Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অর্থ ও বাণিজ্য / ‘গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব যুক্তিহীন’ ।। songbadprotidinbd.com

‘গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব যুক্তিহীন’ ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৩-০৩-২০১৯
  • 9efd9e69e752431c5a5747fab6877629-572a0da186954নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবকে ‘যুক্তিহীন’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়ানো নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিকে ‘হাস্যকর’ বলেও উল্লেখ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের টিসিবি চত্বরে আয়োজিত গণশুনানিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা। এ সময় বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামসহ কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘শুধু দাম বাড়ানোর সময় আমাদের ডাকা হবে আর বিশ্ববাজারে দাম কমলে কমানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না, এটি ঠিক নয়। ২০১৯ সালে বিশ্বে গড় গ্যাসের দাম ছিল ৬ দশমিক ৯ ডলার। গত কয়েক বছরে মজুরি ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে আমাদের ব্যয় ২৯ ভাগ বেড়েছে। এখন আবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে উদ্যোক্তারা দেউলিয়া হয়ে যাবে। এছাড়া নতুন শিল্প উদ্যোক্তা তৈরি হবে না। এতে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে।’

    তৈরি পোশাক উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আবেদন করার পর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সবেমাত্র গ্যাস সংযোগ পেতে শুরু করেছে। এখন এই দাম বৃদ্ধি কার স্বার্থে করা হচ্ছে? এই শুনানি হাস্যকর।’ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘আপনারা বারবার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছেন, কিন্তু আমরা যে ইভিসি (ইলেকট্রিক ভলিউম কারেক্টর) মিটার চাচ্ছি তা দুই-তিন বছরেও দিতে পারেননি। ফলে গ্যাসের নিম্নচাপ, অপর্যাপ্ত সরবরাহ, গ্যাসের প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে বিল বেশি দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়লে শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাবি বিইআরসির কাছে দিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’

    সর্বশেষ গ্যাসের দাম বাড়ানোর এক বছর পূরণ হতে এখনো তিন মাস বাকি আছে উল্লেখ করে জাতীয় ভোক্তা সমিতির (ক্যাব) জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘এই অবস্থায় জিটিসিএল দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব করেছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। আগামী এপ্রিলে এলএনজি আসতে পারবে না। এই বিষয়টি সরকার যেমন জানে, বিইআরসিও তা বোঝে। যে গ্যাস আসেইনি, সেই গ্যাসের ওপর ভিত্তি করে দাম বাড়ানো অযৌক্তিক ও অন্যায়।’ জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলে ৭ হাজার ৫০০ কোটি

    টাকা পড়ে রয়েছে জানিয়ে শামসুল বলেন, ‘সরকার যতদিন অর্থ না দেয়, ততদিন সেই তহবিল থেকে ঋণ দিয়ে এলএনজির ব্যয় নির্বাহ করা যায়।’

    এদিনের শুনানিতে তিতাস গ্যাস বিদ্যুতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩ দশমিক ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৭৪ টাকা, সিএনজিতে (সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস) ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ দশমিক ১০ টাকা, প্রি-পেইড মিটারে ৯ দশমিক ১০ (ঘনমিটার) টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ দশমিক ৪১ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। আবাসিকে একক চুলা ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫০ টাকা, দুই চুলা ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৪০ টাকা, সার উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার ২ দশমিক ৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৪৪ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯ দশমিক ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮ দশমিক ০৪ টাকা, শিল্পে ৭ দশমিক ৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ দশমিক ০৫ টাকা, বাণিজ্যিকে ১৭ দশমিক ০৪ টাকার পরিবর্তে ২৪ দশমিক ০৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিতরণ চার্জ বাড়ানোর জন্যও প্রস্তাবনা দিয়েছে তিতাস গ্যাস। চলতি অর্থবছর সমাপ্তির পর প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে তিতাসের বিতরণ চার্জ বৃদ্ধি করা যৌক্তিক হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসির মূল্যায়ন কমিটি।

    এদিকে গ্যাসের দাম গড়ে ১০৩ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে দেশের শিল্পমালিকদের শীর্ষস্থানীয় সব সংগঠনের নেতৃবৃন্দও হাজির ছিলেন। শুনানিকালে তারা দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন। নতুন এ প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে গৃহস্থালী পর্যায়ে দুই বার্নার চুলার জন্য গ্যাসের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। এক বার্নার চুলার দাম ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। এ প্রস্তাবনায় শিল্প ও সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

    গ্যাসের দাম বাড়ানো বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘গ্যাসে বড় অংকের একটা ভর্তুকি দেয় সরকার। সেই ভর্তুকিটা আমরা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এই দাম বাড়ানোতে আমাদের যে লাভ হবে তা নয়।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আরেকটা বিষয় হলো, আমাদের যে গ্যাসের অবস্থা সেটা পূরণ করার জন্য আমরা দামি গ্যাস এলএনজি নিয়ে আসছি। এই এলএনজি আনার জন্য বাড়তি একটি দাম এর মধ্যে যুক্ত হচ্ছে। যার বেশিরভাগ যুক্ত হবে শিল্প ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে। গৃহস্থালীতে এ ব্যাপারটি যুক্ত হওয়ার পরিমাাণ খুব কম। আমরা বিভিন্ন শিল্প কারখানার সঙ্গে কয়েকবার বসেছি। দাম বাড়ানোতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তাদের একটাই দাবি, তারা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস চায়। যে কারণে দাম বাড়ানো।’

     

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ই আ সো / দে রু

    (Visited 6 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *