Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / আইন ও অপরাধ / ইয়াবা জব্দ করে বিপাকে ওসি! ।। songbadprotidinbd.com

ইয়াবা জব্দ করে বিপাকে ওসি! ।। songbadprotidinbd.com

  • ২৬-০৬-২০১৮
  • image-128159সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  কক্সবাজারে ইয়াবার চালান জব্দ করে বিপাকে পড়েছেন এক ওসি। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম রেঞ্জের সংশ্লিষ্ট দফতর। ইতোমধ্যে ওই ওসিকে তার কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইয়াবা কারবারির পক্ষ নিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ওই ওসির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ওসির নাম লিয়াকত আলী, তিনি কক্সবাজারের রামু থানায় কর্মরত ছিলেন। এখন এ ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ সদর দফতর। ঘটনাটি গড়িয়েছে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত।

    পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২২ অক্টোবর কক্সবাজারের রামু থানার পুলিশ দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ দ্বীন ইসলাম নামের একজনকে প্রাইভেট কারসহ আটক করে। তিনি ওই গাড়ির চালক। গ্রেফতারের সময় গাড়িতে থাকা আরো দুজন পালিয়ে যান। পরে দ্বীন ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা কারবারিতে জড়িত পলাতক দুজনসহ তিনজনের নাম উঠে আসে। ওই ঘটনায় গাড়ির আরোহী জিএম সরোয়ারসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। অন্য আসামিরা হলেন—কামরুল ইসলাম লিংকন ও শাহিদ উদ্দিন। এদের মধ্যে জিএম সরোয়ার ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর তিন সঙ্গীসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

    গত বছরের অক্টোবরের মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে গত ৩ ডিসেম্বর ইয়াবা কারবারি সরোয়ার চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তার অফিসে দেখা করেন। তিনি ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। একই সময়ে তিনি ডিআইজি মনিরুজ্জামানের সঙ্গে ছবিও তোলেন, যা পরে তার ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। এটি করে সরোয়ার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তার সখ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করেন।

    সূত্র জানিয়েছে, জিএম সরোয়ারের অভিযোগ দায়েরের পর ডিআইজি মনিরুজ্জামান কক্সবাজার সফরে যান এবং রামু থানার মামলার বাদী এসআই ফজলুল করিম ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইকবাল পারভেজকে কক্সবাজারের হোটেল কক্স টুডেতে মামলার কেস ডকেটসহ ডেকে পাঠান। ডিআইজি হোটেলে না গিয়ে কেস ডকেট পর্যালোচনার জন্য রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের স্টাফ অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ও একই অফিসের সহকারী পুলিশ সুপারকে ওই হোটেলে পাঠান। দুজন পুলিশ কর্মকর্তা কেস ডকেট পর্যালোচনা করে ডিআইজি মনিরুজ্জামানের রেফারেন্সে আসামি জিএম সরোয়ারকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ সরোয়ারসহ তিনজনকে অব্যাহতি দেয়। শুধু গাড়িচালক দ্বীন ইসলামকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়।

    মাদক কারবারিদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েই ক্ষান্ত হননি ডিআইজি। তার নির্দেশে ওসির বিরুদ্ধে আসামি সরোয়ারের দেওয়া লিখিত অভিযোগের তদন্তে নামেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম রোকনউদ্দিন। তিনি রামু থানায় যান। অভিযোগ সংক্রান্তে মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি নেন। রহস্যজনক কারণে ওসির জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। পরে এ ঘটনার জেরে ওসি লিয়াকতকে শোকজ করা হয়।

    এদিকে, গত ৪ মে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ও আদালতের অনুমতিক্রমে মাদক মামলার মূল আসামি জিএম সরোয়ারসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে রামু থানা পুলিশ। এরপরই চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে রামু থানার ওসি এ কে এম লিয়াকত আলীকে প্রত্যাহারের জন্য পুলিশ সদর দফতরে একটি রিপোর্ট পাঠান। আর স্থানীয় সংসদ সদস্য চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি পুলিশ সদর দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নজরে আনেন। ইয়াবা কারবারির সঙ্গে ডিআইজির পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়। অন্যদিকে রামু থানার ওসি এ কে এম লিয়াকত আলী তার বিরুদ্ধে ডিআইজির আনীত অভিযোগ রিভিউ করার জন্য আইজিপির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। সে আবেদনের তদন্ত চলছে। ওসি লিয়াকত আলী ফোনে জানিয়েছেন, প্রকৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে মামলাটি ঘিরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ সদর দফতর।

    (Visited 47 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *