Templates by BIGtheme NET
Home / সাক্ষাৎকার / ‘শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে’

‘শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে’

  • ২২-০৭-২০১৯
  • আবু-জাফর-মোঃ-সালেহ্তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশি-বিদেশি ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন আবু জাফর মোঃ সালেহ্। ব্যাংক খাতের প্রায় সব বিভাগে সফল পদচারণ ছিল তার। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে চলা ইসলামি শরিয়াহ্ভিত্তিক নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের হাল ধরেছেন তিনি। তার হাত ধরে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজ কোম্পানি ছাড়াও দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাতকারটি হুবহু তুলে ধরা হল।

    প্রশ্ন: বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের বর্তমান অবস্থা কেমন?

    আবু জাফর মোঃ সালেহ্: বাংলাদেশে সময়ের সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ছে। বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে দেশে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। দেশের ইসলামি শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকের সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল ব্যাংকগুলোও এখন শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং চালু করছে। একইভাবে বেসরকারি
    নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও শরিয়াহ্ভিত্তিক উইং চালু করছে। সব মিলিয়ে মানুষের চাহিদার সঙ্গে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের পরিধি বাড়ছে। এটা নিঃসন্দেহে ভালো একটি দিক। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শক্তিশালী শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় এসেছে। তাহলে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    প্রশ্ন: শরিয়াহ্ভিত্তিক নন-ব্যাংকিং কোম্পানি হিসেবে ইসলামিক ফাইন্যান্সের বর্তমান অবস্থান…

    আবু জাফর মোঃ সালেহ্: ইসলামিক ফাইন্যান্স প্রায় দু’দশক আগে পথচলা শুরু করেছে। তখন বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং বিষয়ে তেমন ধারণা ছিল না। একইভাবে নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কেও এতটা জানাশোনা ছিল না। সেই সময়ে ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে ‘ঋণ’ আর ‘বিনিয়োগ’ ও ‘সুদ’ আর ‘মুনাফা’কে গুলিয়ে ফেলা হতো। সেই রকম একটি সময়ে পথচলা শুরু করেও ইসলামিক ফাইন্যান্স সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক খাতে বড় ঝড় এলেও তার প্রভাব এ কোম্পানির ওপর পড়েনি। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সঠিক দিকনির্দেশনা আর গ্রাহকের আস্থার কল্যাণে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

    প্রশ্ন: যে স্বপ্নপূরণের জন্য ইসলামিক ফাইন্যান্সের পথচলা শুরু, ১৯ বছরে তার কতটা পূরণ হয়েছে?

    আবু জাফর মোঃ সালেহ্: একটি অনুসরণীয় ও ভিন্নমাত্রার নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামিক ফাইন্যান্সের যাত্রা শুরু। অদ্যাবধি আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। ব্যবসায়িকভাবে মুনাফার চেয়ে আমরা দেশের মানুষকে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার দিকে বেশি নজর দিচ্ছি। এখন কতটুকু স্বপ্নপূরণ হয়েছে, সেটা বলার সময় আসেনি। এখনও পথ অনেক বাকি দেশের অথনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে ও শিল্পায়নের সঙ্গে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে আমরা সত্যিকার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। তবে এ সময়ে কতটুকু এগিয়েছি, সেটা আমাদের প্রতি গ্রাহকের আস্থা ও সামগ্রিক অগ্রগতির দিকে তাকালে বোঝা যায়।

    প্রশ্ন: গ্রাহকের পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আপনারা কীভাবে দেখেন?

    আবু জাফর মোঃ সালেহ্: বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির প্রাণ। তালিকাভুক্তির পর যেকোনো প্রয়োজনে পুঁজির জোগান দেন। তারা কোম্পানির আইনি অংশীদারও। তাই আমরা সব সময় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বিনিয়োগকারীরা যাতে মুনাফার অংশ পায়, সে দিকটাতেও সব সময় নজর রাখি। তাদের সিদ্ধান্তকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিই। লভ্যাংশ দেওয়ার সময়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় রাখি।

    প্রশ্ন: বাংলাদেশে নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জের দিকগুলো কী?

    আবু জাফর মোঃ সালেহ্: বাংলাদেশে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে চলা ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীল। ব্যাংক খাত ভালো থাকলে আমরা তার সুফল পাই। একইভাবে ব্যাংকিংয়ের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়লে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এর ধকল সহ্য করতে হয়। কারণ নন-ব্যাংকিং সেক্টর সেভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। তাই এই নির্ভরশীলতা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এর বাইরে মানুষের সচেতনতাও বড় একটি বিষয়। এখনও মানুষ ব্যাংকিং আর নন-ব্যাংকিংকে গুলিয়ে ফেলে। ব্যাংকিংয়ে কোনো বিতর্ক হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করে, সমালোচনা করে। আশা করছি, সময়ের সঙ্গে এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা যাবে।

    (Visited 1 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *