Templates by BIGtheme NET
Home / সর্বশেষ / ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা ।। songbadprotidinbd.com

ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৫-০১-২০১৯
  • image-57279-1547488641মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মেলা মুখী মানুষের স্রোত। আর কুশিয়ারার তীরজুড়ে মাছের সহস্রাধিক দোকান। এই আয়োজনই জানান দেয় মেলা উপলক্ষে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার। এটি সিলেট বিভাগের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। মেলায় উঠেছে নানা জাতের বিশাল মাছ। এমন অদেখা বড় মাছ দেখতে আর কিনতে দর্শক ক্রেতার কমতি নেই। দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের মাছের এমন সমারোহে যেন ফিরে এসেছে মাছের সেই হারানো সোনালী অতীত। মেলায় এক সাথে বড় আকারের এত মাছ দেখে নতুন আগুন্তুকরা আশ্চর্য হচ্ছেন। তাই বাড়তি কৌতূহল নিবারণে তারা পুরো মাছের মেলা ঘুরে দেখছেন। আর মুঠোফোনের ক্যামেরায় নানা দৃশ্য ধরে রাখছেন।

    মূলত ওখানে দু’রাত আর দু’দিনই ধুম পড়ে মাছ কেনা বেচার। প্রতি বছর মেলায় বিক্রিয় হয় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার মাছ। আর সমাগম ঘটে দেশের নানা প্রান্তের ভোজনবিলাসী লক্ষাধিক মানুষের। এমন তথ্য মেলায় মাছ বিক্রেতা (আড়তদার) ও স্থানীয় মানুষের।

    সোমবার সরেজমিন মৌলভীবাজারের শেরপুরের মাছের মেলা ঘুরে দেখা গেল এমন দৃশ্য। আর পাওয়া গেল মেলা নিয়ে স্থানীয় লোকজন ও মাছ বিক্রেতাদের নানা তথ্য।

    জানা গেল পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে আয়োজন হয়েছিল এ মাছের মেলার। প্রায় দুই শ’বছর পূর্বে মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীর জুড়ে শুরু হয়েছিলো এই মাছের মেলা। ঐতিহ্যের টানে যা এখনো স্থানীয়রা তা ধরে রেখেছেন। তাই প্রতিবছরই মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের পাশে শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীরে এ মাছের মেলার আয়োজন করে স্থানীয়রা। মেলা চলে রাত দিন।

    স্থানীয়রা জানালেন মেলার নির্ধারিত স্থানে নির্দিষ্ট সময়ের এক দু’দিন আগে থেকেই জমে উঠে ইমিটেশন, খেলনা, গৃহস্তালীর প্রয়োজনীয় নানা জিনিষপত্রের দোকান। আর বাদ যায়নি মুড়ি মুড়কি আর মণ্ডা মিঠাইসহ কত কি মুখরোচক খাবার দাবারে আয়োজন। এবছরও তিনদিন ব্যাপী এই মেলা শুরু হয়েছে গেল বুধবার থেকে। চলবে মঙ্গলবার দিন পর্যন্ত। মাছের মেলাটি এখন আনন্দ উৎসবের অন্যতম খোরাক। মেলাস্থল শেরপুর হলো মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার একেবারেই শেষভাগে।

    পশ্চিমে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা উত্তরে কুশিয়ারা নদী। নদী পাড় পেরুলেই সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলা। হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার এই তিনটি জেলার মোহনা হলো শেরপুর। মৎস্য ব্যবসায়ী আর স্থানীয়দের জোর দাবি এটিই দেশের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা। যদিও মেলাটি মাছের মেলা নামে পরিচিত। তারপরও মাছ ছাড়া বিভিন্ন দ্রব্যের কয়েক হাজার দোকান বসে কুশিয়ারা নদীর তীর জুড়ে। মেলায় মাছ ছাড়া বেত-বাঁশ, কাঠ, লোহা ও মাটির তৈরি নানা রকম পণ্য, শিশুদের খেলনা, সবজি-আনাজ অনেক ধরনের লোকজ পণ্য, ফার্নিচার, কৃষি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, নানা জাতের দেশীয় খাবারের দোকানসহ থাকে গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা রং ঢং আর প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সহস্রাধিক দোকান বসে। মেলায় উঠেছে সিলেটের স্থানীয় বিভিন্ন হাওর ও নদীর মাছ।

    কুশিয়ারা, সুরমা ও মনু নদী, হাকালুকি, কাওয়াদিঘি, হাইল ও টাঙগুয়ার হাওর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা বাঘ, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, বোয়াল, গজার, আইড়সহ নানা জাতের দেশীয় প্রজাতির বিশাল বিশাল মাছ নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন। আছে ছোট মাছেরও দোকান।

    সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী ৬০ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছের দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাঁকছেন।

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান প্রায় ১৫ লাখ টাকার বড় বড় বেশ কয়েকটি মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। তার মধ্যে একটি কাতলা মাছ ৬০ কেজি ওজনের যার দাম হাঁকছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তিনি জানান, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর থেকে এই মেলায় বিক্রি করার জন্য কিনে এনেছেন। মাছটির আনুমানিক বয়স ১০/১২ বছর। এই কাতলা পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বড় সাইজের চিতল, রুই, আইর এবং বাঘ মাছ নিয়ে এসেছেন।

    প্রতি বছরের মত এ বছর ও প্রায় ২ শতাধিক মাছের দোকান এবং প্রায় ৩০টি মাছের আড়ত বসেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছ মেলায় বিক্রির নিয়ে এসেছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

    মেলা কমিটির সভাপতি ওলিউর রহমান বলেন-‘উত্তরবঙ্গসহ এই মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় কাতল, রুই, আইর, বোয়ালসহ বিভিন্ন জাত প্রজাতির মাছ আসে। প্রতি বছর ১৬/১৭ কোটি টাকার মাছ ক্রয় বিক্রিয় করা হয়।’

    (Visited 6 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *