সংবাদ প্রতিদিন বিডি

সংবাদ প্রতিদিন বিডি

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনায় সমাধান চায় আওয়ামী লীগ

1 min read

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। ফলে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাই এবার কমিশন গঠনে সরকারের যেমন তোড়জোড় রয়েছে, ঠিক তেমনি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও সতর্ক অবস্থানে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসি গঠন নিয়ে বিতর্ক এড়াতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই সংলাপের মাধ্যমে আসা মতামতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সর্বজন গ্রহণযোগ্য সার্চ কমিটি বা ইসি গঠনে সরকারের সদিচ্ছার কমতি থাকবে না বলে জানা গেছে। যদিও এ-সংক্রান্ত এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রপতির।

সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হাতে। গত এক দশকে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে সবশেষ দুটি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। এরই মধ্যে নতুন ইসি গঠনের আগে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে গত সোমবার সংলাপে যোগ দেয় জাতীয় পার্টি। যদিও বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে যেতে রাজি নয়। তারা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কাজটি সমাধানের দাবি জানালেও সরকারি দল বলছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, এর আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে আইন প্রণয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই এবার আগের নিয়মেই গঠন হবে নতুন ইসি।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংলাপে দলের পক্ষ থেকে যে দাবি-দাওয়া থাকবে তা দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করছে। সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য কার কার নাম রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন তাও জানেন দলীয় প্রধান। এ বিষয়ে দলের নেতারা একে অপরের সঙ্গে আলোচনাও করছেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসে আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটির মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিদের ইসি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করবে।

এরই মধ্যে এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের প্রয়োজন আছে। তবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব নয়। এবার সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। পরেরবার আইন করা হবে। সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ টেনে আনিসুল হক বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। তিনি আরো বলেন, হয়তোবা সার্চ কমিটি গেজেটেড, এটা আইন নয়, যেহেতু সবার মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি এটা করেছেন, এটা আইনের কাছাকাছি। কারণ, এটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে পাঁচ সদস্যের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাদের পর যে কমিশন গঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ভার থাকবে তাদের ওপরই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘সংলাপের বিষয়ে আমাদের মানসিক প্রস্তুতি আছে। তবে আওয়ামী লীগকে সংলাপে আমন্ত্রণ করলে আমাদের দল কী প্রস্তাব দেবে, দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা নির্ধারণ করবেন। তবে আমাদের জোটের ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংলাপের বিষয়বস্তু ঠিক করা হবে।’

সার্চ কমিটিতে নাম প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে নানক বলেন, ‘এ বিষয়টিও ঠিক করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। আমাদের দলের নেতারাও দলীয় সভাপতির নির্দেশের অপেক্ষায়।’

বিএনপিকে সংলাপে আসার অনুরোধ জানিয়ে নানক বলেন, দেশের সবকিছুতেই না বলা বিএনপির এক ধরনের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য দলটি রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে। আমরা বলব, রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ সফল করার জন্য বিএনপি সংলাপে অংশগ্রহণ করুক।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ গতকাল মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় বলেছেন, ‘আমরা অনুরোধ করব, মিথ্যাচার-বিভ্রান্তি বন্ধ করে আপনারা (বিএনপি) রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিন। আপনাদের মতামত সেখানে পেশ করুন। আপনাদের যদি ভালো পরামর্শ থাকে অবশ্যই সেটা রাষ্ট্রপতি বিবেচনা করতে পারেন। সে পরামর্শ আপনারা দিন।’

মাহবুব-উল আলম হানিফ আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি, যেটা সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি; সেটা অনুসরণ করেই সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন রাষ্ট্রপতি। তাদের মতামতে সার্চ কমিটি গঠন এবং তাদের দেওয়া নাম যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন কমিটি গঠন করা হবে। এটাই হলো গণতান্ত্রিক ও সবচেয়ে উত্তম পন্থা। সেটাকে নিয়েও বিএনপি আজকে সমালোচনা করছে, যা অর্থহীন।’

এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে সময় পার করেছে। তাই এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘এখন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা করি, আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করতে পারব।’ তবে কবে থেকে আইনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এ বিষয়ে তিনি কোনো খোলাশা করেননি।’

উল্লখ্য, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সংবিধানে আইনের মাধ্যমে ইসি গঠনের নির্দেশনা আছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এই আইন প্রণয়নে উদ্যোগ নেয়নি কোনো সরকার। আইন না থাকায় নির্বাচন কমিশনার হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ডও নেই। দেশের রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং কমিশনারদের (ইসি) নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এবারও পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ নিতে সংলাপ আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সংবাদ প্রতিদিন বিডি / ইকবাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *