Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / এসেছে বৈশাখ আসবে নতুন দিন… বাঙালির বর্ষবরণ আজ

এসেছে বৈশাখ আসবে নতুন দিন… বাঙালির বর্ষবরণ আজ

  • ১৪-০৪-২০১৬
  • আজ সকালের সূর্য আনন্দের আলো ছড়িয়ে হাজির হবে বাঙালির জীবনে। আজ পহেলা বৈশাখ। গানের সুরে মন রাঙিয়ে মানুষ বরণ করবে নতুন বঙ্গাব্দ ১৪২৩-কে। গানের সুরে – ‘এসো হে, বৈশাখ এসো এসো/ তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,/ বত্সরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক’।

    দুঃখ-কষ্ট আর আনন্দ তো মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু মানুষের সম্মিলিত যাত্রা আলোকিত জীবনের দিকে। নতুন বছরে সেই আলোকিত দিন সবার জীবেন বিরাজ করবে- নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সে প্রার্থনাই করবে সকলে। জাতীয় জীবনে অগ্রগতি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির মাঝেও অশিক্ষা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, দমন-পীড়ন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে। হত্যা, ধর্ষণ, এসব বেশকিছুদিন ধরেই দেশের মানুষকে আলোড়িত করেছে। আজ নতুন বছরে সেইসব অন্যায়কে দূরে সরিয়ে শান্তি ও মুক্তির প্রত্যাশাই জানাবে সবাই। কালবৈশাখী ঝড় এসে যেন অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে নতুন জীবনকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে সে আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ পাবে মানুষের হূদয়ে।

    ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!/ তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!/ ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতার ভিতর দিয়েই নতুন বছরে সব অপ্রাপ্তি ভুলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করার সাহস পাবে বাঙালি। ছায়ানট তাই আজ তাদের অনুষ্ঠানে গাইবে মানবতার গান। কবিতার পংক্তিমালায় উচ্চারণ করবে মানবতার জয়গান। মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার ফুটিয়ে তোলা হবে- মা শিশুর সম্পর্কের মাহাত্ম্যকে। আরো অসংখ্য সংগঠন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের আনাচে-কানাচে বরণ করবে নতুন বছরের প্রথম দিনটিকে।

    বাংলা বর্ষের প্রচলন

    প্রাচীন যুগে ‘বাংলা সনের’ প্রথম মাস ছিল অগ্রহায়ণ। একসময় বাংলায় ‘নববর্ষ’ পালিত হত আর্তব উত্সব বা ঋতুধর্মী উত্সব হিসাবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষি কাজ ঋতুনির্ভর। এই ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর আদায়ের সুবিধার জন্য মোগল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। হিজরি চান্দ্র সন ও বাংলা সৌর সনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। আর তা কার্যকর হয় তার সিংহাসনে আরোহণের সময় থেকে অর্থাত্ ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর থেকে। প্রথমে এ সন ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। আর বৈশাখ নামটি নেয়া হয়েছিল নক্ষত্র ‘বিশাখা’র নাম থেকে, বিশাখা থেকে নাম হল বৈশাখ। ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ সামাজিক জীবনে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে গেছে। সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার ও অন্যান্য ভূস্বামীদের খাজনা পরিশোধ করতো। পরদিন নববর্ষে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতো। এ উপলক্ষে বিভিন্নস্থানে মেলাসহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো।

    পহেলা বৈশাখের উত্সবের শুরুটা সেই আকবর আমলেই। এ দিনে তিনি মিলিত হতেন প্রজাদের সঙ্গে। সবার শুভ কামনা করে চারদিকে বিতরণ করা হ’ত মিষ্টি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে বর্ষবরণ উত্সব চলে আসে জমিদার বাড়ির আঙিনায়। খাজনা আদায়ের মতো একটি রসহীন বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় গান-বাজনা, মেলা আর হালখাতা। ‘হালখাতা’ রয়েছে। দেশের ব্যবসায়ী মহলে ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠান মানে নতুন অর্থবছরের হিসাব খোলা।

    পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ জাতীয় ছুটির দিন। সংবাদপত্রগুলোও প্রকাশ করছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সকল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে।

    রাষ্ট্রপ্রতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

    পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বাণী দিয়েছেন। বাণী দিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ।

    রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের আবেদন চিরন্তন ও সর্বজনীন। অতীতের সব গ্লানি ও বিভেদ ভুলে বাংলা নববর্ষ জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমাদের ঐক্য ও সংহতি আরো সুদৃঢ় করবে, অফুরন্ত আনন্দের বারতা বয়ে আনবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পহেলা বৈশাখে বাঙালি সংস্কৃতির এ চর্চা আমাদের জাতিসত্তাকে আরো বিকশিত করবে। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি যোগাবে।

    জাতীয় পার্টি- জেপির শুভেচ্ছা

    জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় এইদিনে দেশবাসী আপামর জনগণের সুখ সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন। বাংলা নববর্ষকে আমাদের জাতীয় উত্সবের এক অন্যন্য দিন হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, এই দিনটি জাতি অতীতের গ্লানি ভুলে গিয়ে পালন করেন ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে। সমগ্র বাঙালি জাতি এইদিন একাত্ম হয় এবং একটি অখণ্ড জাতীয়তা বোধের স্ফুরণ ঘটে। এরকম একটি দিনে আমরা আশা করব সমগ্র জাতি অতীতের গ্লানি ও ক্লেশ মুছে ফেলে অগ্রগতির সম্মিলিত ধারায় প্রত্যাবর্তন করবে। আমরা মনে করি- এটি একটি কেবল উত্সবের দিনই নয় প্রতিটি বাঙালির উজ্জ্বলতর ভবিষ্যত্ কামনারও দিন। নতুন এই বছরটি শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের হোক এটাই আমাদের কামনা।

    (Visited 8 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *