Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / নুসরাতের মৃত্যু: সেদিন যা ঘটেছিল অধ্যক্ষের কক্ষে ।। songbadprotidinbd.com

নুসরাতের মৃত্যু: সেদিন যা ঘটেছিল অধ্যক্ষের কক্ষে ।। songbadprotidinbd.com

  • ১১-০৪-২০১৯
  • Nusrat-jahan-Rafiনিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি মারা গেছেন। বুধবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান রাফি। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নুসরাতের মৃত্যুর পর এখন প্রশ্ন উঠছে সেদিন অধ্যক্ষের কক্ষে আসলে কি ঘটেছিলো। আর এরই জবাব দিলো নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। মৃত বোনের বরাত দিয়ে সে সাংবাদিকদের জানায়, গত ২৭ মার্চ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা তার পিয়ন নুরুল আমিনকে দিয়ে নুসরাতকে তার রুমে ডেকে নেন। নুসরাত তখন আরও তিন-চারজন বান্ধবীকে নিয়ে অধ্যক্ষের রুমে ঢুকতে চাইলে শুধু তাকে ঢুকতে দেন পিয়ন। এরপর দরজা আটকে অধ্যক্ষ বিভিন্ন প্রলোভন দেখান রাফিকে।

    ১ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে তাকে প্রশ্ন দেয়া হবে, যদি তিনি অধ্যক্ষের কুপ্রস্তাবে রাজি হন। এরপর অধ্যক্ষ নুসরাতের শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়ার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর নুসরাত দৌড়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে বাইরে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়ে যান।

    এরপর মাদ্রাসায় থাকা ছোট ভাই রায়হানকে খবর দেয়া হলে সে বোনের কাছে যায়। এরপর অধ্যক্ষ তাকে জানান, তার বোন অসুস্থ। অসুস্থ থাকার কারণে অধ্যক্ষের কাছে এসেছিল ছুটির আবেদন করতে। এখানে এসে আবার সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

    সেখান থেকে নুসরাতকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলে নুসরাত স্বজনদের জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিলেন। এরপরে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে তিনি ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপর মাদ্রাসা অধ্যক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ফোন দেন। আওয়ামী লীগের নেতা পুলিশসহ মাদ্রাসায় যান। তবে মাদ্রাসায় গিয়ে সব ছাত্রছাত্রীর মাধ্যমে সত্য ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ অধ্যক্ষকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    এরপর নুসরাতের মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পরের দিন তাকে আদালত পাঠানো হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। বৃহস্পতিবার আদালত তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    রায়হান আরও জানায়, ৬ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় গেলে এক ছাত্রী তার বোন নুসরাতকে বলে যে তার বান্ধবী নিশাতকে কারা যেন ছাদে মারধর করছে। পরে নুসরাত মাদ্রাসার তৃতীয় তলার ছাদে গেলে সেখানে বোরকাপরা ও হাতে মোজা লাগানো চার ছাত্রী তাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেয়।

    তারা বলে, মামলা তুলে না নিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। এরপর নুসরাত মামলা তুলে নেয়ার কথা প্রত্যাখ্যান করে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টার বিচার দাবি করেন। পরে ওই চারজন তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা পালিয়ে যায়।

    (Visited 29 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *