Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / জাতীয় / এমপিপুত্রকে আড়াল করার চেষ্টা ।। songbadprotidinbd,com

এমপিপুত্রকে আড়াল করার চেষ্টা ।। songbadprotidinbd,com

  • ২১-০৬-২০১৮
  • shabab20180620230327 (1)সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  মহাখালী ফ্লাইওভারের মুখে গাড়িচাপায় এক পথচারীর নিহত হওয়ার ঘটনায় নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে শাবাব চৌধুরীর নাম এলেও তাকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    মঙ্গলবার রাত ১০টার পর মহাখালী ফ্লাইওভারে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হন সেলিম ব্যাপারী (৪৮) নামের এক গাড়িচালক।

    গাড়ির পিছু ধাওয়া করা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চালকের আসনে শাবাব চৌধুরীই বসে ছিলেন। নিহতের স্বজনরা থানায় মামলা করেছে। তবে মামলায় শাবাব চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। শুধু গাড়ির নম্বর দিয়ে মামলা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেপরোয়া গতিতে আসা গাড়িটি প্রথমে ফ্লাইওভারে ওই পথচারীর পায়ের ওপর তুলে দেয়। এসময় তিনি ওই গাড়ির বাম্পার ধরে ফেলেন। কিন্তু হঠাৎ গাড়িটি ব্যাক গিয়ারে দিয়ে সজোরে আবারও সামনের দিকে চালিয়ে দেয়ায় ওই পথচারী ছিটকে ফ্লাইওভারের গার্ডারে ধাক্কা খান। মুহূর্তেই তার মাথা থেঁতলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা জানা গেছে, নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে শাবাব চৌধুরীই ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের কাছেও এমন বর্ণনা দিয়েছেন।

    দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালাতে থাকা ওেই গাড়ির পিছু ধাওয়া করেন কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী। তাদেরই একজন জানান, গাড়িটি ন্যাম ভবনের সামনে গিয়ে থামে। এ সময় গাড়ির ড্রিইভিং সিট থেকে নেমে আসেন এমপিপুত্র শাবাব। তার সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। ঘটনার কথা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেন শাবাব। তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে মনে হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, “ন্যাম ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেও বোঝা যাবে সাবাব চৌধুরী গাড়ি নিয়ে ঢুকেছেন। এবং তার সঙ্গে আমাদের বাকবিতণ্ডাও হয়েছে। সিসি টিভি ক্যামেরায় সব পাওয়া যাবে।”

    ন্যাম ভবনের নৈশপ্রহরী নজরুল ইসলাম রাতে শাবাব চৌধুরীকে গাড়ি চালিয়ে ঢুকতে দেখেছেন বলেও সাংবাদিকদের কাছে বিবরণ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, “৪ ও ৫ নম্বর ভবনের মাঝখানে উত্তরপাশে দাঁড়িয়ে এমপি একরামুল করীম চৌধুরীর ছেলে, গাড়িচালক ও বহিরাগত কয়েকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করছিল। তখন দেখি তাদের গাড়িটা সামনে ভাঙা। পরে জানলাম দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটা মোটর সাইকেল দেখেছি। মোটর সাইকেলে ছেলেটাকে এমপির ছেলে ও গাড়ির চালক মিলে মারধর করে মোবাইল রেখে দেয়। এই মোবাইল দিয়ে সে নাকি ভিডিও করছিল।”

    তিনি বলেন, “এমপি একরামুল ধানমন্ডিতে থাকেন পরিবারকে নিয়ে। এখানে তার দুই গাড়িচালক ও কাজের মানুষ থাকেন। এখানে ছেলেও আসে না। কিন্তু কাল হঠাৎ এসেছে।”

    গাড়ির নম্বর থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির মালিক কামরুন নাহার শিউলি নামে এক ব্যক্তি। তবে গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    ওই প্রাইভেটকারের নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৭৬৫৫।

    পুলিশের সূত্র বলছে, কামরুন নাহার শিউলি হলেন এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর স্ত্রী। তিনি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান।

    কামরুন নাহার শিউলি স্বীকার করেছেন, গাড়িটি তার। তবে তার ছেলে শাবাব ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন না বলে তিনি দাবি করেন। নুরুল আলম নামের এক ড্রাইভার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এবং তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িতে একজনই ছিল।

    নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এমপির পরিবাবের পক্ষ থেকে সমঝোতার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

    নিহত সেলিম ব্যাপারীর গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিনি পরিবার নিয়ে উত্তরখান এলাকায় থাকতেন।

    সেলিম ব্যাপারীর জামাতা আরিফুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, আমরা জানতে পেরেছি ওই গাড়ির চালক ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে শাবাব চৌধুরী।

    কাফরুল থানার এসআই সুজন কর্মকার বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারের নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়ির মালিকের পরিচয় জানতে বিআরটিএ-তে নম্বরটি দিয়ে আবেদন করা হয়েছে।

    (Visited 9 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *