Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / আইন ও অপরাধ / পরকীয়ার বলি হলেন রথীশচন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা ।। songbadprotidinbd.com

পরকীয়ার বলি হলেন রথীশচন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা ।। songbadprotidinbd.com

  • ০৫-০৪-২০১৮
  • image-132554সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ  নিখোঁজের ৫ দিন পর আইনজীবী রথীশচন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনার (৫৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে নগরীর মাহিগঞ্জ মোল্লাপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ির মাটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দিপা, তার প্রেমিক কামরুল মাস্টারসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া বাবুসোনার মেয়ে অনিতা ভৌমিক ও বাবুসোনার সহকারী আইনজীবী মিলন মোহন্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গতকাল বুধবার রংপুরে এসে বাবুসোনার বাসভবন, লাশ উদ্ধারের স্থল পরিদর্শন এবং সংবাদ সম্মেলনে হত্যারহস্য তুলে ধরেন।

    গতকাল রংপুর র্যাব-১৩ কার্যালয়ে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ২৯ মার্চ রাতে বাবুসোনাকে হত্যা করা হয়। দুমাস আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয় হত্যার। প্রথমে তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি বলেন, বাবুসোনার হত্যাকারীদের দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, রংপুর র্যাব ১৩-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক আরমিন রাব্বী প্রমুখ।

    যেভাবে খুন হন : ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার তার শয়নকক্ষে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভাত ও দুধের সঙ্গে ১০টি ঘুমের বড়ি খাওয়ানো হয় বাবুসোনাকে। ঘুমের বড়ি খাওয়ানোর পর অচেতন হয়ে পড়েন। বাসায় আগে থেকে লুকিয়ে থাকা স্নিগ্ধার সহায়তায় কামরুল মাস্টার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর মৃতদেহ শয়নকক্ষেই রেখে দেওয়া হয়। কামরুল মাস্টার পরের দিন ভোর ৫টার দিকে ওই বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে সকাল ৯টার দিকে একটি ভ্যান নিয়ে আসে। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাবুসোনার স্ত্রী তার প্রেমিকের সহায়তায় পরিবর্তনের নাম করে একটি আলমারিতে লাশ ভরে তাজহাট মোল্লাপাড়ায় নির্মাণাধীন বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আলমারি বহনের কাজে নিয়োজিত ছিল ৩ জন। ওই তিনজনকে কামরুলই নিয়ে আসে। তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে র্যাব সদস্যরা মোল্লাপাড়ার ওই বাড়ি থেকে বাবুসোনার লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে লাশ শনাক্ত করার জন্য বাবুসোনার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিককে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। তিনি লাশ শনাক্ত করেন। লাশ গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তারা হলো মোল্লাপাড়া এলাকার মো. রবিউল ইসলামের পুত্র সবুজ ইসলাম এবং রফিকুল ইসলামের পুত্র রোকনুজ্জামান। তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গত ২৬ মার্চে কামরুল মাস্টারের নির্দেশে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ওই নির্মাণাধীন ভবনের নিচে বালু খুঁড়ে রাখে। পরে ৩০ মার্চ শুক্রবার বেলা ১১টায় বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়।

    কী কারণে খুন : একই স্কুলে শিক্ষকতা করার সুবাদে বেশ কবছর থেকে কামরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের সঙ্গে বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দিপার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দুজন বিভিন্ন সময় একই সঙ্গে ঘোরাফেরা করত। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে কথা বলত। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। হত্যার একদিন আগেও স্নিগ্ধা সরকারকে কামরুলের মোটরসাইকেলের পেছনে দেখতে পায় বাবুসোনা। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়।

    নির্মাণাধীন বাড়ির যে ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এক সপ্তাহ আগে থেকেই সেখানে গর্ত করে রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া ওই বাড়ির পাশে একটি খোলা জায়গায়ও দুমাস আগে একটি বড় গর্ত করে রেখেছিল কামরুল। স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় এখানে কম্পোস্ট সার করা হবে। অবশ্য বাবুসোনাকে হত্যার পর পরিত্যক্ত ঘরেই পুঁতে রাখা হয়। এর ফলে অনুমান করা হয় বাবুসোনাকে হত্যার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের।

    কে এই কামরুল মাস্টার : বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধার প্রেমিক কামরুল এক সময় শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রহমতুল্লাহ বাবলা। তিনি বলেন, কামরুল মাস্টার জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এ সূত্রে অনেকেই মনে করছেন রাজনৈতিকভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করেন। কামরুল ইসলামের পৈতৃক বাড়ি তাজহাট মোল্লাপাড়া। তিনি পরিবার নিয়ে নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় বসবাস করলেও মোল্লাপাড়ার বাড়িতেও নিয়মিত যাতায়াত করতেন। শিক্ষকতার সুযোগে কামরুল স্নিগ্ধার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।

    গত ৩০ মার্চ থেকে আইনজীবী রথীশচন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা নিখোঁজের পর থেকে বিষয়টি র্যাব অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখে। প্রথমে রংপুর কোতোয়ালি থানায় ৩১ মার্চ একটি জিডি করা হয়। ওই জিডির ভিত্তিতে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে নিহত বাবুসোনার ছোট ভাই ১ এপ্রিল একটি মামলা করে। এর ধারাবাহিকতায় বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দিপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব সদস্যরা তাদের কার্যালয়ে নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি হত্যাকা-ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে র্যাবকে জানান।

    র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বাবুসোনার স্ত্রী জানান, পারিবারিক কলহ, সন্দেহ ও পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে তিনি তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করেন তার প্রেমিক কামরুল মাস্টার। কামরুল মাস্টার ও স্নিগ্ধা সরকার দিপা উভয়েই তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তারা গত দুমাস আগ থেকে বাবুসোনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    বাবুসোনা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলার সাক্ষী ছিলেন। চাঞ্চল্যকর জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি এবং মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যাকা-ের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ছিলেন।
    এ ছাড়াও রংপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সহ-সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রংপুর বিভাগের ট্রাস্টি, পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলার সভাপতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাবুসোনার এক ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে দীপ্ত ভৌমিক ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ছে। মেয়ে রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি / আলামিন আলম / আ স 

    (Visited 147 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *