Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা খুদে ফুটবলারদের রোমহর্ষক গল্প ।। songbadprotidinbd.com

মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা খুদে ফুটবলারদের রোমহর্ষক গল্প ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৯-০৭-২০১৮
  • image-38306-1531946685সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ টানা ১৭ দিন গুহায় আটকে থাকা থাইল্যান্ডের কিশোর ফুটবলাররা অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে৷ প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেছে, না খেয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর আশঙ্কা দূরে রাখার রোমহর্ষক সেই দিনগুলোর গল্প৷

        ২৩ জুন থেকে ৯ জুলাই – টানা ১৭ দিন উত্তর থাইল্যান্ডের এক গুহায় আটক ছিল ‘’ ফুটবল দলের ১২ জন কিশোর ফুটবলার এবং তাদের ২৫ বছর বয়সি কোচ৷ তিন দিনের ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান শেষ হয় ১০ জুলাই৷ শেষ হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৩টি প্রাণ বাঁচানোর মানবিক দায়িত্ব৷ ১০ জুলাই সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অবশ্য তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি৷ গুহা থেকে উদ্ধার করেই সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে৷ কিশোর ফুটবলারদের পরিবার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকায় গত এক সপ্তাহ সংবাদমাধ্যমও জানতে পারেনি বিভীষিকাময় ১৭টি দিনের কথা৷ মঙ্গলবার অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সারা দেশে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয় ফুটবলাররা৷ সেই সুবাদে ওই ১৭ দিনের অজানা কথাগুলোও জানা হয়ে যায় সবার৷

    ‘থাইল্যান্ড মুভস ফরোয়ার্ড’ নামের সরকারি এক অনুষ্ঠানের সেটটি সাজানো হয়েছিল পূর্ণাঙ্গ এক ফুটবল মাঠের আদলে৷ সেখানে ফুটবল নিয়ে এসে সেই ফুটবলে লাথিদিয়েই কথা শুরু করে কিশোর ফুটবলাররা৷ নিজেদের বেঁচে থাকার গল্প শোনানোর আগে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ দেয়া এক উদ্ধারকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধাও জানিয়েছে তারা৷

    ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সি ১২ জন ফুটবলার এবং তাদের কোচের ১৭ দিন ধরে শুধু একটা চিন্তাই মাথায় ঘুরপাক খেয়েছে – বাঁচতে হবে আর বাঁচতে হলে গভীর গুহা থেকে বেরোনোর পথ বের করতেই হবে৷ গুহায় তখন জল থৈ থৈ৷ আরেকবার বৃষ্টি শুরু হলেই পানির উচ্চতা বাড়বে আর তাতেই সলিল সমাধি হবে সবার৷ তাই কিশোরদের কেউ কেউ গুহা খুঁড়ে পথ করার চেষ্টাও করেছে৷ সঙ্গে কোনো খাবার ছিল না৷ তাই না খেয়ে খেয়ে শরীর তখন ভীষণ দুর্বল৷ মন তবু বলছিল, ‘‘বের হওয়ার পথ করতে পারবোই৷” কোচ জানালেন, ‘‘যখন মনে হলো কর্তৃপক্ষ আমাদের উদ্ধার করবে সেই অপেক্ষায় বসে থাকা ঠিক হবে না, তখন আমরা নিজেরাই মাটি খুঁড়ে পথ করার চেষ্টা শুরু করি৷” এক কিশোর জনায়, অনেক চেষ্টায় সে তিন ফুট খুঁড়তে পেরেছিল৷

    শেষ পর্যন্ত আর মাটি খুঁড়ে বেরিয়ে আসার অসম্ভব চেষ্টায় প্রাণপাত করতে হয়নি তাদের৷ তার আগেই সফলভাবে শেষ হয় কষ্টসাধ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান৷ তারপর থেকে চলেছে চিকিৎসা৷ সাত দিনের চিকিৎসায় এখন সবাই বেশ সুস্থ৷ বার্তা সংস্থা ডিপিএ-কে এক ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বলেছেন, ‘‘আমরা অনেকগুলো ডাক্তারি পরীক্ষা করে দেখেছি ওরা এখন সুস্থ আছে৷ এখন সমাজের যে কোনো চাপ সহ্য করার মানসিক শক্তিও হয়েছে ওদের৷ আর কোনো চিন্তা নেই৷ ওরা এখন বাড়ি ফিরতে পারে৷”

    থাইল্যান্ডে টানা ১৭ দিন গুহায় আটকে থাকার পর উদ্ধার হওয়া দেশটির ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ নিজেদের বেঁচে থাকার গল্প শুনিয়েছে। জীবন-মরণের লড়াই শেষে ওয়াইল্ড বোয়ারস ফুটবল দল বুধবার প্রথম জনসমক্ষে আসে।

    অনুষ্ঠানে এক কিশোর তার অভিজ্ঞতার বর্ণনায় বলেছে, তখন আমি সবাইকে বলেছিলাম লড়াই চালিয়ে যাও, হতাশ হবে না।

    টিন নামে এক কিশোর জানায়, তারা শুধু পানি খেয়েছে। প্রথম দিন সুস্থই ছিল। কিন্তু দুই দিন পর ক্লান্ত হয়ে পড়তে শুরু করে তারা।

    দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য তিতান বলেছে, আমার কোনো শক্তি ছিল না। আমি খাবারের কথা না ভাবার চেষ্টা করেছি।

    আরেক কিশোর বলেছে, বাড়ি ফিরতে পারব না ভেবে আমার ভয় লাগছিল। বার বার মনে হচ্ছিল মা বকুনি দেবে।

    আদুল স্যাম-অন নামে ১৪ বছরের আরেক কিশোর ডুবুরিরা যখন তাদের খুঁজে পেল সেই মুহূর্তকে ম্যাজিক বলে বর্ণনা করে। সে বলে, এটি ছিল জাদুকরী ব্যাপার।

    ‘ওয়াইল্ড বোয়ার’ নামক ওই কিশোর ফুটবল দল ও তাদের কোচ গত ২৩ জুলাই থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই প্রদেশের ‘থাম লুয়াং’গুহায় প্রবেশের পর নিখোঁজ হয়।

    এরপর গত ৮ জুলাই কিশোরদের গুহার বাইরে বের করে আনার অভিযান শুরু হয়। ওইদিন চার কিশোর, পরদিন চার কিশোর এবং তারপর দিন চার কিশোর ও তাদের কোচকে বের করে আনা হয়। গত ১০ জুলাই সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দেশি –বিদেশি মিলিয়ে প্রায় হাজারখানেক ডুবুরি ওই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।

    দলটির কোচ এক্কাপোল চ্যাংটাওয়াং বলেন, কিশোরদের বের করে আনার সময় তাদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করা হয়নি। বরং যাদের বাড়ি গুহা থেকে দূরে তাদেরকে প্রথমে বের করা হয়েছে।

    কিশোররা জানায়, তারা ফুটবল অনুশীলন শেষে এক ঘণ্টা গুহার ভেতর ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে গুহায় তারা আটকা পড়ে যায়।

    কোচ এক্কাপল বলেন, আমরা গুহার দেয়াল খোঁড়ার চেষ্টা করেছি। পাথর দিয়ে দেয়ালের প্রায় ৩/৪ মিটার খুঁড়ে ফেলতে পেরেছিল বলে জানায় এক কিশোর। তবে তাদের চেষ্টা কোনো ফল বয়ে আনেনি।

    (Visited 9 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *