Templates by BIGtheme NET
Home / খেলাধুলা / বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রযুক্তির ছোঁয়া ।। songbadprotidinbd.com

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রযুক্তির ছোঁয়া ।। songbadprotidinbd.com

  • ০৫-০৬-২০১৯
  • 21স্পোর্টস ডেস্কঃ  প্রযুক্তির কল্যাণে আগের তুলনায় বর্তমানে ক্রিকেট অনেকটাই বদলে গেছে। এতে খেলায় যেমন এসেছে উত্তেজনা, তেমনি মাঠে না যাওয়া দর্শকও পাচ্ছে ক্রিকেটের পূর্ণ স্বাদ। একই সঙ্গে ক্রিকেটাররা এসব প্রযুক্তির ব্যবহার করে নিজেদের ও প্রতিপক্ষের খেলা সম্পর্কে ধারণা ও উন্নতি করার জায়গা পাচ্ছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ব্যবহার হওয়া এমন কিছু প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন- মাজেদুল হক তানভীর

    স্পাইডার ক্যাম মাঠের ওপর দিয়ে বিশেষ তার টানা হয়। এর ওপর ভর করেই চলাচল করে ওই বিশেষ ধরনের ক্যামেরা। দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এর কার্যক্রম। ওই ক্যামেরার সাহায্যে ক্রিকেট ম্যাচ চলার সময়ই খেলোয়াড়দের বিভিন্ন অ্যাকশন অনেক কাছ থেকে ধারণ করা যায়।

    শুধু যে টিভি সম্প্রচারকারীদের কাজের মানই স্পাইডার ক্যাম বৃদ্ধি করে, তা নয়। একই সঙ্গে আম্পায়ারদের যে কোনো ঘটনা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করে এই প্রযুক্তি। হকআই ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তির একটি হকআই। কিছুদিন আগেও লেগ বিফোর উইকেটের (এলবিডব্লিউ) সিদ্ধান্তের জন্য মাঠের আম্পায়ারের ওপর নির্ভর করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। ব্যাটসম্যানের পায়ের সঙ্গে বলের সংযোগ কোন স্থানে হয়েছে, তা খালি চোখে দেখেই সিদ্ধান্ত দিতে হতো।

    উপায় ছিল না থার্ড আম্পায়ারের কাছে যাওয়ার। তবে হকআই প্রযুক্তি আসার পর বদলে গেছে পুরো বিষয়টি। বলের গতিপথ সহজেই বলে দিতে জানে এই প্রযুক্তি। আর এর ওপর নির্ভর করে বদলে গেছে ক্রিকেট আইনও। এলবিডব্লিউয়ের ক্ষেত্রে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে এখন ব্যাটসম্যান কিংবা বোলাররা চাইতে পারেন রিভিউ। তারা দেখে নিতে পারেন সুইং কিংবা সিম, বাউন্স বা স্পিনের কারণে বলের গতিপথের পরিবর্তন। এতে ক্রিকেট হয়ে উঠেছে আরও নির্ভুল।

    স্ট্যাম্প ক্যামেরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট হয়ে উঠছে আরও সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশের। তাই সিদ্ধান্ত নিতে আরও সাবধান হচ্ছেন অ্যাম্পায়াররা। রান আউট কিংবা স্ট্যাম্পিংয়ের হিসাব মেলাতে অনেক সময় ব্যাটসম্যানের পেছন থেকে শট ধরা হয়। এ জন্য ক্যামেরাটা বসানো থাকে মিডল স্ট্যাম্পে। এতে ব্যাটসম্যানের পায়ের অবস্থান সম্পর্কে যেমন নিশ্চিত হওয়া যায়। একই সঙ্গে ক্যামেরার নড়াচড়া দেখে বল স্ট্যাম্পে আঘাত করার সঠিক মুহূর্তটিও জানা যায়। স্নিকোমিটার ও হটস্পট বল ব্যাট ছুঁয়ে গেছে কিনা, তা বোলিংএন্ডে দাঁড়িয়ে আম্পায়ারের পক্ষে বোঝা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে যায়। ‘স্নিকোমিটার’ হলো এক ধরনের মাইক্রোফোন।

    এটি সামান্য শব্দও ধারণ করে তা গ্রাফ আকারে প্রকাশ করতে সক্ষম। ব্যাটে বল লেগেছে কিনা কিংবা ইনসাইড এজ হয়ে বল আগে ব্যাটে, নাকি প্যাডে লেগেছে- এলবিডাব্লিউয়ের ক্ষেত্রে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর তা নির্ধারণ করে দিতে পারে এই স্নিকোমিটার। কিন্তু এই প্রযুক্তি শব্দের ওপর নির্ভর করে। তাই ব্যাটসম্যানের আশপাশে বিভিন্ন শব্দের আধিক্য থাকলে এই প্রযুক্তির সাহায্যে পাওয়া টানা শব্দের গ্রাফ থেকে সিদ্ধান্তে আসা কঠিন। এ ছাড়া ব্যাট-বল সংযোগের সূক্ষ্ম হিসাব শুধু শব্দের সাহায্যে নির্ণয় করা যায় না।

    ফলে এ সমস্যারও এসেছে সমাধান। বলের সঙ্গে ঘর্ষণের কারণে ব্যাটের ওই স্থানে সামান্য যে তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়, তাও ভালোভাবেই ধরে ফেলতে আছে ‘হটস্পট’। ওয়াগন হুইল ও পিচ ম্যাপ এ দুই ধরনের প্রযুক্তি দিয়ে একটি দলের খেলার ধরন বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখানো হয়, একজন ব্যাটসম্যান মাঠের কোন কোন অংশ দিয়ে বল পাঠিয়ে রান করেছেন। বল ওপর দিয়ে, নাকি গড়িয়ে গেছেÑ সেটিও দেখানো সম্ভব হয় ওয়াগন হুইলের মাধ্যমে। অন্যদিকে পিচ ম্যাপের মাধ্যমে পিচের কোথায় কোথায় বল পড়েছে, সেটিও দেখা যায়। এতে প্রতিপক্ষের বোলার সম্পর্কে যেমন ধারণা মেলে, তেমনি কোথায় বল করলে কোন ব্যাটসম্যান কীভাবে খেলেনÑ সেটিও বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

    (Visited 9 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *