Templates by BIGtheme NET
Home / অর্থ ও বাণিজ্য / স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮, বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি হবে সোনার বার ।। songbadprotidinbd.com

স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮, বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি হবে সোনার বার ।। songbadprotidinbd.com

  • ২৩-০৫-২০১৮
  • image-123406সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) দুই বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি হবে ব্যবসায়ীদের চাহিদাকৃত সোনা বা স্বর্ণবার; যা দেশের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট নিবন্ধিতসহ আরো কিছু শর্তসাপেক্ষে প্রকৃত স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ডিলার আমদানি করতে পারবেন প্রয়োজনীয় স্বর্ণ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, স্বর্ণ আমদানি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করতে গঠিত কমিটি সর্বশেষ গত ৮ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে মিলিত হয়। ওই বৈঠকেই স্বর্ণ আমদানি নীতিমালার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। স্বর্ণ নীতিমালার খসড়ার নীতিগত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম বলেন, স্বর্ণ নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে এই খাত শৃঙ্খলায় আসবে। এই খাত থেকে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব পাবে। তাছাড়া এ খাতের ব্যবসায়ীরাও ঝামেলামুক্তভাবে ব্যবসা করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

    সূত্র জানায়, চাহিদা অনুযায়ী স্বর্ণ আমদানি করতে কমপক্ষে ১৫ দিন আগে চাহিদাপত্র দাখিল করতে হবে। একই সঙ্গে মোট মূল্যের ৫ শতাংশ সরকারের ঘরে জামানত রাখতে হবে। এ ছাড়া রফতানিতে বন্ড সুবিধাসহ বিশেষ প্রণোদনা কিংবা ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণসহ আটটি অনুচ্ছেদ, ৫৮টি উপ-অনুচ্ছেদ থাকছে প্রস্তাবিত স্বর্ণ আমদানি নীতিমালায়।

    প্রস্তাবিত ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮’তে বলা হয়েছে, এই নীতিমালা স্বর্ণ খাতে আমদানি, ব্যবসা ও রফতানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। রফতানি প্র্রক্রিয়াকরণ এলাকা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাসহ বাংলাদেশের অন্য সব এলাকায় এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। যেখানে অলংকার বলতে স্বর্ণ, হীরক, রৌপ্য ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু দ্বারা প্রস্তুতকৃত এবং মূল্যবান পাথর দ্বারা খচিত অলংকার। নীতিমালায় স্বর্ণ আমদানি সহজীকরণ সম্পর্কিত বিধানাবলি ২নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই ধারায় ১২টি উপধারা যোগ করা হয়েছে।

    এতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান স্বর্ণ আমদানিনীতি ও পদ্ধতির অতিরিক্ত হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ স্বর্ণালংকারের চাহিদা পূরণকল্পে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণবার আমদানির নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করা যেতে পারে। যেখানে প্রাথমিকভাবে দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে স্বর্ণ আমদানির জন্য অনুমোদিত ডিলার (এডি ব্যাংক) হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে। সাফল্য বিবেচনায় ভবিষ্যতে অন্যান্য আগ্রহী ব্যাংককে এ সুযোগ প্রদান করা যাবে। এডি ব্যাংক সরাসরি আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য স্বর্ণবার প্রস্তুতকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণবার আমদানি করবে। এডি ব্যাংক স্বর্ণবার ব্যতীত অলংকার বা অন্য কোনো ফর্মে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে না। এডি ব্যাংকগুলো স্বর্ণবার আমদানির সময় শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বন্ড সুবিধা গ্রহণ করে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে। সেক্ষেত্রে স্বর্ণবার আমদানি করতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে আবশ্যিকভাবে আমদানিনীতি আদেশ ও শুল্ক আইনের বিধানাবলি মেনে বন্ড কমিশনারেট থেকে বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীদের চাহিদার ভিত্তিতে বাৎসরিক/ষান্মাসিক/ত্রৈমাসিক/মাসিক ভিত্তিতে স্বর্ণবার আমদানি করতে পারবে। তবে স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ডিলার থেকে প্রাপ্ত চাহিদার বিপরীতে স্বর্ণবার আমদানির আগে এডি ব্যাংক সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করে ওই ব্যয়ের বিষয়ে অনাপত্তি গ্রহণ করতে পারবে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ অনাপত্তি প্রদান করবে। স্বর্ণ কীভাবে ও কারা ক্রয় করতে পারবেন—এ বিষয়ে নীতিমালার ২(৭) এ বলা হয়েছে। এডি ব্যাংক সাইট ঋণপত্র, ডেভার্ড ঋণপত্র (৯০ দিনের মধ্যে বিলম্বে মূল্য পরিশোধের শর্তে) চুক্তি বা টিটি কিংবা কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে স্বর্ণবার ক্রয় করতে পারবে। আর স্বর্ণবার ক্রয় করতে পারবে ভ্যাট কমিশনারেট নিবন্ধিত প্রকৃত স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ডিলার। তবে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে একই সঙ্গে গোল্ড প্রকিউরমেন্ট, স্টোরেজ ও ডিস্ট্রিবিউশন আদেশ, ১৯৮৭-এর আওতায় জেলা প্রশাসকের কাছ লাইসেন্সপ্রাপ্ত হতে হবে। একই সঙ্গে ওই সকলকে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধিত ব্যবসায়ী সমিতির বৈধ সদস্য হতে হবে। আর স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বর্ণবারের চাহিদা এডি ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ দিন আগে প্রদান করতে হবে। চাহিদাপত্র দাখিলকালে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ক্রয়তব্য পরিমাণ স্বর্ণবারের সে সময়ের বাজারমূল্যের কমপক্ষে ৫ শতাংশ জামানত হিসেবে এডি ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

    এতে আরো বলা হয়, এডি ব্যাংক স্বর্ণবার বিক্রয়ের সময়ে আবশ্যিকভাবে স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ডিলার কর্তৃক পূর্ববর্তী বছরগুলো মোট স্বর্ণালংকার বিক্রয়ের পরিমাণ, সরকারি রাজস্ব পরিশোধ, স্বর্ণের প্রকৃত মজুদ, রেকর্ডপত্র ও হিসাব বিবরণীর স্বচ্ছতা ইত্যাদি যাচাই করবে। এডি ব্যাংক প্রয়োজনে ভ্যাট কমিশনারেটের সহযোগিতায় যাচাই প্রতিবেদন ভ্যাট কমিশনারেটকে প্রদান করবে এবং স্বর্ণবার বিক্রয়ের সময়ে প্রযোজ্য শুল্ক করাদি আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদান করবে। অনিয়মে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে ২(১২) ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে এনবিআরের ভ্যাট কমিশনারেট নিয়মিত পরিদর্শন করতে পারবে এবং পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ভ্যাট নিবন্ধন বাতিল ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এ ছাড়া স্বর্ণবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে নীতিমালার ৩নং ধারায় বলা হয়েছে, যেখানে ১১টি উপধারা সংযোজন করা হয়েছে। ৪নং ধারায় রাখা হয়েছে স্বর্ণমান প্রণয়ন, যাচাই ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। যেখানে মোট চারটি উপধারা সংযোজন করা হয়েছে। ভোক্তা স্বার্থে বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালায় পাঁচটি উপধারা সংযোজন করে ৫নং ধারাটি সাজানো হয়েছে। পরিবর্তন আনা হয়েছে যাত্রী (অপর্যটক) ব্যাগেজ বিধিমালায়; যা প্রস্তাবিত বিধিমালার ৬নং ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে। এই ধারায় সংযোজন হবে পাঁচটি উপধারা। স্বর্ণালংকার রফতানিতে প্রণোদনা ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রেখে প্রস্তাবিত বিধিমালা ৭নং ধারা সাজানো হয়েছে। যেখানে ১০টি উপধারা সংযোজন করা হয়েছে। স্বর্ণ খাতের তথ্য সংরক্ষণের বিষয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালার ৮নং ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের মে মাসে অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি পরিস্থিতিপত্র তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    (Visited 33 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *