Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / বিশ্বকাপ ২০১৮: রুশ নারীদের নিয়ে এত আলোচনা কেন? ।। songbadprotidinbd.com

বিশ্বকাপ ২০১৮: রুশ নারীদের নিয়ে এত আলোচনা কেন? ।। songbadprotidinbd.com

  • ২১-০৬-২০১৮
  • Russia-9-650x405আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফাস্ট ফুড চেইন বার্গার কিংয়ের রাশিয়ান বিভাগ রুশ নারীদের পুরস্কার দেয়ার একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবার সেটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়েছিল, কোনো রাশিয়ান নারী বিশ্বকাপে খেলা কোনো খেলোয়াড়ের মাধ্যমে গর্ভবতী হতে পারলে তাকে ৩০ লাখ রুবল (৩৬ হাজার পাউন্ড; ৪৭ হাজার ডলার) ও সারাজীবনের জন্য বিনামূল্যে হুপার বার্গার দেয়া হবে।

    বিজ্ঞাপনটিতে বলা হয়, “যে নারী ফুটবলারের জিন শরীরে বহন করবে, সে রাশিয়ান দলের ভবিষ্যত প্রজন্মের সাফল্যের প্রবর্তক হবে।”

    এ বিজ্ঞাপন দেয়ার পর রাশিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়। বার্গার কিং বাধ্য হয় বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নিতে।

    সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে একটি নারীবাদী সংস্থা মন্তব্য করে যে, “আমাদের সমাজে নারীদের অবস্থানের প্রতিফলন এই বিজ্ঞাপন।”

    বিজ্ঞাপন ও মিডিয়ায় রুশ নারীদের যৌন শিকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

    ক্রেমলিন সমর্থিত গণমাধ্যমের লেখায় রুশ নারীরা কিভাবে ‘বিদেশিদের প্রলোভন’ দেখাতে পারেন তা বিশেষভাবে চিত্রায়ন করা হয়।

    রুশ নারীরা কীভাবে বিদেশিদের প্রলুব্ধ করতে পারেন তা নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণও করা হয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ।

    রাশিয়ার লিঙ্গ বৈষম্য
    এই ধারার আলোচনা কিন্তু কমিউনিস্ট পরবর্তী রাশিয়ায় খুব একটা নতুন নয়। নারীবাদী মতবাদ রাশিয়ায় খুব একটা শোনা যায় না।

    লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে রাশিয়ান টিভির অনুষ্ঠানগুলো গতানুগতিকের বাইরে খুব একটা সরব নয়।

    এমনকি কোনো অনুষ্ঠান যদি নারীবাদ বিষয়ে একটু সোচ্চারও হয়, সেটিকে রাশিয়ান ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র বলে সমালোচনা করা হয়।

    এতকিছুর পরও এসবের বিরুদ্ধে রুশ নারীদের পক্ষ থেকে খুব একটা প্রতিবাদ দেখা যায় না।

    নারী অধিকার কর্মী অ্যালিওনা পোপোভা বিবিসিকে বলেন, রুশ নারীদের মধ্যে দৃঢ়তার অভাব রয়েছে।

    তিনি বলেন, “পুরুষরা যখন নারীকে দেহসর্বস্ব উপাধি দেয়, যৌন হয়রানির পক্ষে অজুহাত খোঁজে আর পারিবারিক সহিংসতার জন্যও নারীকেই দোষারোপ করে, তখন নারীরাও বিশ্বাস করা শুরু করে যে সেগুলোই আসলে সত্যি এবং এটিই নিয়ম।”

    পোপোভা সাম্প্রতিক এক যৌন হয়রানির ঘটনার উদাহরণ দেন, যেটিতে রুশ সাংসদ লিওনিড স্লাটস্কি জড়িত ছিলেন।

    স্লাটস্কির নামে একাধিক সাংবাদিক যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। তার বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হলেও সংসদের নৈতিকতা সংশ্লিষ্ট কমিশনের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে তিনি স্বপদে বহাল থাকেন।

    অ্যালিওনা পোপোভা অভিযোগ করেন যে রাশিয়ার আইন ‘রুশ নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখার’ ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করে বিদেশিদের।

    যৌন হয়রানি সংক্রান্ত কোনো আইন এই মুহূর্তে রাশিয়ায় কার্যকর নেই। তবে স্লাটস্কি কেলেঙ্কারির পর এই বিষয়ে আইন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    পোপোভা বলেন, “রাশিয়ার গণমাধ্যম নারীদের সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয়ার জন্য মুখিয়ে থাকে। মানুষের কাছে নারীদের নতুন ভাবমূর্তি তৈরি করার জন্য লড়তে হবে আমাদের।” বিবিসি।

    (Visited 22 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *