Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / শেয়ার বাজার / শেয়ারের দরপতন অব্যাহত, দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা ।। songbadprotidinbd.com

শেয়ারের দরপতন অব্যাহত, দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৬-০৩-২০১৯
  • biniogkariশেয়ারবাজার ডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ালেও তা স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন না যেতেই শুরু হয়েছে দরপতন, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। দিন দিন পরিস্থিতি আরও নাজুক হচ্ছে। মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করে দেখতে হচ্ছে উল্টো চিত্র। কাজে আসছে না কোম্পানির ইপিএস, পিই-রেশিও কিংবা শেয়ারপ্রতি সম্পদের হিসাব। কোনো ব্যাকরণেই মিলছে না হিসাব। সব মিলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ পরিস্থিতিতে এখন তাদের কি করা উচিত তা বুঝতে পারছেন না কেউ-ই। আতঙ্কে ভুগছেন ছোট-বড় সব শ্রেণির বিনিয়োগকারী।

    প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছরের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচকের অবস্থান ছিল পাঁচ হাজার ৩৮৫। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি সূচক বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে। এরপর থেকেই শুরু হয় পতন, যা এখন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দিন শেষে ডিএসই’র সূচকের অবস্থান হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৫৩ পয়েন্টে। অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সূচকের পতন হয়েছে ২৯৭ পয়েন্ট। এ সময়ে কার্যদিবস ছিল মোট ৩৩ দিন। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে সূচকের পতন হয়েছে ৯ পয়েন্ট করে। অন্যদিকে নতুন বছরে লেনদেন বেড়ে সর্বোচ্চ এক হাজার ১৯৮ কোটি টাকা, বর্তমানে যা নেমে এসেছে ৭০৮ কোটি টাকায়।

    ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কেউই। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চেয়ে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণসহ নতুন-পুরোনো সব বিনিয়োগকারী। ক্যাপিটাল গেইনের আশায় বিনিয়োগ করে বড় ধাক্কা খেয়েছেন তারা। এখন এ বাজার ছেড়ে বের হয়ে যাবেন, তারও কোনো উপায় নেই।

    জানতে চাইলে ডিএসই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী এ প্রসঙ্গে বলেন, পুঁজিবাজারে এখন একটি বৈরী পরিবেশ চলছে এ কথা সত্যি। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের ভেঙে পড়লে চলবে না। ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করেও দেওয়াও ঠিক হবে না। যে কোনো পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে টিকে থাকাই বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীর কাজ।

    একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসই’র এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মৌলভিত্তি নয়, বাজার হয়ে পড়েছে গুজব ও খবরনির্ভর।’ ‘কিছু চক্র ইচ্ছে করেই এমন করছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চক্রগুলো কৌশলে গুজব ছড়িয়ে একটি একটি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়াচ্ছে। ফলে মৌলভিত্তির বিচার ছেড়ে সবাই ঝুঁকে পড়ছেন এসব শেয়ারের দিকে। খেলা শেষ হয়ে গেলে চক্ররা আবার বের হয়ে যাচ্ছে। এসবের প্রভাবে বাজার গতি ফিরে পাচ্ছে না।’

    এদিকে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বাজার কারেকশন বা শেয়ারের দর সংশোধন হবে এটা স্বাভাবিক। সেজন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুতও থাকেন। কিন্তু এর বদলে পুঁজিবাজারে এমন পতন নেমে আসবে তারা ভাবতে পারেননি। তাদের মতে, বাজার খেলোয়াড়রা আবারও সক্রিয় হয়েছেন। তারাই বাজার নিয়ে খেলছেন। আর এ কারণেই বাজার তার স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে। বাজারের লাগাম টেনে ধরার জন্য তারা সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে কথা হয় বিনিয়োগকারী লুৎফর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, গত ২০১০ সালের ধসের রেশ এখনও কাটেনি তার। সেজন্য আগের পোর্টফোলিও সমন্বয় করতে যাননি তিনি। জমানো টাকা নিয়ে সাজান নতুন পোর্টফোলিও। ভেবেছিলেন মাঝেমধ্যে সংশোধন (কারেকশন) হলেও এবার বাজারে ধস নামবে না। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে বদলে গেছে তার এ ধারণা। ইতোমধ্যে আবার লোকসানে পড়েছেন তিনি। চলমান দরপতন শুধু তাকে নয়, লাখ লাখ বিনিয়োগকারীকে আশাহত করেছে। কারেকশনের বদলে ‘ধস’ বিনিয়োগকারীদের সব ভাবনা এলোমেলো করে দিয়েছে। সূত্র: শেয়ার বিজ

    (Visited 8 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *