Templates by BIGtheme NET
Home / লাইফস্টাইল / ভালোবাসার রঙে রঙিন হলো বিশ্ব ।। songbadprotidinbd.com

ভালোবাসার রঙে রঙিন হলো বিশ্ব ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৪-০২-২০১৮
  • Amir-emi-v-9লাইফস্টাইল ডেস্কঃ  ফাগুনের রঙিন হাওয়া যেন ভালোবাসার প্রতিটি মুহূর্তকে আরো রঙিন করে তোলে। তাইতো সারা বছরের পুরনো ভালোবাসাকে মনে করার জন্য বেঁছে নেওয়া হয় ফাগুনের দ্বিতীয় দিনটিকে।

    আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’। তবে শুধু তরুণ-তরুণী শুধু নয়, আজ সব বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও এটি।

    কিন্তু শুধু একটি দিন ভালোবাসার জন্য কেন?` এ প্রশ্নে কবি নির্মলেন্দ গুণের ছোট জবাব, `ভালোবাসা একটি বিশেষ ৭ দিনের জন্য নয়। সারাবছর, সারাদিন ভালোবাসার। তবে আজকের এ দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে বেছে নিয়েছে মানুষ।`

    ভালোবাসা নিয়ে অজস্র কবিতা আর গান আজ মুখে মুখে মনে মনে সুরে-বেসুরে আবৃত্তি আর গীত হবে। আজ প্রিয়তমার হাত ধরে কিংবা পাশে বসে অনেকেই রচনা করবে নিজেদের ভবিষ্যত।

    ভালোবাসাটা মানুষের আবেগ অনুভূতির একটা স্বাভাবিক রূপ। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোলাগা, শ্রদ্ধাবোধ থেকেই মূলত ভালোবাসার উৎপত্তি। অবশ্য ভালোবাসার সংজ্ঞাটা আরো ব্যাপক, এটা যে কোন ঘটনা, ব্যক্তি, প্রাণী, স্মৃতি, বিষয় ইত্যাদির ব্যাপারেও হতে পারে। বিশেষ কোন “সাবজেক্ট”-এর ব্যাপারে মানুষের বিশেষ অনুভূতির নামই ভালোবাসা। সবচেয়ে বড় যে পার্থক্য সেটা হলো, ভালোবাসা সাধারণত এক-তরফা হয়, তবে দু’তরফাও হতে পারে।

    ভালো লাগা থেকেই ভালোবাসার সূচনা হলেও কারও প্রতি ভালো লাগাটাই কিন্তু ভালোবাসা নয়। ভালো লাগা যখন হৃদয়ের সবটুকু দখল করে তীব্র এক অনুভূতি জাগায়, যে অনুভূতিকে অগ্রাহ্য করা অসম্ভব, তখনই তাকে ভালোবাসা বলা যায়। আর তখন ভালো লাগা হয়ে ওঠে ভালোবাসার এক অব্যক্ত অনুভূতি।

    কোনো কিছুর সৌন্দর্য যখন ভালো লাগে, তখন তা মানুষকে বিমোহিত করে, কিন্তু ভালোবাসা সে সৌন্দর্যের প্রতি তৈরি করে আকর্ষণ। ভালো লাগা এবং ভালোবাসার সম্পর্ক পৃথক সৌন্দর্যে সুন্দর।

    ভালো লাগায় পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে না, থাকলেও তা অতি নগণ্য। ভালোবাসায় কাছে পাওয়ার এক প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা কাজ করে, যা হয় যাতনাময়। ভালো লাগা মানুষকে যত্ন করতে শেখায়, কিন্তু ভালোবাসা সেই যত্নকে নিয়ে যায় আরও তীব্র পর্যায়ে, যা মানুষকে রক্ষকের ভূমিকা পালন করায়। ভালো লাগার সব অনুভূতিকে শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত করে এক মহিরুহের পর্যায়ে নিয়ে যায় ভালোবাসা। ভালো লাগার ব্যাপারটা ক্ষণিকের হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা হয় দীর্ঘস্থায়ী। বলা যায়, ভালো লাগার আরেক নাম কামনা। আর ক্ষণিকের কামনা কখনো ভালোবাসা হতে পারে না। প্রেম বা ভালোবাসার ব্যাপ্তি যে আরও বিশাল।

    কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘কামনা আর প্রেম দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। কামনা একটা সাময়িক উত্তেজনা, আর প্রেম হচ্ছে ধীর, প্রশান্ত ও চিরন্তন।’
    ভালো লাগার এক সুন্দর, স্নিগ্ধ, আবেগী পরিণতির নামই ভালোবাসা।

    তবে সৌন্দর্য্যের কথা যদি বলি। তাহলে বলতেই হয়, সৌন্দর্যই আমাদের প্রেমের বা ভালোবাসার সূচনাকারী। যা সুন্দর তা-ই আমরা চোখের পলকে ভালোবেসে ফেলি। সৌন্দর্যের পূজারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন- ‘সৌন্দর্য প্রধানত সামঞ্জস্য নির্ভর এবং এই সামঞ্জস্য শুধু সুন্দরের প্রতিটি অংশে নয়, সমস্ত জগতের সঙ্গে। …সৌন্দর্য হৃদয়ে প্রেম জাগ্রত করিয়া দেয় এবং প্রেমই মানুষকে সুন্দর করিয়া তোলে।’ সুতরাং বলা যায় যে, সৌন্দর্যই প্রেমকে জাগিয়ে দেয়। যেখানে সৌন্দর্য আছে, সেখানে প্রেমও আছে। তাই সৌন্দর্য ও প্রেমের মধ্যে পারস্পরিক কার্যকারণ সম্বন্ধ রয়েছে।

    নতুন বা পুরানো যে কোনো জুটিই এই দিনটির জন্য নানান ধরনের পরিকল্পনা সাজাতে থাকেন বেশ আগে থেকেই। এ কারণেই দিনটি ঘনিয়ে এলে কেমন পোশাক পরবো, কীভাবে সাজবো- এমন নানা চিন্তা মনের মাঝে ভর করে।

    ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিনে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট-টপস, ফতুয়া বা যে কোনো পোশাক বেঁছে নিতে পারেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী। চাইলে হাল ফ্যাশেনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গাউন, স্কার্টের উপর লম্বা ফতুয়া বা ম্যাক্সি ড্রেসও পরতে পারেন। পোশাক যা হোকনা কেন, সাজতে হবে পোশাকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। তা ছাড়া দিনের এবং রাতের সাজের পার্থক্যটিও মাথায় রাখতে হবে।

    ভালোবাসার রং লাল, এমনটাই বেশ প্রচলিত। তাই এ দিনে লালের আধিক্য থাকে চোখে পড়ার মতো। তবে খেয়াল রাখতে হবে পুরো পোশাকে যেন লালের আধিক্য না থাকে। কারণ অতিরিক্ত লাল রং দৃষ্টি কটু হতে পারে। শাড়ি লালবেঁছে নিলে ব্লাউজ, ব্যাগ এবং স্যান্ডেল বেঁছে নিন সোনালী, কালো বা সাদা রংয়ের। এতে ভালোবাসার রংও থাকবে, আবার তা দৃষ্টিকটুও হবেনা।

    (Visited 51 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *