনকে গ্রেফতার করে নৌ পুলিশ। তাদের মধ্যে উল্লেখিত তিনজনকে আসামী করা হয়। একজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত তারিকুল ইসলাম।
সন্ধা সাড়ে ছয়টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় উদ্ধার অভিযান দ্বিতীয় দিনের মতো স্থগিত করা হয়।  
যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রীদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন জেসমিন (৩২), তাসলিম (১৫), তামিম (৮), তাসফিয়া (১৩ মাস), কলেজ ছাত্র সাব্বির (২০), মুয়াজ্জিন আব্দুল্লাহ (২৪), মোতালেব (৪০), আওলাদ হোসেন (৩২), আব্দুল্লাহ-২ (২২), আওলাদ হোসেন (৩২)। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *