Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / লাইফস্টাইল / স্মার্টফোনের প্রভাব: গড়ে উঠছে মানসিকভাবে ভঙ্গুর প্রজন্ম ।। songbadprotidinbd.com

স্মার্টফোনের প্রভাব: গড়ে উঠছে মানসিকভাবে ভঙ্গুর প্রজন্ম ।। songbadprotidinbd.com

  • ২০-১২-২০১৮
  • image-86421লাইফস্টাইল ডেস্কঃ  স্মার্টফোন, বর্তমানের যাপিত জীবনের অন্যতম মূল অনুসঙ্গ। কিন্তু নুতন প্রজন্মের ওপর এ প্রভাব খুব একটা ইতিবাচক নয়, বরং নেতিবাচক।

    যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়াগো স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জ্যাঁ টুয়েঞ্জ মনে করেন, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অসুখী, অসন্তুষ্ট এক আইজেনারেশন তৈরি করছে। আইজেনারেশন, সংক্ষেপে তিনি তাদের আইজেন বলছেন।

    এই আইজেন কারা? এ বিষয়ে ওই মনোবিজ্ঞানী বলেন, ১৯৯৫ সাল ও এর পরে জন্ম নেয়া প্রজন্ম আইজেন প্রজন্ম। এই প্রজন্ম তাদের কিশোর বয়সের অধিকাংশ সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করে কাটায়। তারা প্রচুর সময় অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করে। এসব মাধ্যমে নানা ধরনের গেম খেলেও তারা অনেক সময় পার করে থাকে।

    তিনি বলেন, কিন্তু স্ক্রিনের বাইরে বই পড়া, ঘুমানো বা তাদের বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা করার কাজে অনেক কম সময় ব্যয় করে।

    তিনি আরো বলেন, এসব শিশুর বিকাশের গতি খুবই মন্থর। ১৮ বছর বয়সেও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া, চাকরি করা, মদ্যপান বা অভিভাবক ছাড়া বাইরে বের হওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্য তাদের মনে হয় না। এসব ক্ষেত্রে আগের জেনারেশনের কিশোর-কিশোরীদের তুলনায় তাদের কম যোগ্য মনে হয়।

    এসব কিশোর-কিশোরীর আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে এ মনোবিজ্ঞানী তার গবেষণায় বলেন, ২০১১ ও ২০১২ সালের দিকে কিশোর বয়সের শিশুদের মধ্যে খুব দ্রুত আমি একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করি। তাদের মধ্যে নিঃসঙ্গতাবোধ ক্রমেই বাড়তে দেখি। তারা কোনো কিছু সঠিকভাবে করতে পারে না। তারা ভাবছে তাদের জীবনটা অর্থহীন। আর এসবই হতাশার মূল লক্ষণ।

    এসব ক্ষেত্রে ওই অধ্যাপকের পরামর্শ হচ্ছে, সুখ ও মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের চিন্তা-চেতনার ওপর নির্ভর করে। আর এ বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জন্মগতভাবে শরীরে আমরা যে জিন বহন করছি তা পাল্টানো সম্ভব নয়, যেমন রাতারাতি দারিদ্র্য দূর করার কোনো সমাধান নেই। কিন্তু আমরা আমাদের অবসর সময় কিভাবে ব্যয় করবো সেটা ইচ্ছা করলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এ কাজে আমরা আমাদের শিশুদের সহায়তা করতে পারি।

    এ গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা বা এর কম সময় ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারে। এতে সামাজিক মাধ্যমের সকল সুবিধা যেমন আমরা পাবো তেমনি এর ক্ষতি থেকেও রক্ষা পাবো।

    এদিকে ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো এক বেসরকারি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে ইদানীং দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের ভিড়ই বেশি। শিশু কথা বলতে পারছে না। কারণ বাড়িতে কেউ তার সঙ্গে কথা বলছে না। তার হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে মোবাইল কিংবা ট্যাব। ব্যস্ত বাবা-মাকে সন্তানের হাজারো বায়না সামলাতে হচ্ছে না।

    বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, শিশু কারো সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় কথা শিখছে না। কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে না। সে নিজেকে প্রকাশও করতে পারছে না। প্রাথমিক উপসর্গ দেখে অনেকেই ভেবে নিচ্ছেন অটিজম। পরে বোঝা যাচ্ছে, আসল সমস্যা অন্য। জন্মের কয়েক মাস পর থেকেই ‘স্ক্রিন টাইম’ গ্রাস করেছে তাকে। কলকাতার শিশু চিকিৎসকদের অধিকাংশই জানাচ্ছেন, এই আসক্তি ক্রমশ মহামারীর চেহারা নিচ্ছে।

    কলকাতার শিশু বিষয়ক চিকিৎসক অপূর্ব ঘোষ বলেছেন, ট্যাব-মোবাইল নিয়ে থাকায় পরবর্তী সময়ে শিশুর মনঃসংযোগে বড় ঘাটতি ধরা পড়ে। সে ভাবতে শেখে না, ফলে পড়াশোনায় মন দিতে পারে না। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ট্যাবের আলো তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। সে কারণে হজমের সমস্যাও হয়। সব মিলিয়ে অসামাজিক ও অমনোযোগী শিশুতে পরিণত হয় সে। যার দায় মা-বাবা এড়াতে পারেন না। সূত্র: এএফপি ও আনন্দবাজার পত্রিকা

    (Visited 8 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *