Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অর্থ ও বাণিজ্য / রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া অটোমেশনের আওতায় না এলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় ।। songbadprotidinbd.com

রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া অটোমেশনের আওতায় না এলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৯-০৬-২০১৮
  • base_1486579309-1সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক আইনকে অনেক বেশি যুগোপযোগী করা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পকে নীতি-সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া অটোমেশনের আওতায় না এলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারস (পিডব্লিউসি)।

    গতকাল রাজধানীতে প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন পিডব্লিউসি বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশীদ। এ সময় বাজেটে বিভিন্ন পরিবর্তনের নানা বিষয় উপস্থাপন করেন পিডব্লিউসির পার্টনার (ট্যাক্স অ্যান্ড রেগুলেটরি সার্ভিস) সুস্মিতা বসু ও ব্যবস্থাপক (ট্যাক্স অ্যান্ড রেগুলেটরি সার্ভিস) প্রবীর মিত্র। এ সময় পিডব্লিউসির ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের পরিচালক প্রসুন কে মাইতি, সহযোগী ব্যবস্থাপক এস কে আমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মামুন রশীদ বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সময়ের ব্যবধানে আমাদের দেশে বেসরকারি খাত একটি পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন সময় এসেছে অর্থায়নের মাধ্যমে তাদের আরো বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে দেয়া। মুনাফার পর উদ্যোক্তারা যেন একটি অংশ বিনিয়োগ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা। এ লক্ষ্যে আমরা মুনাফায় বহুস্তরীয় কর ব্যবস্থা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছিলাম। এক্ষেত্রে এবারের বাজেটে ছাড় দেয়ায় বড় করপোরেট সত্তাগুলোর জন্য একটা সুযোগ তৈরি হলো। সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বারবার কর দেয়ার হয়রানি থেকে রেহাই পাবেন।

    আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থবিলে আইনি সংস্কারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের অর্থবিলে কোম্পানিগুলোকে অনেক বেশি কমপ্লায়েন্সে আনার প্রক্রিয়া দেখা গেছে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে নিরীক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হয়েছে। তবে লক্ষ্য অর্জনের জন্য এগুলোর পাশাপাশি কর অফিসের সংস্কার করতে হবে। রাজস্ব পরিশোধের পদ্ধতিটি অনলাইনভিত্তিক করা ও রিটার্ন দাখিল আরো সহজতর করাসহ সবকিছু অটোমেশনের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

    মধ্যবিত্তদের বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করে মামুন রশীদ বলেন, আমাদের দেশের ২৫ শতাংশ মানুষের মাথাপিছু আয় ৬৫০ ডলারের বেশি। দেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা দ্রুতই বাড়ছে। সরকারকে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা সাজাতে হবে। মধ্যবিত্তকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে। তারা যেন শেয়ারসহ বিভিন্ন ইকুইটিতে বিনিয়োগ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে উদ্যোগ নিতে হবে। করের ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা ছাড় দিতে হবে।

    আয়কর নিয়ে সুস্মিতা বসু বলেন, বহুস্তরীয় কর প্রত্যাহারের বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক। একই প্রতিষ্ঠানের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে। তবে যখন কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লভাংশ ঘোষণা করে, তখন লভ্যাংশ ঘোষণাকারী ও লভ্যাংশভোগী— উভয় প্রতিষ্ঠানকেই ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। তখন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। এবার বহুস্তরীয় কর প্রত্যাহার করায় এ জটিলতা দূর হবে। তবে বিদেশী প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা এ দেশে অর্থ ব্যয় করলে বা শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কর আরোপ করা হয়েছে। এতে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। তবে সামগ্রিকভাবে আইনটিতে স্থানীয়দের কিছুটা ছাড় দিয়ে বিদেশীদের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে।

    ভ্যাট নিয়ে প্রবীর মিত্র বলেন, ১৯৯১ সালে প্রণীত বর্তমান ভ্যাট আইনটিতে অনেক জটিলতা রয়েছে। নতুন আইনটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গেছে। তবে অনলাইন সিস্টেম বাস্তবায়নের ফলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। কন্ট্রাক্টরদের আয়ের ওপর উৎসে মূসক বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এমন কিছু খাতে কর বাড়ানো হয়েছে। মোবাইল উৎপাদনে ভ্যাট ও সারচার্জ প্রত্যাহারের কারণে এক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ফল আসতে পারে। অর্থবিলে কিছু সংস্কার করে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কমপ্লায়েন্স বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অটোমেশনে জোর দিতে হবে।

    (Visited 15 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *