Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / খেলাধুলা / বেঁচে গেল স্পেন, রক্ষা পর্তুগালেরও ।। songbadprotidinbd.com

বেঁচে গেল স্পেন, রক্ষা পর্তুগালেরও ।। songbadprotidinbd.com

  • ২৬-০৬-২০১৮
  • image-128149স্পোর্টস ডেস্কঃ  ব্যবধানটা মাত্র কয়েক মিনিটের। শেষ মুহূর্তের গোলে হোঁচট খেতে হলো ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পর্তুগালকে। কিছুক্ষণ আগে বিতর্কিত এক গোল করে নিশ্চিত হার থেকে বেঁচে যায় সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন। জিততে পারল না দুই দলের একটিও।

    কাল কালিনিনগ্রাদে দুই দুইবার পিছিয়ে থেকেও মরক্কোর সঙ্গে কোনো রকম ২-২ গোলে ড্র করেছে স্পেন। একই সময় অন্য ম্যাঠে জয়ের সুবাস পেয়েও বঞ্চিত হয়েছে। ইনজুরি টাইমের পেনাল্টি গোলে পা হড়কাতে হলো ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের। রোনালদো অ্যান্ড কোংকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে ইরান।

    প্রথম দুই ম্যাচ হারায় মরক্কোর বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে আশা ছিল ইরানের। দুই দলই শেষ ম্যাচে উপহার দিয়েছে চমক। মরক্কোর বিদায়টা মেনে নেওয়া যতটা সহজ হলো ততটাই কঠিন হয়ে উঠল ইরানের। দুর্দান্ত ফুটবল খেলেও বিদায় নিতে হলো এশিয়ার প্রতিনিধি দলটিকে। মরক্কোর বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে আসপাসের বিতর্কিত গোলটা না হলে হিসাবটা অন্যরকম হতে পারত।

    সেই আফসোসটাই হয়তো এখন পোড়াচ্ছে ইরানকে। তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ছিটকে গেল এশিয়ার প্রতিনিধি। সমান ৫ পয়েন্ট নিয়ে বেঁচে গেল পর্তুগাল ও স্পেন। কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে নক আউট পর্বে উঠে গেল ইউরোপের পরাশক্তি দেশ দুইটি।

    অবশ্য গোল ব্যবধান, পয়েন্ট, ম্যাচ সংখ্যা—সবকিছু সমান হলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হলো কার্ডের ভিত্তিতে। তিন ম্যাচে পর্তুগালের তুলনায় কম কার্ড দেখায় ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তাই ১ জুলাই শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ স্বাগতিক রাশিয়াকে পেল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। পক্ষান্তরে, আগের দিন নক আউট পর্বের শুরুতে দুইবারের বিশ্বসেরা ও ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

    কালিনিনগ্রাদে ইরান-স্পেন দ্বৈরথটা শুরুতেই জমজমাট একটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। সবাইকে স্তব্ধ করে প্রতি আক্রমণে ১৪ মিনিটে স্পেনের জাল জড়িয়ে দেন খালিদ বুতাইব। ইরানের শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫ মিনিটের মধ্যে ইনিয়েস্তার সহায়তায় গোল করেন ইস্কো। অভিষেকের পর থেকে এ পর্যন্ত স্পেনের ১২টি গোলে অবদান রাখলেন রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার। লা রোজাদের জার্সিতে এটা ইস্কোর দশম গোল।

    কিন্তু ম্যাচে ফিরলেও স্পেনের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ ছিল না। প্রতি আক্রমণ ভাবিয়ে তুলছিল লা রোজাদের। এই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ২৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করার সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে থ্রো থেকে বল পেয়ে তা স্পেনের ডি-বক্স পর্যন্ত টেনে এনেছিলেন বুতাইব। কিন্তু স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়াকে একা পেয়েও পরাস্ত করতে পারেননি মরক্কান স্ট্রাইকার। তার শট ঠেকিয়ে দেন স্পেনের শেষ প্রহরী।

    ২১ মিনিট থেকে ৩১ মিনিট—এই ১০ মিনিটে রেফারিকে খরচ করতে হয়েছে চারটি হলুদ কার্ড। লড়াইটা যে স্নায়ুক্ষয়ী হবে সেটা অনুমান করা যাচ্ছিল। কিন্তু জমে ওঠা ম্যাচটা হঠাৎই নিষ্প্রাণ হয়ে ওঠে। স্পেনের আক্রমণগুলো দানা বেঁধে ওঠার আগেই নিষ্ফল হয়ে যাচ্ছিল।

    ঝিমিয়ে পড়া ম্যাচের ৪৪ মিনিটে সম্ভাব্য সেরা সুযোগটা হাতছাড়া করেছেন ডিয়েগো কস্টা। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মাটি কামড়ানো দুর্দান্ত শটে পা ছোঁয়ালেই চতুর্থ গোলটা পেতে পারতেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। কিন্তু মরক্কোর গোলমুখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কস্টা বলে পা-ই লাগাতে পারেননি। হয়তো ৬১ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটা পেতে পারতেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত এই তারকা। এবার তাকে গোলবঞ্চিত করেন মরক্কান ডিফেন্ডার রোমান সাইস। কস্টার দুর্দান্ত হেডটা সঠিক গন্তব্যের দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু গোললাইনের সামনে দাঁড়িয়ে হেডে বলটি প্রতিহত করেন সাইস।

    রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে স্পেনের বিপদসীমায় বেশ কয়েকবারই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল মরক্কো। হয়তো ম্যাচ জিততেও পারত আফ্রিকান দলটি। জয় না পাওয়ায় মরক্কানরা দুষতে পারেন বাজে রেফারিংকে। এদিন যে রেফারিং বৈষম্যের শিকার হয়েছে মরক্কো।

    না হলে ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি পেতে পারত আফ্রিকান নতুন পরাশক্তিরা। ৮০ মিনিটে ডি-বক্সে জেরার্ড পিকের হাতে বল লাগলেও সেদিকে মোটেও ভ্রƒক্ষেপ করেননি রেফারি। আবেদন করেও প্রাপ্য পেনাল্টি বঞ্চিত হয় মরক্কো। এর কয়েক মিনিট আগেও ডি-বক্সের এক হাত বাইরে সেই পিকের হাত বল ছুঁয়ে গেলেও ম্যাচকর্তা ছিলেন নির্বিকার।

    ৮০ মিনিটে পেনাল্টির বদলে কর্নার কিক পায় মরক্কো। মিডফিল্ডার ফয়সাল ফাজিরের ক্রসেই বাজিমাত করেন বেঞ্চ ছেড়ে উঠে আসা ইউসেফ এন-নেসিরি। দারুণ এক হেডে গোল করেন তিনি। স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডি গিয়া শুধু হতভম্ব হয়ে দেখলেন কীভাবে বলটা জড়িয়ে গেল জালে!

    এই গোলটাই সর্বনাশ করতে যাচ্ছিল স্পেনের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ড্যানিয়েল কারভাহালের সহায়তায় গোল করে বসেন ইয়াগো আসপাস। গোলটা আবার অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি। আসপাসের অফসাইড পজিশন তো ছিলই এর সঙ্গে মাঠের বাইরে থেকে আচমকা মরক্কোর বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিগো।

    গোলটি চেয়ে আবেদন জানায় স্পেন। তাদের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও অ্যাসিসটেন্ট রেফারির সহায়তা নেন ম্যাচ কর্তা। গোলটা আদৌ সঠিক ছিল কিনা সেটাও ঠিকঠাক নিরীক্ষা করে দেখা হয়নি। তাই গোলটার গায়ে লেগে থাকল কলঙ্কের কালিমা। বিতর্কিত এই গোলেই হারের মুখে পুড়েও রক্ষা হয় ২০১০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। না হলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারত লা রোজাদের। বিতর্কিত ওই গোলের রেশ ধরে ডাগ আউটে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন মরক্কো ও স্পেনের ফুটবলার এবং অফিসিয়ালরা।

    এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে আরেক ফেভারিট পর্তুগালও। অবশ্য জয়ের সুযোগটা পর্তুগিজরাই তৈরি করেছিল। বিরতির আগ মুহূর্তে রিকার্ডো কারিশমার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। জয়ের জন্য এই গোলটাই যথেষ্ট ছিল। বিরতির পর মাঠে ফিরে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল সান্তোসের দলের। কিন্তু স্পট কিক থেকে এবারের বিশ্বকাপের ষষ্ঠ গোল করার সুযোগ পেয়েও সেটা হাতছাড়া করেন রোনালদো। তার শট ঠেকিয়ে দেন ইরান গোলরক্ষক।

    পেনাল্টি থেকে পর্তুগাল গোল তো পায়নি বটে, উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোল হজম করে বসে পর্তুগাল। করিম আনসারিফার্দ ইরানকে সমতায় ফেরান (১-১)। কিন্তু হার ঠেকালেও গোলটি বিফলে গেল। বিশ্বকাপ থেকেই যে ছিটকে গেল ইরান। আসপাসের ওই বিতর্কিত গোলটা না হলে হয়তো বা স্বপ্নটা টিকে থাকত এশিয়ার দলটির।

    (Visited 11 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *