Templates by BIGtheme NET
Home / অন্যান্য / ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস ।। songbadprotidinbd.com

ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৪-০২-২০১৮
  • image-63796সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  ভালোবাসা যদি স্বর্গীয়ই হয় তাহলে ভালোবাসতে কী আলাদা করে কোনো দিন-ক্ষণ-তারিখ লাগে? ভালোবাসা তো প্রতিদিনের, প্রতিমুহূর্তের। কিন্তু বিশ্বে ভালোবাসার জন্য আলাদা একটি দিন আছে। হ্যাঁ, সেটি ১৪ ফে্ব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে।

    তবে জানেন কি কীভাবে এসেছিলো এই দিনটি? এ নিয়ে বিভিন্ন কাহিনী আর মতবাদ রয়েছে।তবে সবচেয়ে প্রচলিত যে কাহিনী রয়েছে সেটি আমরা একবার জেনে নিই:

    ইতিহাসের এই দিনটির জন্ম প্রায় সাড়ে ১৭০০ বছর আগে। ২৭০ সালে রোমান ধর্মযাজক সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি ছিলেন শিশু প্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপি এবং খ্রিষ্টধর্ম প্রচারক। সেই সময় ইতালির রোম শাসক ছিলেন রাজা ক্লডিয়াস। বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী ছিলেন ক্লডিয়াস। তিনি মোটেই সুশাসক ছিলেন না। তার রাজ্যের নানান অনিয়ম ও নিষ্ঠুরতায় প্রজারা অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আর এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্লডিয়াস কিছু যুবককে নিয়োগ দেন। আর রাজ্যের সব যুবকদের জন্য নির্দেশ দেন যে তারা কেউ বিয়ে করতে পারবে না। অত্যাচারী রাজার বিশ্বাস ছিল বিয়ে মানুষের সাহস কমিয়ে দেয় ও মনোবল দূর্বল করে ফেলে।

    পুরো রাজ্যে যখন বিয়ে নিষিদ্ধ তখন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন যুবকদের কে গোপনে বিয়ে দিয়ে সাহায্য করতেন। ফলে তাকে ‘ভালোবাসার বন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজার নির্দেশ অমান্য করার কারণে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে আটক করে কারাবন্দি করা হয়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাঁকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত।

    কারাগারে থাকাকালীন কারারক্ষক সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন কে অনুরোধ করেন তার আধ্যাত্মিক শক্তিতে অন্ধ মেয়ের চোখ ভালো করে দিতে। সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন পরে সেই মেয়ের চোখ ভালো করে দেন এবং সেই সূত্রে সেই মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক শক্তির কথা শোনার পর রাজা তাকে রাজ দরবারে ডেকে পাঠান এবং তার রাজ্যের জন্য কাজ করতে বলেন। তখন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন অস্বীকৃতি জানান এবং যুবকদের বিয়ে বন্ধ করার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন। ফলে রাজা ক্ষেপে গিয়ে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার আদেশ দেন।

    মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঠিক আগ মূহূর্তে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন একটি কাগজ ও কলম চেয়ে নেন এবং সেই মেয়েটিকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠির একদম শেষে তিনি বিদায় সম্ভাষন হিসেবে লিখেন ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন’ যা সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২৭০ খৃষ্টাব্দ। সেই থেকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের স্মরণে প্রতিবছর পালন করা হয় ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। সেই থেকেই দিনটির শুরু।

    সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দু’জন প্রাণ খুলে কথা বলত। এভাবে এক সময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়।

    ভ্যালেন্টাইনের ভালবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খৃস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদন্ড দেন। সেই স্মৃতি বাঁচিয়ে রেখে আজও বিশ্বে পালিত হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

    (Visited 31 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *