সংবাদ প্রতিদিন বিডি

সংবাদ প্রতিদিন বিডি

ডেঙ্গু জ্বর কমার পরের ৩ দিন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ!

1 min read

গত কয়েক বছরের তুলনায় আক্রান্তের হার, জটিলতা ও মৃত্যু ঝুঁকি সবই বেশি এবারের ডেঙ্গুর। তবে এবারের ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে ৭ থেকে ১৮ বছরের শিশু-কিশোররা। স্বল্প বয়সের এই রোগীদের ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাবার পরের ৩ দিনকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা । ডেঙ্গুর এমন অস্বাভাবিক আচরনের জন্য ভাইরাসটির নানা রকম ভ্যারিয়েশন ও রোগীর অভিভাবকদের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন তাঁরা ।

শুক্রবার (০৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা শিশু হাসপাতালে সরেজমিনে গেলে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও রোগীদের স্বজনদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানান।

শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুন-জুলাই মাসে ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে শতাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। মারা গেছে ৪ জন। তবে আগস্টের শুরু থেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েগেছে কয়েক গুণ। মৃত্যুহার কম থাকলেও প্রতিদিনই গড়ে ৫ থেকে ১০ বছরের নতুন ২০/২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে রাজধানীর এই হাসপাতালে।

এছাড়া , গত ২০ আগস্ট (শুক্রবার) একদিনে সর্বোচ্চ ৭৬ ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু ভর্তি হবার রেকর্ডও এই হাসপাতালেরই দখলে । শুধুমাত্র আগস্টেই ৩০০ এর বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় এই হাসপাতালে ।

নাখালপাড়া এলাকার ৫ বছর বয়সী ছোট শিশু সৈকত। গত ৪ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি সে। সৈকতের মা মরিয়ম বলেন, বাচ্চার জ্বর ছিল ৪/৫ দিন ধরে। ডেঙ্গু হবে এমন কোন আশংকা শুরুতে করিনি। এলাকার ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ানোর পরে জ্বর তো কমেইনি, বরং বেড়ে যায়। রাতে ইমারজেন্সিতে আনলে দেখি ডেঙ্গু পজেটিভ , প্লাটিলেটও অনেক কমে গেছে। তখনই আমার ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দেই।

একই ধরনের সমস্যা নিয়ে সৈকতের সীটের আশে পাশে আরো ৫/ ৭ জন শিশুকে দেখা গেল। পাশে থাকা দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, এদের সবারই প্লাটিলেট কাউন্ট খুব কম ও অস্বাভাবিক । রোগীর এরকম বেসামাল অবস্থার জন্য বাবা-মায়ের অসচেতনতা ও ডেঙ্গু নিয়ে উদাসীনতাকেই মুখ্য হিসেবে দেখছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।

বিচিত্র ভ্যারিয়েশনের এই ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে ঢাকা শিশু হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, অন্য যে সকল রোগের কারনে জ্বর আসে, সেক্ষেত্রে জ্বর কমে গেলে আমরা নিশ্চিন্ত হয়ে যাই। কিন্তু এবারের ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক উল্টো । জ্বর কমে যাবার পরের ৩ দিন আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে রোগীদের পর্যবেক্ষণ করি ।

রোগীর অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এই চিকিৎসক বলেন, যেহেতু একজন চিকিৎসক সবসময় শিশুর পাশে থাকতে পারছে না, তাই অভিভাবকের অনেক বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে। জ্বর কমার পরের ৩ দিন এক মুহূর্তের জন্য বাচ্চার কাছে থেকে দূরে যাবেন না । খেয়াল রাখবেন, বাচ্চার হাত পা কখনো ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে কিনা, সে নেতিয়ে পড়ছে কিনা, বা তার মাথা ঘুরছে কিনা। এগুলোর যে কোন একটি যদি ওই ৩ দিনের মধ্যে দেখা দেয় , বুঝতে হবে বাচ্চা শকে চলে যাচ্ছে। এসব যে কোন ধরনের লক্ষন দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি না করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু সিজনে জ্বর বা মাথা ব্যাথা হলে কোন ধরনের ব্যাথার ট্যাবলেট বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না । ফোনে বা এলাকার হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে থেকে কোন রকম চিকিৎসা গ্রহন করা যাবে না, নিজেরা বিকল্প উপায়ে ডেঙ্গু পরীক্ষাও করা যাবে না। শুরুতেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে। বিশেষজ্ঞরা ভাল বুঝবেন কত দিনের জ্বরে কি কি ধরনের পরীক্ষা করতে হবে, কি চিকিৎসা করতে হবে ।

আদনান সৌখিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *