Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ব্রেকিং নিউজ / ৭ দফা দাবি , ১২ লক্ষ্য ঘোষণা বিএনপির ।। songbadprotidinbd.com

৭ দফা দাবি , ১২ লক্ষ্য ঘোষণা বিএনপির ।। songbadprotidinbd.com

  • ৩০-০৯-২০১৮
  • image-44683-1538312234নিজস্ব প্রতিবেদক: খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানসহ বিরোধী নেতাদের মামলা ও সাজা প্রত্যাহার, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকারে এবং জনসভায় ঘোষিত ৭ দফা দাবি ও ১২ লক্ষ্য অর্জনের দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি’ উপলক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিরোধী নেতাদের মামলা ও সাজা প্রত্যাহার, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি এবং আমাদের দাবি ও লক্ষ্য অর্জনের দাবিতে আগামী ৩ অক্টোবর সারাদেশের সকল জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরে সমাবেশ থেকে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমের সরকারকে বাধ্য করা হবে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে।

    তিনি আরো বলেন, দেশকে রক্ষা করার জন্য বেগম জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য আমরা ৭ দফা দাবি ঘোষণা করছি। দাবিগুলো হলো:

    ১. খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি ও মামলা প্রত্যাহার

    ২. জাতীয় সংসদ বাতিল করা

    ৩. সরকারের পদত্যাগ ও সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করা

    ৪. যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ইভিএম ব্যবহার না করার বিধান নিশ্চিত করা।

    ৫. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগ করা।

    ৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে কোনো বিধি নিষেধ আরোপ না করা।

    ৭.

    (ক) সব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,

    (খ) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো মামলা না দেয়া

    (গ) পুরোনো মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার না করা,(ঘ) কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি।

    ক্ষমতায় এলে কী করতে চায় বিএনপি-এজন্য ১২ টি লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়। এগুলো হলো: জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে ন্যায় ভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন, প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রতিষ্ঠিত করা, রাষ্ট্র ক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত করা, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ এবং বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা, সশস্ত্র বাহিনীকে আরো আধুনিক শক্তিশালী ও কার্যক্রম করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন কমিশন রাজনৈতিক মুক্ত ও আরো কার্যক্রম করা, জনগণের জনমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা, সকলের সাথে বন্ধুত্ব ও কারো সাথে বৈরিতা নয়, জাতীয় নীতিকে অক্ষুণ্ন রেখে স্বাধীনতা ও পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা, সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় না দেয়া, কোন জঙ্গিগোষ্ঠিকে বাংলাদেশে ভূমি ব্যবহার করতে না দেয়া, নিম্নমানের নাগরিকদের মানবিক মান নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্যের সাথে বেতন মজুরি নির্ধারণ, আয়ের বৈষম্যের সাথে ক্ষমতা ভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা, কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করা, জীবনমুখী শিক্ষানীতি চালু করা, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়ন, সকলের সম্পদ-জীবন পূর্ণ নিশ্চিত করা, তৈরি পোশাক উন্নয়ন ও শিল্প রপ্তানিখাতকে বহুমুখী, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, তরুণদের চিন্তা-চেতনাকে বিকাশ, জাতীয় ঐক্যমত গঠন করা।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‌‘আমাদের এই দাবির প্রতি যদি আপনাদের সমর্থন থাকে তাহলে দুই হাত তুলে সমর্থন করুন। এসময় নেতাকর্মীরা দুই হাত তুলে সমর্থন জানা ‘।

    জনসভার ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার নাম ছিল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মুজিবর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।

    এর আগে দুপুর ১২টায় জাসাস কর্মীরা সম্মিলিত গণসংগীত পরিবেশন করেন। জনসভাকে ঘিরে সকাল ১০টা থেকে ঢাকা মহানগরী এবং আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হন। এসময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন।

    এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। জনসভাকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শিল্পকলা, শাহবাগ মোড় ও রমনা পার্কে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়।

    (Visited 8 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *