Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ধর্ম / সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ ।। সংবাদ প্রতিদিন বিডি

সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ ।। সংবাদ প্রতিদিন বিডি

  • ১৪-০৬-২০১৮
  • sadqa.-imejআজ বৃহস্পতিবার। পবিত্র মাহে রমজানের ২৮তম দিন। আর নাজাতের দশকের অষ্টম দিন। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে হতে পারে আগামীকাল-ই রমজানের শেষ দিন। তারপর ঈদুল ফিতরের আনন্দ। রোজা পালনের পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তায়ালা ঈদের আনন্দ প্রদান করেছেন। গরিবরাও যাতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, এজন্য এই সদকাতুল ফিতরের আমলকে ওয়াজিব করা হয়েছে। সদকাতুল ফিতর গরিব-অসহায় মানুষের অধিকার, তাদের প্রাপ্য হক। প্রত্যেক সামর্থবান মুসলিম নাগরিকের ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বসবাসকারী ধনীদের অর্থ গরিবদের মধ্যে বণ্টিত হয় এবং এ দ্বারা গরিবদের জীবনযাপনে কিছুটা হলেও গতি ফিরে আসে। এজন্য ইসলামে সদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে সমাজে বসবাসকারী জনসাধারণের মধ্যে সমতা ফিরে আসে এবং সহযোগিতামূলক মানসিকতার বিস্তার ঘটে। পরস্পরের সামাজিক সম্পর্কের উন্নতি হয়।

    সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ : আমাদের দেশে প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ইসলামিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাথাপিছু একটি পরিমাণ ঘোষণা প্রদান করে এবং সে ঘোষণা অনুযায়ী কোটিপতি ও মধ্যবিত্ত নির্বিশেষে সবাই ফিতরা প্রদান করে। আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন, রাসুল (সা.) এর যুগে মোট চারটি পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করা হতো, যেমন খেজুর, কিসমিস, জব ও পনির। হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আমাদের সময় ঈদের দিন এক সা খাদ্য দ্বারা সদকা আদায় করতাম। আর তখন আমাদের খাদ্য ছিল জব, কিসমিস, পনির ও খেজুর। (সহিহ বোখারি, হাদিস নং-১৪৩৯) রাসুল (সা.) এর যুগে গমের ভালো ফলন ছিল না বিধায় আলোচিত চারটি পণ্য দ্বারাই ফিতরা আদায় করা হতো। এরপর হযরত মুয়াবিয়া (রা.) এর যুগে গমের ফলন বেড়ে যাওয়ায় গমকে আলোচিত চারটি পণ্যের সঙ্গে সংযোজন করা হয়। আর তখন গমের দাম ছিল বাকি চারটি পণ্যের তুলনায় বেশি। আর মূলত এই দাম বেশি থাকার কারণেই হযরত মুয়াবিয়া গমকে ফিতরার পণ্যের তালিকাভুক্ত করেছিলেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, নবীজী (সা.) এক সা খেজুর বা এক সা জব দিয়ে ফিতরা আদায় করার আদেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে সাহাবায়ে কেরামগণ দুই মুদ (আধা সা) গমকে এগুলোর সমতুল্য মনে করে এবং আদায় করে (সহিহ বোখারি, হাদিস নং-১৪৩৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২৩২৮)।

    ওপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, গম দ্বারা আদায় করলে আধা সা বা ১ কেজি ৬২৮ গ্রাম দিলেই ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। আর বাকি চারটি পণ্য অর্থাৎ খেজুর, জব, পনির ও কিসমিস দ্বারা আদায় করার ক্ষেত্রে জনপ্রতি এক সা বা ৩ কেজি ২৫৬ গ্রাম দিতে হবে। দেখা যাচ্ছে, যে গম ছাড়া অন্য পণ্য দ্বারা ফিতরা আদায় করলে এক সা পরিমাণ দিতে হচ্ছে, যা গমের ওজনের দ্বিগুণ এবং মূল্যের দিক দিয়েও অনেক তফাত। হাদিসে এক সা আদায় করার কথা উল্লেখ থাকার পরও তখন এর মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় সাহাবারা আধা সা পরিমাণ গম আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখন আধা সা গমের মূল্যও অন্য চারটি পণ্যের এক সা-এর চেয়েও বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে আলোচিত পাঁচটি পণ্যের মধ্যে গমই হচ্ছে সবচেয়ে কম দামি পণ্য।

    হাদিসের মধ্যে শুধু খাদ্যবস্তুর নাম এসেছে, এজন্য অধিকাংশ আলেমগণ বলেছেন, যে বস্তুর নাম হাদিসে আছে তা দিয়েই ফিতরা দিতে হবে। কেবল ইমাম আবু হানিফা রহ. ইজতেহাদ করে রায় দিয়েছেন যে, এসবের মূল্য দিলেও ফিতরা আদায় হবে। কারণ দেখিয়েছেন, ‘আনফাউ লিল ফুকারা’। যা দ্বারা গরিবের বেশি উপকার হয় তা দেবে। কাঁচা খাদ্য খাওয়া ছাড়া অন্য কাজে লাগে না। বেশি হলে নষ্ট হয়। বিক্রিও সম্ভব হয় না। অতএব গরিবদের জন্য টাকা পেলে বেশি উপকারী। যেখানে ইচ্ছা খরচ করতে পারে।

    এ থেকে আরেকটি বিষয়ও স্পষ্ট হয় আর তা হলো, যেটার মূল্য দিয়ে আদায় করলে গরিবের বেশি উপকার হয়, সেটার মূল্য দিয়ে আদায় করা। সুতরাং বেশি সম্পদশালী এবং কম সম্পদশালী নির্বিশেষে সবাই গম, আটা বা সর্বনিম্ন দামের পণ্য হিসেবে শুধু ৭০ টাকা সদকাতুল ফিতর আদায় করার বিষয়টি বিবেকবর্জিত এবং হাদিস ও শরীয়তের নির্দেশনার পরিপন্থী। বরং যে কম সম্পদশালী কেবল সে দেবে গমের মূল্য হিসেবে ৭০ টাকা আর যে বেশি সম্পদশালী সে দেবে যব, খেজুর ও কিসমিসের মূল্য হিসেবে যথাক্রমে, ৫০০, ১৩২০, ১৯৮০ ও ২৩১০ টাকা। তাই আমাদের সবার উচিত নিজের সঠিক সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের পণ্য বা তার মূল্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করার মাধ্যমে নিজে লাভবান হওয়া এবং গরিবদের বেশি বেশি সহযোগিতা করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

    (Visited 16 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *