Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / কর্পোরেট নিউজ / ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের ২১৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি ।। songbadprotidinbd.com

৪৩টি প্রতিষ্ঠানের ২১৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৬-০৩-২০১৯
  • vatসংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  দেশের শীর্ষ অনেক প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট পরিশোধের হার কমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশার চেয়ে কম ভ্যাট পরিশোধ করছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের অজ্ঞতার কারণে ভ্যাট কমে যাচ্ছে। এজন্য সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বেড়েছে, কিন্তু সঠিকভাবে ভ্যাট দিচ্ছে না, এমন শীর্ষ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা করে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) মূল্য সংযোজন কর (মূসক)।

    গত নভেম্বর পর্যন্ত এলটিইউ মূসক ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্কের মাধ্যমে ২১টি ও দাখিলপত্র যাচাই করে ২২টি প্রতিষ্ঠানসহ ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের ২১৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে। এ তালিকায় রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি, ওষুধ কোম্পানি, সিমেন্ট, ব্যাংক, বিমা, পাঁচতারকা হোটেলসহ বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা আদায়ও হয়েছে। বাকি ৩৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে বকেয়া রাজস্ব আদায়ে দাবিনামা জারি করা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

     সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন ও আদায় নিয়ে এলটিইউ এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, এলটিইউ সব সময় ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্ক ও দাখিলপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করে থাকে। ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্কের মাধ্যমে ২১টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এর মধ্যে পারটেক্স বেভারেজ ও এমআই সিমেন্ট থেকে পৌনে পাঁচ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। বাকি ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট পরিশোধে দাবিনামা-সংবলিত কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের ব্র্যাক ব্যাংক ছয় কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বেসরকারি মোবাইল অপারেটরের মধ্যে ফাঁকি রয়েছে গ্রামীণফোনের ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অপর অপারেটর বাংলালিংকের ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আট কোটি ৩০ লাখ টাকা ও ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১১ কোটি আট লাখ টাকা, আর রবির ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত কোটি ৩৭ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।সিমেন্ট খাতের আবুল খায়ের গ্রুপের শাহ সিমেন্ট তিন কোটি ২০ লাখ টাকা ও সিয়াম সিটি সিমেন্ট সাত কোটি ৫৭ লাখ টাকা, বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে নিউজিল্যান্ড ডেইরি ১২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ওষুধ কোম্পানি লিবরা ইনফিউশন এক কোটি ৮১ লাখ টাকা, বিমা খাতের কোম্পানির মধ্যে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স এক কোটি ৯ লাখ, ইস্টল্যান্ড ৮২ লাখ, গ্রীন ডেল্টা পাঁচ কোটি সাত লাখ, পাইওনিয়ার দুই কোটি ৬৫ লাখ, রিলায়েন্স এক কোটি ৭৬ লাখ ও রূপালী ইন্স্যুরেন্স ৯৯ লাখ টাকা ও নাবিস্কো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড ৮২ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

    অপরদিকে, দাখিলপত্র যাচাই করে ২২টি প্রতিষ্ঠানের শতকোটি টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এর মধ্যে ড্যানিশ কনডেন্সড মিল্ক থেকে সাত লাখ টাকা, বহুজাতিক কোম্পানি বাটা শু লিমিটেড থেকে ৭৩ লাখ, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে আট লাখ, এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে ৩৩ লাখ, জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে এক কোটি ৬৬ লাখ টাকাসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুই কোটি ৮৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। বাকি ১৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা আদায়ে দাবিনামা-সংবলিত কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রবির ৩৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা, গ্রামীণফোনের ২২ কোটি ৫৪ লাখ, বাংলালিংকের ২৯ কোটি ৪৬ লাখ, টেলিটকের ছয় কোটি ২৯ লাখ, ড্যানিশ কনডেন্সড মিল্কের এক কোটি ৭৭ লাখ, ট্রাইস প্যাকের ২৩ লাখ, সিনহা প্রিন্টার্সের ২০ লাখ, এসকেএফ ফার্মার ৫৩ লাখ, এরিস্টো ফার্মার ১৯ লাখ, বেঙ্গল গ্লাসের চার লাখ, সোনালী ব্যাংকের দুই লাখ ও পূবালী ব্যাংকের এক লাখ টাকা ফাঁকি রয়েছে। এছাড়া পাঁচতারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্ল– ওয়াটার গার্ডেন ৯ লাখ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল ৩৭ লাখ, মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সাত লাখ, লিনডে বাংলাদেশ লিমিটেড এক কোটি ৮০ লাখ ও ইউনিক সিমেন্ট ২৭ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়, চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে ১১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন ও মামলা করা হয়। সম্প্রতি ১০০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে রবি থেকে ১৩ কোটি ৫৬ লাখ, ডেসকো থেকে ৩৮ লাখ ও ডিপিডিসি থেকে ৪৯ লাখ টাকা। এছাড়া রবির দুটি মামলায় ১৫ কোটি টাকার রাজস্ব এডিআরের (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে, সহসাই এ টাকা আদায় হবে। গত ৪ অক্টোবর ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি উদ্ঘাটনে সাতটি নিরীক্ষা দল গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার, বাটা, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, সিঙ্গার বাংলাদেশ, মটোরোলা, সানোফিসহ ওষুধ, সিমেন্ট, গ্যাস খাত ও কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা শেষে পৌনে ১২ কোটি টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সহসা বাকি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা শেষে ফাঁকি উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে এলটিইউ’র একজন কর্মকর্তা বলেন, নিরীক্ষা এলটিইউ’র রুটিন ওয়ার্ক। ইতোমধ্যে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি উদ্ঘাটন ও কিছু রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি অপ্রত্যাশিত। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আগের চেয়ে ভ্যাট ফাঁকি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। সূত্র: শেয়ার বিজ।

    (Visited 7 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *