Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সারাবাংলা / চট্টগ্রাম / অভিযোগের শেষ নেই চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে ।। songbadprotidinbd.com

অভিযোগের শেষ নেই চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে ।। songbadprotidinbd.com

  • ০৩-০৭-২০১৮
  • image-57693-1530473474সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের লাইসেন্সে ত্রুটি আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডাক্তার কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন। সাংবাদিক রুবেল খানের ঘরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নানান খেলনা, নেই শুধু রাইফা। একমাত্র মেয়ের গলা ব্যথার চিকিৎসা করাতে মা-বাবা ছুটে গিয়েছিলেন অত্যাধুনিক নামে পরিচিত ম্যাক্স হাসাপাতালে। সেখানে ভুল চিকিৎসার শিকার হন রাইফা। মধ্যরাতে অসহায় মেয়েকে নিয়ে রুবেল খান হাসাপাতালে দৌড়াদৌড়ি করলেও পাননি কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা। অদক্ষ ডাক্তারদের কবলে পড়ে হারাতে হলো নিষ্পাপ শিশুটিকে। একমাত্র মেয়ে রাইফাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা দুজনই। রুবেল চিৎকার করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।’ অনুসন্ধানে জানা গেছে এই হাসপাতালের লাইসেন্সে ত্রুটি রয়েছে। এ ছাড়া এখানে রোগীরা অহরহ ভুল চিকিৎসার শিকার হন। রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করা হয় অপ্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার বিল। তবে ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা রোগীদের সেবায় কোনো গাফিলতি করেন না।

    চট্টগ্রাম নগরের ম্যাক্স হাসপাতালে নেওয়া হয় জ্বর আক্রান্ত নমনী সরকারকে। সেখানে নেওয়া পরপরই ম্যালেরিয়া অনুমান করে তাকে ইনজেকশন পুশ করেন চিকিৎসক। তবে চারটি ডাক্তারি পরীক্ষা দিলেও তাতে কিছুই মেলেনি। তবে ইনজেকশন পুশ করার দুই দিন পর চিকিৎসকরা জানান, এই শিশুর লিভার, কিডনি, রক্ত কিছুই ঠিক নেই। সবই নষ্ট হয়ে গেছে। পরে ১৪ বছরের নমনীকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়ার পর স্বজনরা জানতে পারেন, তার ডেঙ্গু হয়েছিল।

    ম্যাক্সে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের ফলে নমনী জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তার মা মনশ্রী সরকার। চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বসবাস করে নমনী সরকারের পরিবার। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে জ্বরে আক্রান্ত হন নমনী। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে সাত-আট দিনেও জ্বর না কমায় গত ৩০ মে নগরের ম্যাক্স হাসপাতালে প্রাইভেট চিকিৎসক দেখানোর জন্য নমনীকে নিয়ে যান তার অভিভাবকরা। নমনীর পরিবারের অভিযোগ, প্রাইভেট চিকিৎসক দেখানোর জন্য গেলেও নমনীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন দায়িত্বরত চিকিৎসক ধারণা করে বলেন, তার ম্যালেরিয়া হয়েছে। ওই ধারণার ওপর তারা একটি স্যালাইন দেন, স্যালাইনে একটি ইনজেকশন পুশ করা হয়। কিন্তু ওই ইনজেকশন কী সেটা নমনীর অভিভাবকরা জানেন না। ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা ডোজ দেওয়া হয়। এতে মেয়ের শরীর একদম ঠান্ডা হয়ে যায়।

    এরই মধ্যে ভর্তি হয়ে কেবিন নিতে চাপ দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। কেবিনে নেওয়ার পর সেখানে সেই স্যালাইনটা ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করানো হচ্ছিল। এমন সময় হাসপাতালের দায়িত্বরতরা জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। তাদের কথামতো ম্যাক্স হাসপাতালে এক্সরেসহ চারটি পরীক্ষা করানো হয়। এসব পরীক্ষার রিপোর্টে কোনো রোগ ধরা পড়েনি। নমনী সরকারের মা বনশ্রী সরকার বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই ইনজেকশন দেওয়ার সময় আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, এটা কীসের ইনজেকশন? তখন বলেছে এটা জ্বর কমানোর ইনজেকশন। আপনার মেয়ের জ্বর, সেজন্য এই ইনজেকশনটি দেওয়া হয়েছে। সেটির নাম আমরা জানি না। ইনজেকশন দেওয়ার পর একটা ডোজ দেওয়া হয়। জ্বর ইনজেকশনে কমলে তো ডোজ দেওয়ার দরকার নেই। তারপরও দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের শরীর ঠা-া হয়ে যায়। তিনি বলেন, সেদিন ম্যাক্সের ভেতর আলট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে করিয়েছে। রিপোর্টগুলো আসার পর দেখলাম, হার্টসহ সবকিছু ঠিক আছে। শেষ রাতে দেখি মেয়ের শ্বাসকষ্ট। রাত ৪-৫টার দিকে শ্বাস নিতে পারে না। ওর আব্বুকে ডাকছিল, বলছিল আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তখন দায়িত্বরত চিকিৎসককে আমরা জানালে তিনি কেবিনে নরমাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেন। কাজ না হওয়ায় তারা বলেন, আইসিইউতে নিয়ে যান। ‘কেন আইসিইউতে নেব এখন? অ´িজেনের মাস্ক তো দিতে পারেন। তখন বলে না এই অক্সিজেনে কাজ হবে না, আইসিইউতে নিয়ে যান। তারাই আইসিইউতে নিয়ে যায়। সকালে আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলি, কী সমস্যা মেয়ের? তখন ডাক্তার বলেন, আপনার মেয়ের তো লাঞ্চের সমস্যা, হার্টের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, রক্তে সমস্যাÑ সব নষ্ট হয়ে গেছে।’

    bg20180702194449চিকিৎসকের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যান নমনী সরকারের মা বনশ্রী সরকার। বনশ্রী বলেন, নিরূপায় হয়ে ওদের কথাগুলো শুনলাম। তখন তারা বলেন, এই সমস্যাগুলোর জন্য আমরা ওষুধ চালাচ্ছি। সেদিন সকাল ৯টায় একজন শিশু বিশেষজ্ঞ আসার কথা ছিল। এই ডাক্তার আসতে আসতে রাত ১০-১১টা বেজে গেল। তারপর রিপোর্ট দেখে তারা বললেন, চার-পাঁচজন ডাক্তার নিয়ে বোর্ড মিটিং বসাবেন। তিনি বলেন, মিটিং বসার পর বলেছে ৪০ ব্যাগ রক্ত লাগবে আমার মেয়ের জন্য। আমরা তখন জানতে চেয়েছিলাম, কেন এত ব্যাগ রক্ত লাগবে? তখন বলছে, ওর ব্লাড সেল নষ্ট হয়ে গেছে। রক্তে ভাইরাস। তখন আমরা বলেছি, ঠিক আছে, আমরা এখানে রাখব না। তখন তারা বলেছেন, নিতে পারবেন না আপনারা অক্সিজেন ছাড়া। বনশ্রী সরকার বলেন, তাদের কথা সুবিধার না হওয়ায় ১ জুন রাত ১২টায় ম্যাক্স থেকে চলে আসি আমরা। এরপর আমরা ঢাকায় অ্যাপোলোতে নিয়ে গেলাম। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মতো চিকিৎসা করেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ধরা পড়েছে ডেঙ্গু। কিন্তু ম্যাক্সে বলা হয়েছিল, ম্যালেরিয়া। আনুমানিক ম্যালেরিয়া ধারণা করেই তারা ইনজেকশনটা পুশ করেছিল। এটার কোনো রিপোর্ট ম্যাক্স দেয়নি, কোনো প্রমাণ রাখেনি। ইনজেকশনটা দেওয়ার পরে তার শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। প্রথম এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাফ, সব ঠিক ছিল। পরে নানা সমস্যার কথা বলে যে রিপোর্ট দেওয়া হয়, সেগুলো দুইদিন পর দেওয়া হয়েছিল।

    ‘ভুল ইনজেকশনটা দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে ঢাকা অ্যাপোলোতে। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, অ্যাপোলোতে পরীক্ষার পর রিপোর্ট আসছে ডেঙ্গু। আর ম্যালেরিয়া অনুমান করে ইনজেকশন দেন ম্যাক্সের ডাক্তাররা, এ রকম কোনো আজগুবি চিকিৎসা কী আছে? এদিকে চট্টগ্রামের বড় মাপের একজন রাজনৈতিক নেতারও ভুল চিকিৎসা করা হয় ম্যাক্স হাসপাতালে। নেতা হাসিমুখে ঢুকেছিলেন ম্যাক্সে চেক-আপ করানোর জন্য। কিন্ত তাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি ‘কোমায়’ চলে যান। বিষয়টি কৌশলে চাপা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ctg-1-20180703090506গত শুক্রবার রাতে দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা খান ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। রাইফার মৃত্যুর পর তার পরিবার ও সাংবাদিকরা চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্তে রোববার রাতে ম্যাক্স হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) কাজী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, হাসপাতালটি নিবন্ধনে ত্রুটি আছে। বিধি মোতাবেক নোটিশ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    এদিকে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান। তার দাবি, রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবাই তারা দিয়ে আসছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরের চিত্র ভিন্ন। তারা মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়ে রোগী ভর্তি করান। এরপর পর শুরু হয়ে যায় বাণিজ্য। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার বিল আদায় করে নিঃস্ব করা হয়। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলেও এক দল ডাক্তারের হুমকি-ধমকিতে কেউ দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আঙুল তুলতে সাহস পান না। ব্যবসা করার জন্য এরা চিকিৎসার মতো সেবাধর্মী পেশাকে ব্যবহার করছেন।

    শুধু ম্যাক্স নয়, চট্টগ্রামের আরো বেশ কয়েকটি বেসরকারী হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, রোগী মারা যাওয়ার পর লাশ নিয়ে ব্যবসা করার। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এভাবে আর কতদিন ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে মরতে হবে রোগীদের।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডট কম / ই আ সো / প্র স 

    (Visited 11 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *