Templates by BIGtheme NET
Home / রাজনীতি / গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে কারা হচ্ছেন বড় দুই দলের মেয়রপ্রার্থী ।। songbadprotidinbd.com

গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে কারা হচ্ছেন বড় দুই দলের মেয়রপ্রার্থী ।। songbadprotidinbd.com

  • ০৪-০৪-২০১৮
  • image-132441-1522783553সংবাদ প্রতিদিন বিডি রিপোর্টঃ  আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে মহানগর দুটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি নানা হিসাব-নিকাশ কষছে। কে হচ্ছেন এ দুই দলের মেয়রপ্রার্থী? এ প্রশ্নের উত্তর মেলাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে মহানগরবাসীর প্রত্যাশার বিষয়টিও। তাই প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছেন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বসে নেই স্থানীয় নেতারাও। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা তো বটেই, তাদের অনুসারীদেরও ঘুম নেই। প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দুটি দলেরই কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সবার মতামতের ভিত্তিতেই তারা যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেবেন।

    আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, দলটি ভিতরে ভিতরে গাজীপুরের মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে। মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। খুলনা সিটিতেও অনেকটা গোছানো সম্পন্ন। সেখানে সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুুল খালেক এমপি মেয়রপ্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। কিন্তু তিনি মেয়রপ্রার্থী হলে ছাড়তে হবে সাংসদের পদ। তবু শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তে তাকেই সেখানে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

    অন্যদিকে বিএনপিও বসে নেই। তারাও প্রার্থী চূড়ান্তকরণে তৎপর। গাজীপুরের বর্তমান মেয়র বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ মান্নান এবং খুলনার বর্তমান মেয়র মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি। মান্নান শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে সাবেক সংসদ সদস্য হাসানউদ্দিন সরকারের নাম রয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার শীর্ষে। অন্যদিকে, খুলনায় মনিরুজ্জামান মনির বিরুদ্ধে অভিযোগ মেয়র হওয়ার পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব বেড়েছে। সেখানে এবার মেয়রপ্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা নেতাকর্মীদের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। যদিও মনির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি।

    গত রবিবার আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৫ ও ৬ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে গাজীপুর ও খুলনা সিটিতে মেয়র পদে দলের হয়ে লড়াইয়ে ইচ্ছুকরা ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই তা জমা দিতে হবে। আবেদন জমা হওয়ার পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন।

    এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, যারা বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহী, তাদের আগামী ৫ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। জমা দিতে হবে ৬ এপ্রিল বিকাল ৫টার মধ্যে। আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার ৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

    আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, যে প্রক্রিয়াতেই দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী নির্বাচিত করা হোক, তাকে হতে হবে জনপ্রিয় ও যোগ্য এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সখ্য থাকতে হবে। এতে করে মাঠপর্যায়ে নেতৃবৃন্দের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব, তা-ও কিছুটা ঘোচানো সম্ভব হবে বলে মনে করে কেন্দ্র।

    আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, প্রার্থী যে-ই হোক, ক্ষমতাসীন সরকার যে পরিমাণ উন্নয়ন করেছে, এতে করে জনগণ নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

    বিএনপির নেতারা বলছেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবারও বিএনপির প্রার্থীই জয়ী হবেন। কারণ গত কয়েক বছরে বিএনপির জনপ্রিয়তা হ্রাসের মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। বরং খালেদা জিয়াকে জেলে নেওয়ার পর দলের নেতাকর্মীরা অধিকতর সক্রিয় হয়েছেন, দলীয় ঐক্য বেড়েছে। এখন দরকার নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ। খালেদা জিয়াকে জেলে নেওয়ার পর নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের নিপীড়ন বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাবে, যা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির চলমান আন্দোলন আরও বেগবান করবে।

    নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী মেয়র এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১২ এপ্রিল। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ১৪-১৫ এপ্রিল। প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ এপ্রিল।

    গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, দল থেকে জাহাঙ্গীর আলম সবুজ সংকেত পেলেও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান, যুবলীগ নেতা কামরুল আহসান সরকার রাসেল, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান কিরণ ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম। তারা সবাই এখন মেয়রপ্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আজমতউল্লাহ খান বলেন, ’৭৫পরবর্তী দলের ওপর যে আঘাত এসেছে, প্রতিকূলতা এসেছে তা আমি উতরে দলের ঝা-া ধরেছি। আশা করি দল এগুলোর মূল্যায়ন করবে। আমি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলেছেন। আমি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

    জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে মৌখিকভাবে বলে দিয়েছেন। এখন নৌকা প্রতীক বরাদ্দ হলে আমরা সবাইকে নিয়ে উৎসবমুখরভাবে কাজ করব। এজন্য সব ভোটারের ভোট, দোয়া ও সমর্থন চাই।

    বর্তমান মেয়র এমএ মান্নান এবং সাবেক সংসদ সদস্য হাসানউদ্দিন সরকারের বাইরে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সালাউদ্দিন সরকার, সোহরাব উদ্দীন, কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন সরকার।

    এমএ মান্নান বলেন, দলের চেয়ারপারসন জেলে রয়েছেন। এ অবস্থায় নির্বাচন এবং প্রার্থিতার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা মেনে নিয়েই নির্বাচনী মাঠে নামব। নির্বাচনের জন্য অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বিএনপি এখন অধিকতর ঐক্যবদ্ধ। আমাকে দলের মনোনয়ন দিলে লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত আছি।

    এমএ মান্নান বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময় অসুস্থ থাকায় তিনি মেয়র পদে তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেননি বলে মনে করছেন নেতাকর্মীদের একাংশ। এমতাবস্থায় তিনি নির্বাচনী প্রচারে কতটুকু নামতে পারবেন, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে তাদের।

    এমএ মান্নান ছাড়া বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ে আমি প্রস্তুত। ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে জেতার মতো অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। বরং গতবারের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দল আমাকে বা বর্তমান মেয়রকে, যাকেই মনোনয়ন দিক, কোনো বিরোধ হবে না।

    বড় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ছাড়াও মেয়র পদে আলোচনায় আছেন জাসদের মহানগর সভাপতি রাশেদুল হাসান রানা। তিনি বলেন, প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের বাইরে মেয়র পদে যোগ্য নেতা চাইছে নগরবাসী। এজন্যই নির্বাচনী মাঠে আছি। এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের গাজীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমানও আলোচনায় আছেন।

    খুলনা প্রতিনিধি জানান, গত সোমবার রাতে মহানগর আওয়ামী লীগের জরুরি বর্ধিতসভায় মেয়র পদে তালুকদার আবদুল খালেককেই দেখতে চান বলে উপস্থিত সবাই মতামত দিয়েছেন। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীতও হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য খুলনা থেকে প্রস্তাব আকারে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। সভায় ১০ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম সোহাগ।

    তারা হলেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন, শেখ সৈয়দ আলী, এমডিএ বাবুল রানা, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস এবং প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ সালাউদ্দীন জুয়েল ও শেখ সোহেল।

    বিএনপি থেকে বর্তমান সিটি মেয়র জেলার সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি এবং জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা মনোনয়নপ্রত্যাশী।
    মনিরুজ্জামান মনি বলেন, তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। আমাদের সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শফিকুল আলম মনা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে আমি নই। এর পরও দল যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব।

    জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খুলনায় সফরকালে মুসফিকুর রহমানকে দলের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মিল হককে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

    (Visited 58 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *