Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / আসলামের সঙ্গীদের শনাক্তে ব্যস্ত গোয়েন্দারা

আসলামের সঙ্গীদের শনাক্তে ব্যস্ত গোয়েন্দারা

  • ০৮-০৬-২০১৬
  • mosweবিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী যাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র’ করেছেন তাদের শনাক্তের জন্য ঘাম ঝড়াচ্ছেন গোয়েন্দারা। প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া তিন বাংলাদেশির মধ্যে শিপন নামের একজন আসলাম গ্রেপ্তারের সময়ই ভারতে চলে যান। মতিন নামের আরেক সহযোগীও ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সঞ্জীব নামের তৃতীয় ব্যক্তি দেশে থাকলেও গা ঢাকা দিয়েছেন।

    রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসলামের সঙ্গে লন্ডন প্রবাসী দলীয় নেতাসহ আরো কয়েকজনের যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। তবে তাদের কারা রাস্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

    গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুন) রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আসলামের রিমান্ডের সপ্তম ও শেষ দিন ছিল। এ ব্যাপারে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক কর্মকর্তা উপরোক্ত তথ্য জানান।

    জানতে চাইলে ডিবির উপকমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনে এখন অগ্রগতির ব্যাপারে বলা যাবে না। যাদের নাম এসেছে তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আসলাম চৌধুরীর সহযোগী চট্টগ্রামের সঞ্জীব গা ঢাকা দিয়ে আছেন। বাগেরহাটের শিপন এখনো ভারতে আছেন। আর মতিনের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনিও ভারতে চলে গেছেন।’

    ‘সরকার উৎখাতের’ লক্ষ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৭ মে গুলশান থানায় আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে পুলিশ। মামলার তদন্ত তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফজলুল হকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ মে আদালত আসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এরআগে গত ১৫ মে তাকে আটকের পর ৫৪ ধারার মামলায় আদালতের নির্দেশে সাত রিমান্ডে নেয় ডিবি। গত ২২ মে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি চায় ঢাকা মহানগর পুলিশ। গত ২৪ মে পুলিশকে ওই মামলা দায়েরের অনুমতি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    ওই দিনই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে লালবাগ ও মতিঝিল থানার দুটি নাশকতার পেন্ডিং (পুরনো) মামলায় আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত দু’টি মামলায় রিমান্ড শুনানিন জন্য ৩১ মে দিন ধার্য করেন। ওই দিন নাশকতার মামলার রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য ৬ জুন সোমবার দিন ধার্য করেন আদালত। সোমবার ওই আবেদনের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আসলাম বাংলাদেশি তিন নাগরিক ও ভারতীয় এক নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে রাস্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করেন। তারা ভারতে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদি বৈঠকের আগে ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে দেশেও বৈঠক করেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সাত মাস তারা নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালান। আসলাম ও তার সহযোগীরা সরকারকে উৎখাতের জন্য নাশকতার পাশাপাশি ‘মিথ্যা প্রচারণা’ চালায়।

    তারা দেশে ও ভারতে বৈঠকে বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় নিরাপদ নয়। এসব প্রচার করে সরকারকে ‘বেকায়দায়’ ফেলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লন্ডন প্রবাসী দলীয় নেতাদেরও যোগসূত্র আছে বলে তথ্য পেয়েছে ডিবি। এ ব্যাপারে আরো তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

    প্রসঙ্গত, গত ৫-৯ মার্চ ভারতে অবস্থানকালে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কবহির্ভূত রাষ্ট্র ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আসলাম চৌধুরী। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মোসাদের সঙ্গে মিলে সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছেন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা আসলাম।

    (Visited 13 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *