Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / জাতীয় / টার্গেট ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা ।। songbadprotidinbd.com

টার্গেট ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা ।। songbadprotidinbd.com

  • ০৯-১০-২০১৮
  • image-45621-1539091857নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর ২১ আগষ্টের মর্মান্তিক গ্রেনেড হামলার মামলায় রায় হতে যাচ্ছে ১০ অক্টোবর। মামলায় ৪৪ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ হয়েছে। আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে আইনি পয়েন্টে যুক্তি পেশের মধ্যদিয়ে আসামি পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ হয়। আসামি বাবরের পক্ষে সাক্ষ্য তথ্য-প্রমাণের (ফ্যাক্টস) ভিত্তিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ২৯ আগস্ট শেষ হয়েছে। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে একুশে আগস্টের ঘটনায় আনা পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার চলছে।

    এ মামলার প্রসিকিউশনের অন্যতম সদস্য আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল বলেছে, ২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে ৩ জন আসামির অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ৩ আসামি হলেন- জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও শরীফ সাহেদুল আলম বিপুল। এখন ৪৯ আসামির বিচার চলছে। এরমধ্যে এখনো ১৮ জন পলাতক। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলার পরদিন ২২ আগস্ট দন্ডবিধির ১২০/বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ২০১, ১১৮, ১১৯, ২১২, ৩৩০, ২১৮, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মতিঝিল থানার এসআই শরীফ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা (নং-৯৭) দায়ের করেন।

    ২০০৮ সালের ৯ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিএমএম আদালতে দু’টি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির। ওই বছরই মামলা দু’টির কার্যক্রম দ্রুত বিচার আদালত-১ এ স্থানাস্তর করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ২৯/১১ (হত্যা), ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) মামলা দু’টির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে পিডব্লিউডির একটি পুরনো সরকারি ভবনকে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করে এ মামলার বিচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    ভয়াবহ ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার তদন্ত নিয়েও নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। সাজানো হয়েছিল জজ মিয়া নাটক। ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০০৯ সালের ২৫ জুন আদালতের কাছে এ মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে ওই বছরের ৩ আগস্ট আদালত অধিকতর তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেন। অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দকে। তদন্ত শেষে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আবদুস সালাম পিন্টু ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ আরও ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ২ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন আবদুল কাহার আকন্দ। এরপর ৫২ জন আসামির বিরুদ্ধে এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে থাকে।

    এ অবস্থায় যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ মামলার আসামিদের তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। এ মামলায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯। এসব আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১৮ জন। জামিনে রয়েছেন আটজন। আর কারাগারে আছেন ২৩ জন। নারকীয় ওই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তত্কালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। পিন্টুর ভাই হুজি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন এই আক্রমণের জন্য আর্জেস গ্রেনেড সরবরাহ করেছেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

    মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডি সূত্রগুলো জানায়, মুফতি আবদুল হান্নানসহ গ্রেপ্তার হওয়া তাঁর ভাই ও হুজি নেতা মফিজুর রহমান ওরফে অভি, আবুল কালাম আজাদ বুলবুল (ঝিনাইদহ), শরিফ শহিদুল ইসলাম ওরফে বিপুল (সিলেট), মাওলানা আবু সাইদ ওরফে ডা. আবু জাফর (গফরগাঁও), জাহাঙ্গীর আলম (কুষ্টিয়া), হোসাইন আহমেদ ওরফে তামীম (ঝিনাইদহ), আরিফ হাসান ওরফে সুমন (ঢাকা), রফিকুল ইসলাম গাজী ওরফে সবুজকে (মাগুরা) জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিআইডি নিশ্চিত হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল ওই আক্রমণের মূল লক্ষ্য।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর এটা ছিল আওয়ামী লীগের ওপর সবচেয়ে পরিকল্পিত ও বড় আঘাত। ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর মুফতি হান্নানকে ঢাকার বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেলসহ মামলার তদন্তকারীদের কাছে তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা ও তা কারা কীভাবে কার্যকর করেছে, তার বিবরণ দেন।

    পরিকল্পনা ও হামলা হয় যেভাবে মুফতি হান্নানসহ জঙ্গিদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্র মতে, ২০০০ সালে হুজির মজলিশে শুরার সভায় শেখ হাসিনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মুফতি হান্নান জানান, সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর পশ্চিম বাড্ডায় একটি বাসায় সংগঠনের সদস্য আহসান উল্লাহ কাজল (যশোর), আবু জান্দাল, ফরিদপুরের মুরসালিন ও মুত্তাকিন, খুলনার মাওলানা লিটনসহ তিনি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলার বিষয় আলোচনা হয়। বৈঠক থেকে মুফতি হান্নান টেলিফোনে ফরিদপুরের কামাল উদ্দিন শাকের, আবদুর রহমান (বরিশাল), যশোরের মাওলানা মনিরুল ইসলাম মদিনা, মাওলানা রুস্তম আহমেদ ও মুফতি আরিফ বিল¬াহকে (ঝিনাইদহ) বিষয়টি জানান এবং তাদের ঢাকায় আসতে বলেন। অবশ্য তারা ঢাকায় আসেননি। মাওলানা আবু সাইদ (ওরফে ডা. জাফর) সন্ধ্যার পরে এসে ওই বৈঠকে যোগ দেন। পরিকল্পনার কথা শুনে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের হামলার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক দরকার, কিন্তু এ মুহূর্তে আমার কাছে লোক নেই।’

    কাজল জানান, ‘লোক পাওয়া যাবে। এ জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আনস সাহেব ও খেলাফত মজলিসের সাংসদ মুফতি শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলব।’ পরে কাজল টেলিফোনে আনসের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই কাজে (হামলা) তার সহযোগিতা চান। আনস সাহেব তাকে তার মোহাম্মদপুরের বাসায় যেতে বলেন। পরদিন কাজল ওই বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং একই দিন মুফতি শহিদুলের সঙ্গেও দেখা করেন। হামলা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে পরদিন ২০ আগস্ট সকালে একই বাসায় মুফতি হান্নান, আবু সাইদ, লিটন, কাজল ও আবু বকর (যশোর) আবার বৈঠকে বসেন। কারা কারা হামলায় অংশ নেবে, সেখানে তার তালিকা তৈরি করা হয়। বৈঠকে হামলার জন্য অস্ত্র ও টাকা-পয়সার ব্যবস্থা আছে কি না জানতে চাইলে কাজল জানান, গ্রেনেড আছে। টাকার ব্যবস্থাও হবে।

    আদালতে মুফতি হান্নান বলেছেন, এর আগে ওই দিনই তিনি তখনকার উপমন্ত্রী পিন্টুর ধানমন্ডির বাসায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজি ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবু তাহেরও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে মাওলানা তাজউদ্দিন আক্রমণের জন্য তার কাছে গ্রেনেড হস্তান্তর করেন এবং পিন্টু ২০ হাজার টাকা দেন মুফতি আহসান উল্লাহ কাজলের হাতে। হামলার আগের দিন ২০ আগস্ট কাজল ও আবু জান্দাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গিয়ে এলাকা পর্যবেক্ষণ (রেকি) করে আসেন। ২১ আগস্ট সকালে একই বাসায় উল্লিখিত সবাই এবং হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিতরা একত্র হন। সিদ্ধান্ত হয়, মোট ১২ জন হামলায় অংশ নেবে। এতে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাজল ও আবু জান্দাল। এরপর বাড্ডার ওই বাসায় তাঁরা সবাই একসঙ্গে জোহরের নামাজ পড়ে দুপুরের খাবার খান। সেখানে তারা সর্বশেষ বৈঠক করেন। মাওলানা সাইদ জিহাদবিষয়ক বয়ান করেন। তারপর মুফতি হান্নান হামলার জন্য নির্বাচিত ১২ জনের হাতে ১৫টি গ্রেনেড তুলে দেন।

    লেখকঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক কর কমিশনার ও চেয়ারম্যান ন্যাশনাল এফ এফ ফাউন্ডেশন।

    (Visited 12 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *