Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / কর্পোরেট নিউজ / আম্বিয়া গ্রুপের পাঁচ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৩০০ কোটি টাকা ।। songbadprotidinbd.com

আম্বিয়া গ্রুপের পাঁচ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৩০০ কোটি টাকা ।। songbadprotidinbd.com

  • ২৮-০৬-২০১৮
  • LDডেস্ক রির্পোট: চট্টগ্রামের উদীয়মান শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘আম্বিয়া গ্রুপ’ ডুবতে বসেছে। একসময় জাহাজ ভাঙা, ইস্পাত, তৈরি পোশাক, কাগজ ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে ভালো ব্যবসা করলেও বর্তমানে গ্রুপটির অবস্থা খুবই নাজুক। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রুপটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। মূল কর্ণধার আবুল কাশেম মারা যাওয়ার পর থেকে পারিবারিক অনৈক্যের কারণে এসব ব্যাংকঋণ পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছে না।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিতা হাজি সফির হাত ধরে পারিবারিক ব্যবসায় আসেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার আবুল কাশেম। নিজের মেধা ও পরিশ্রমে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে গড়ে তোলেন একের পর এক প্রতিষ্ঠান। নিজের ব্যবসায়িক গ্রুপের নাম দেন ‘আম্বিয়া গ্রুপ’। প্রথম দিকে শিপ ব্রেকিং খাতে ব্যবসা করলেও পরে ইস্পাত, গার্মেন্টস, কাগজ, আবাসন, শিপিং, ভোগ্যপণ্য, জ্বালানি, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে আম্বিয়া গ্রুপ। বিশেষ করে ইস্পাত ও গার্মেন্টস খাতে বেশ সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ২০১১ সালে আবুল কাশেমের আকস্মিক মৃত্যুর পর গ্রুপটির ব্যবসায়িক অগ্রযাত্রাও থমকে যায়। ভালো ব্যবসা ও প্রচুর সম্পত্তি থাকার পরও পারিবারিক অনৈক্যের কারণে গ্রুপটির অবস্থা এখন খুবই নাজুক।

    বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে আম্বিয়া গ্রুপের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার। গ্রুপটির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্টিলের কাছে ব্যাংকটির পাওনা প্রায় ১৬০ কোটি টাকা।

    ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক নায়ের আজম বলেন, গ্রুপটির ইস্পাত খাতের ব্যবসায় ঋণ দেয়া হয়। ব্যবসায় মন্দা শুরু হলে ঋণের সে টাকা আটকে যায়। এর মধ্যে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মারা গেলে ঋণ আদায় আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কারণ প্রতিষ্ঠানের অন্য খাতে ভালো ব্যবসা থাকলেও ঋণ পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছে না। পাওনা আদায়ে এখন আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় লড়ছি।

    এছাড়া আম্বিয়া গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আবরার স্টিলের কাছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার সাড়ে ৬৯ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়া আগ্রাবাদ শাখার ১৬ কোটি, কিউএস স্টিলের কাছে এনসিসি ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ৩২ কোটি ও ন্যাশনাল ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ১৪ কোটি টাকা পাওনা আটকে গেছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০০৮-১০ সালের মধ্যে এসব ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নেন আম্বিয়া গ্রুপের কর্ণধাররা। তখন গ্রুপটির যে পরিমাণ ব্যবসা ছিল, সে হিসেবে এসব ঋণের অংক বেশি বড় নয়। কিন্তু পারিবারিক অনৈক্যের কারণে ব্যবসায় মন্দা শুরু হলে ঋণ পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছে না। এতে সুদাসলে ব্যাংকের দেনা বেড়ে যাচ্ছে।

    ব্যাংক এশিয়ার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আগ্রাবাদ শাখার প্রধান একেএম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে ভালো ব্যবসা করেন আম্বিয়া গ্রুপের কর্ণধার আবুল কাশেম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর বাকি কর্ণধারদের অনৈক্যের কারণে পুরো গ্রুপের ব্যবসায় ধস নামে। এরপর ব্যাংকের দেনা পরিশোধে কেউ এগিয়ে আসছে না। অথচ প্রতিষ্ঠানটির যথেষ্ট সম্পত্তি রয়েছে। ব্যাংকের পাওনা আদায়ে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান এ ব্যাংক কর্মকর্তা।

    গতকাল সরেজমিন নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় গ্রুপটির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় বিশাল ফ্লোরের বেশির ভাগ ডেস্কে কোনো লোকজন নেই। কয়েকটি ডেস্কে ৮-১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ফ্লোরে আগে কমপক্ষে ৫০-৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। গ্রুপের প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, বিপণনের প্রধান কার্যালয় হিসেবে এ ফ্লোরটি ব্যবহার হতো। কিন্তু একে একে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন এ কার্যালয়ে মাত্র ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ছয়তলা ভবনের বাকি পাঁচতলাজুড়ে ছিল আম্বিয়া অ্যাপারেলস ও আম্বিয়া ফ্যাশন। কারখানাটির এ দুটি ভাগে পাঁচ শতাধিক কর্মী কাজ করতেন। কিন্তু গত বছর থেকে প্রতিষ্ঠান দুটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

    বর্তমানে গ্রুপটির অন্যতম এক কর্ণধার জানান, শুধু আম্বিয়া অ্যাপারেলস ও আম্বিয়া ফ্যাশন মিলে বছরে ৩০-৪০ কোটি টাকা টার্নওভার হতো। গার্মেন্টস, ইস্পাত, নিটিং অ্যান্ড ডায়িংসহ সব খাত মিলে আগে পুরো গ্রুপের বার্ষিক টার্নওভার ছিল ১৫০-২০০ কোটি টাকা, যা এখন ৩ কোটিতে নেমে এসেছে।

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আম্বিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ হাশেম বলেন, বিভিন্ন খাতে ব্যবসা শুরু করলেও মূলত ইস্পাত ও গার্মেন্টস খাতে আমরা ভালো মুনাফা করি। কিন্তু ২০০৮-১০ সালে ইস্পাত খাতের মন্দায় বড় লোকসান হয়। এরপর গার্মেন্টস খাতের মুনাফার মাধ্যমে গ্রুপের ব্যবসা পরিচালনা হলেও ২০১৪ সালে রানা প্লাজার পর থেকে এ খাতের ব্যবসায় মন্দা শুরু হয়। অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই পরিমাণ মুনাফা হচ্ছে না। তাই সর্বশেষ গত বছর পোশাক কারখানা দুটি বন্ধ করে দিই।

    ব্যাংকঋণ পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকে যে ঋণ রয়েছে, এসব ঋণের দায় আমার বড় ভাই আবুল কাশেমের ব্যক্তিগত। এ ঋণের দায় আম্বিয়া গ্রুপের নয়।

    উল্লেখ্য, আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর তার সহোদর এমএ হাশেম (রাজা) গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নেন। অন্য দুই সহোদর আব্দুল হালিম, শফিউল আজম, স্ত্রী শাহনাজ বেগম ও ছেলে আবরার কাশেম গ্রুপের পরিচালক হন। আবুল কাশেম একসময় প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন।

    জানা গেছে, বিভিন্ন খাতে একসময় আম্বিয়া গ্রুপের ১৮টিরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে গ্রুপটির ইস্পাত খাতের আম্বিয়া স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস, আবরার স্টিল, ন্যাশনাল স্টিল, কিউএস স্টিল, আম্বিয়া প্যাকেজিং, আম্বিয়া অ্যাকসেসরিজ হ্যাঙ্গার, আম্বিয়া সোয়েটার, আম্বিয়া পেট্রো গ্যাস, আম্বিয়া অ্যাপারেলস, আম্বিয়া ফ্যাশন, আম্বিয়া এমব্রয়ডারিং ও বোরাক সল্ট ক্রাশিংসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে গেছে। কোনোভাবে টিকে আছে আম্বিয়া নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানাটি। সূত্র- বণিক র্বাতা।

    (Visited 41 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *