Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / আইন ও অপরাধ / হলি আর্টিজান হামলা: ধরা-ছোঁয়ার বাইরে দুই জঙ্গি ।। songbadprotidinbd.com

হলি আর্টিজান হামলা: ধরা-ছোঁয়ার বাইরে দুই জঙ্গি ।। songbadprotidinbd.com

  • ০১-০৭-২০১৮
  • holy-30-6-2018-1368088521সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  হলি আর্টিজানে হামলার দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ভয়ঙ্কর সেই হামলার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন দুই জঙ্গি। তারা হলেন জঙ্গি হামলার সামরিক কমান্ডার শরিফুল ইসলাম খালিদ ও মামুনুর রশিদ রিপন।

    ঘটনার পর তারা পালিয়ে যান বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য। অবশ্য তারা দেশে নাকি বিদেশে আছেন এবং কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আছেন, সে বিষয়ে এখনো কিছুই জানতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, ভয়ঙ্কর সেই পলাতক দুই জঙ্গি দেশেই আছেন আত্মগোপন করে। খুব দ্রুতই আলোচিত এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিট প্রদান করা হবে। তাতে পলাতক দুই জঙ্গির নামও থাকবে বলে জানা গেছে।

    মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, মামলায় নব্য জেএমবির মামুনুর রশীদ রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালিদকে পলাতক দেখিয়ে চার্জশিট প্রদান করা হবে। তবে সন্দেহভাজন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজাউল করিমকে এই মামলায় আসামি করা হবে কি না সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তারা।

    অন্যদিকে এ ঘটনায় আরেক সন্দেহভাজন কানাডা প্রবাসী তাহমিদ হাসিব খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। যদিও তার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে আলোচিত এই মামলার আসামির তালিকা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযানের সময় নিহত হলি আর্টিজানের শেফ সাইফুল ইসলামের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সাইফুলের বিরুদ্ধে প্রথম দিকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনী। তদন্তে তারও কোনো সত্যতা মেলেনি বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার জন্য নব্য জেএমবির পাঁচজন ‘ইসাবা’ বা হামলাকারী বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সামরিক কমান্ডার শরিফুল ইসলাম ওরফে খালিদকে। ঢাকার সামরিক কমান্ডার আবু রায়হান ওরফে তারেক তিনজনের নাম দেন। তারা হলেন—রোহান ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম ও মীর সামীহ মোবাশ্বের। আর উত্তরবঙ্গের কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী দেন শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ ও খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাঁধনের নাম। রাজীব গান্ধী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের শরিফুল ইসলাম ওরফে ডনের নামও দিয়েছিলেন, যাকে গুলশান হামলায় না পাঠিয়ে শোলাকিয়ার হামলায় পাঠানো হয়েছিল। ওই হামলায় আহত অবস্থায় গ্রেফতার হওয়ার পর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ডন।

    তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’ এ হামলা পরিচালনা করেছে। হামলা পরিচালনা করেই তারা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের আদলে ঘোষণা দেয়। এটিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘হোম গ্রোন’ বা দেশীয়ভাবে জন্ম নেওয়া জঙ্গি সংগঠন বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদের সঙ্গে বিদেশি আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা মেলেনি। তবে হামলাকারীরা ভার্চ্যুয়াল জগতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অনুসরণ করত বলেও মনে করেন তারা।

    পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২২ জঙ্গির মধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি ১৩ জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। তবে এখনো দুই জঙ্গি পলাতক। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তারা।

    সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘হলি আর্টিজানের হামলা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছিল। এই ষড়যন্ত্রের মামলা এতটাই ব্যাপক ছিল যে এতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অনেক লোক জড়িত ছিল। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, কে কোন দায়িত্ব পালন করেছে, ফিজিক্যাল এভিডেন্স, কেমিক্যাল রিপোর্ট, বিশেষজ্ঞদের মতামত ইত্যাদির কারণে তদন্ত একটু সময়সাপেক্ষ হয়েছে। তবে আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।’

    এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। এ পর্যন্ত সাত জঙ্গি আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সাত জঙ্গি হলেন—রাকিবুল হাসান রিগ্যান, পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী, হাদিসুর রহমান সাগর, অস্ত্র সরবরাহকারী মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, পৃষ্ঠপোষক আকরাম হোসেন নিলয়, সংগঠক সোহেল মাহফুজ ও রাশেদুল ইসলাম র‌্যাশ। এদের মধ্যে পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত খালিদ ও রিপন ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

    এ ছাড়াও এ মামলায় কানাডার টরেন্টো ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসিব খান, তার বান্ধবী ফাইরুজ মালিহা, তাহানা তাসমিয়া, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ ফ্যাকাল্টির সাবেক শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজাউল করিমের স্ত্রী শারমিনা করিম, ভারতীয় নাগরিক সাত প্রকাশ, জাপানি নাগরিকের গাড়িচালক আব্দুর রাজ্জাক রানা, হলি আর্টিজানের নিরাপত্তা কর্মী জসিম, হলি আর্টিজান বেকারির কর্মচারী শাহরিয়ার, সহকারী কুক আকাশ খান, ওয়েটার লাজারুস সরেন, সুমন রেজা, সবুজ, শিশির, সুহিন ও সমীর বাড়ৈ প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন।

    সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, ওই হামলায় তামিম ও সরোয়ার জাহান মানিকসহ ২২ জঙ্গির জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সিটিটিসি ইউনিট। এই ২২ জনের মধ্যে ১৩ জন নিহত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে। হামলার পর প্যারা কমান্ডোদের অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত হয় রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামীহ মোবাশ্বীর, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম পায়েল।

    ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরে অভিযানে নিহত হন আবু রায়হান তারেক। ওই বছরের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় অভিযানে নিহত হন তামিম আহমেদ চৌধুরী। পরে রাজধানীর রূপনগরে মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, আজিমপুরে তানভীর কাদেরী, আশুলিয়ায় সরোয়ার জাহান মানিক, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে নূরুল ইসলাম মারজান নিহত হন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অভিযানে নিহত হন বাশারুজ্জামান চকলেট ও ছোট মিজান।

    আসামিরা জবানবন্দীতে জানিয়েছেন, হামলার তিন দিন আগে নিবরাস ও রোহান ইমতিয়াজ দলের নেতাদের হলি আর্টিজানের ব্যাপারে তথ্য দেন। ২৭ জুন তারা মারজানকে নিয়ে প্রথম হলি আর্টিজান রেকি করেন। পরদিন রেকি করেন বাশারুজ্জামান, উজ্জ্বল ও পায়েল। ওই রাতেই তামিমসহ নেতারা বারিধারায় তানভীর কাদেরীর বাসায় বসে চূড়ান্ত ছক কষেন। তামিম নিজেও হলি আর্টিজান রেকি করে ২৯ জুন সন্ধ্যায় রোহান ইমতিয়াজকে হামলার নেতা নির্বাচিত করেন। এর আগে গুলশানের কাছাকাছি বারিধারায় বাসা ভাড়া নেয় তানভীর কাদেরী।

    তারা জবানবন্দীতে আরও জানান, ২০১৬ সালের ১ জুন সপরিবারে ওই বাসায় ওঠেন কাদেরী। ৭ জুন সেখানে ওঠেন বাশারুজ্জামান চকলেট। ৮ জুন পাঁচ হামলাকারীকে নিয়ে সেখানে যান মারজান ও তার স্ত্রী। ১১ জুন যান তামিম চৌধুরী। পরে মারজান পাঁচটি ব্যাগে পিস্তল, একে-২২ রাইফেল, চাপাতি ও বোমা নিয়ে যান। ১ জুলাই পর্যন্ত তারা ওই বাসায় ছিলেন। বড় একটি কক্ষে পাঁচজনকে নিয়ে তামিম থাকত। ৩০ জুন সকালে তানভীর কাদেরীর বাসায় গিয়ে পরদিন হলি আর্টিজানে হামলার চূড়ান্ত ঘোষণা এবং কিছু নির্দেশনা দেন সরোয়ার জাহান।

    ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ৯ জন ইতালির নাগরিক, সাতজন জাপানি নাগরিক, একজন ভারতের নাগরিক, তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক ও দুজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৩ জন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর অপরাশেন থান্ডার বোল্ড অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হন।

    (Visited 15 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *