Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অর্থ ও বাণিজ্য / আর নতুন কোনো ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হবে না ।। songbadprotidinbd.com

আর নতুন কোনো ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হবে না ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৯-০৩-২০১৮
  • New-Bankসংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্ক রির্পোট: বর্তমান সরকারের এ মেয়াদে আর নতুন কোনো ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে যে তিনটি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর বাইরে অন্য কোনো নতুন ব্যাংক সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সূত্র জানায়, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি চিঠিতে লেখেন, সরকারের এই মেয়াদে আর কোনো নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হবে না। যেসব ব্যাংকের আবেদন ইতোমধ্যে করা হয়েছে সেগুলো নথিভুক্ত করে রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, দেশের অর্থনীতির যে আকার এতে ব্যাংকের সংখ্যা এমনিতেই বেশি। এ ছাড়া অনেক ব্যাংকের অবস্থা খারাপ। এই অবস্থায় কোনোক্রমেই আর নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া ঠিক হবে না। তাদের মতে আরও যে ৩-৪টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে সেগুলোও না দেওয়ার পক্ষে তারা মত দিয়েছেন। কেননা অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে দিচ্ছে না।

    এদিকে এই সরকারের মেয়াদ আছে আর মাত্র ৯ মাস। এর মধ্যে যদি আরও ৩-৪টি নতুন ব্যাংক দেওয়া হয় তা হলে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে।

    ব্যাংকের অনুমোদনকারী সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম), বিশিষ্ট ব্যাংকার এবং অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে নতুন করে ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু সব পক্ষের মতামত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১২ সালে ৯টি এবং পরবর্তী সময়ে সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মালিকানায় সীমান্ত ব্যাংকের অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু নতুন করে ব্যাংকের অনুমোদন পেতে আবেদন এবং তদ্বির বন্ধ হয়নি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এখনো প্রায় ৮০টির বেশি ব্যাংকের আবেদন পড়ে আছে। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়েও ব্যাংকের আবেদন করে অনেকে নানাভাবে তদ্বির করছেন।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এনজিও ব্যক্তিত্ব অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম ‘টিএমএসএস ক্ষুদ্র পুঁজি ব্যাংক’ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন ৭ বছর আগে। সেটি সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় নাকচ করে দিয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে এই ব্যাংকটির অনুমোদন দেওয়া হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, নতুন করে ব্যাংক অনুমোদনের ব্যাপারে আমরা বারবার নিষেধ করেছি। যেহেতু ব্যাংকগুলো নতুন কোনো প্রডাক্ট আনতে পারছে না। সেহেতু আপাতত নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। বরং ছোট-ছোট ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার পরামর্শ দেন তিনি।

    খোদ বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালে একটি সমীক্ষা করে। সেখানে বলা হয়, ‘আমাদের অর্থনীতির আকারের তুলনায় কার্যরত ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। সীমিত বাজারে অধিকসংখ্যক ব্যাংকের উপস্থিতিতে অসম প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যায়। তীব্র প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোর প্রধান আয় খাত একদিকে যেমন সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোয় অফ-ব্যালান্সশিট কার্যক্রমে অধিক আগ্রহী হয়ে পড়েছে, যা ব্যাংকিং খাতের সুষ্ঠু বিকাশের সহায়ক নয়।

    জানা গেছে, গত ৫ বছরে ব্যাংকগুলোর মোট সম্পদ, ঋণ ও আমানতের পরিমাণ বাড়লেও এগুলোর বৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে কমছে। মূলধন পর্যাপ্ততার হার, সম্পদের বিপরীতে মুনাফার হার এবং উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের (ইকুইটি) বিপরীতে মুনাফার হারও নিম্নমুখী। এ ছাড়া খেলাপি ঋণের হারও বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, নতুন ৯টি ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মাথায় বেশ কয়েকটি আর্থিক সংকটে পড়ে। বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণের ভারে আক্রান্ত। রয়েছে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা। ফলে নতুন ব্যাংকগুলো বাজারে এসে মন্দের বোঝা আরও ভারী করেছে। তারা ব্যাংকিং খাতে নতুন কোনো প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারেনি বা নতুন কোনো সেবাও নিয়ে আসতে পারেনি।

    এ ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ভালো চলছে। বাকিগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক প্রচ- রকম তারল্য সংকটে ভুগছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ইতোমধ্যে ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকগুলোর কয়েকটি এমনভাবে আগ্রাসী ব্যাংকিং করছে যে, তাদের এ প্রবণতা পুরো খাতে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। অন্য ব্যাংকের গ্রাহককে প্রলোভন দেখিয়ে তার ঋণ অধিগ্রহণ করে কেউ কেউ বিপাকেও পড়েছে।

    নতুন করে ব্যাংক অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে জরিপ চালায় সংস্থাটি। সম্প্রতি প্রকাশিত ওই জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৯৫ শতাংশ ব্যাংকারই চান না নতুন কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হোক। ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৫৫ শতাংশ। তবে ৯২ শতাংশ গ্রাহক ও ৭৫ শতাংশ ব্যাংকারই চান বর্তমানে কার্যরত ব্যাংকগুলোর নতুন শাখা চালু করা হোক।

     

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ / আ স  / ১৯।৩।১৮ 

    (Visited 17 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *