Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / উপসম্পাদকীয় / গণপরিবহনে জিম্মি সাধারণ যাত্রীরা ।। songbadprotidinbd.com

গণপরিবহনে জিম্মি সাধারণ যাত্রীরা ।। songbadprotidinbd.com

  • ২১-০৪-২০১৮
  • dc1f220871aa8369f44d2292357fffdb-571cfa0717e90বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল হোসেন: দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। বাস-মিনিবাস মালিকদের সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের গাটছাড়া সম্পর্কের কারণে তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করতে শুরম্ন করেছেন। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যথেচ্ছতায়। যেখানে-সেখানে বাস, মিনিবাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা তাদের মজ্জাগত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি অহরহ ঘটছে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠার পেছনে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব দায়ী।
    সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দেশে আইন যেমন আছে, তেমন আছে শাস্ত্মির বিধান। কিন্তু আইনের প্রয়োগ সন্ত্মোষজনক নয়। তাই সড়ক-দুর্ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত চালকদের সাজা ভোগের নজির এতই কম যে, তা দুর্ঘটনা কমাতে কোনো অবদান রাখতে পারছে না। গণপরিবহন মালিকদের কাছে কর্তৃপক্ষগুলোর বিবেক বিক্রি হয়ে যাওয়ায় রাজধানীজুড়ে এখন লক্কড়-ঝক্কড় ফিটনেসবিহীন গাড়ির ছড়াছড়ি। দেশে নিবন্ধিত বিভিন্ন ধরনের গাড়ির মধ্যে প্রায় তিন লাখের প্রকৃতপক্ষে ফিটনেস নেই। এর মধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার গাড়ি ১০ বছর বা এরও বেশি সময় ধরে ফিটনেস পরীক্ষা তো দূরের কথা, কোথায় চালানো হচ্ছে তা জানে না বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। দেশে প্রতিনিয়ত যেসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে তার জন্য যেমন ফিটনেসবিহীন গাড়ি দায়ী তেমন দায়ী চালকদের গাড়ি চালানোর যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকা।
    রাজধানীসহ সারা দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে হলে পরিবহন মালিক ও চালকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের মধু চন্দ্রিমার অবসান ঘটাতে হবে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতাকে সামাল দিতে হবে। ফিটনেসহীন গাড়ির তা-ব থেকে রক্ষা করতে হবে সাধারণ যাত্রীদের। প্রশিক্ষিত চালক ছাড়া কেউ যাতে গাড়ি চালানোর সুযোগ না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন মালিকদের মাসোহারা ও রাজনৈতিক কানেকশনের কাছে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের আত্মসমর্পিত মনোভাবের অবসানও জরম্নরি বিষয়। সভ্য দেশের মানুষ হিসেবে নিজেদের দাবি করতে হলে ট্রাফিক ব্যবস্থায় যে যাচ্ছেতাই অবস্থা চলছে তার ইতি ঘটানো সময়ের দাবি। সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ একটু আন্ত্মরিক হলেই এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের গণপরিবহন কখনোই জনবান্ধব ছিল না, যেনতেনভাবে মালিক-শ্রমিকদের আয় বাড়ানোই এ সেক্টরের মূল উদ্দেশ্য। বাসের বাইরে ট্যাক্সি, সিএনজি অটোরিকশাও যাত্রীদের জিম্মি করে গলাকাটা ভাড়া আদায় করছে। মিটারে না গিয়ে বরং বেশি ভাড়া নেয়ার পাশাপাশি ‘পুলিশ ধরলে বইলেন মিটারে’ এমন আবদারও জুড়ে দিচ্ছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। আরও উদ্বেগের বিষয়, রাতে তো নয়ই, দিনের বেলায়ও যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত গন্ত্মব্যে ট্যাক্সি-সিএনজি অটোরিকশা চালকরা যেতে চান না। অথচ বিশ্বের কোনো দেশেই যাত্রীর কাঙ্ক্ষিত স্থানে যেতে চালক দ্বিমত করেন এমন নজির নেই বললেই চলে। যে কোনো মূল্যে গণপরিবহনকে যাত্রীবান্ধব করে তোলার উপায় খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

    পরিবহন সেক্টরে সর্বশেষ যোগ হয়েছে যাত্রীদের শায়েস্ত্মা করতে মাস্ত্মান ভাড়া করা। এরা বাসে ও বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, এমনকি মারধর করতেও পিছপা হচ্ছে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, কেবল বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে এসব অনিয়ম বন্ধ করা যাবে না। পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। অন্ত্মত ইমেজ রক্ষায় হলেও যাত্রী হয়রানি বন্ধে সরকার দ্রম্নত পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।
    (Visited 45 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *