Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / আইন ও অপরাধ / প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত ‘উল্লাহ বাহিনী’: ডিবি ।। songbadprotidinbd.com

প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত ‘উল্লাহ বাহিনী’: ডিবি ।। songbadprotidinbd.com

  • ১১-০২-২০১৮
  • 8c8a282cbc8c39f21a7352565640b037-5a800b96e823eসংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ  আমান উল্লাহ, বরকত উল্লাহ, আহসান উল্লাহ—তাঁরা আপন তিন ভাই। চাঁদপুর থেকে এসে তাঁরা বসবাস শুরু করেন রাজধানী ঢাকার ইন্দিরা রোডের একটি বাসায়। এসএসসি পরীক্ষা শুরুর কয়েক দিন আগে এই তিন ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘোষণা দেন। তাঁরা এমনও বলেন, তাঁদের কেউ ধরতে পারবে না, ধরার সামর্থ্যও নেই। ওই তিন ভাইসহ প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ১১ জন হলেন রাহাত ইসলাম, সালাউদ্দিন, সুজন, জাহিদ হোসেন, সুফল রায় ওরফে শাওন, আল আমিন, সাইদুল ইসলাম, আবির ইসলাম, শাহাদত হোসেন, ফাহিম ইসলাম ও তাহসিব রহমান।

    রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গতকাল শনিবার তাঁদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজে ব্যবহৃত ডিভাইস, যেমন: এইচপি ল্যাপটপ, স্যামসাং, নকিয়া, সিম্ফোনি, লাভা, হুয়েই, লেনোভো, আইফোন ব্রান্ডের মোট ২৩টি মুঠোফোন ও নগদ ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

    আজ রোববার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এই উল্লাহ বাহিনীর মধ্যে আমান উল্লাহ সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাঁরা মূলত মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমোতে গ্রুপ ওপেন করে অ্যাডমিন পরিচালনা করতেন। অনেক ছাত্রকে তাঁরা গ্রুপের সদস্য করতেন। যেদিন যে পরীক্ষা হবে, সেই পরীক্ষার ভিত্তিতে গ্রুপ খোলা হতো।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস ও নগদ অর্থ। মিন্টো রোড, ঢাকা, রোববার, ২০১৮, প্রথম আলো।পরীক্ষা শুরু হওয়ার সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগেই আসল প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় মন্তব্য করে আবদুল বাতেন বলেন, পরীক্ষার এক দিন আগে ভুয়া প্রশ্নপত্র ছড়াতেন তাঁরা। প্রকৃত প্রশ্নের সঙ্গে এসব প্রশ্নের মিল নেই। তবে পরীক্ষার দিন কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার হলে আনার সময় প্রশ্নপত্রের বান্ডেল খোলা হয়। বান্ডেল খোলার আগে এই প্রশ্ন দেখার সুযোগ কারও নেই। কেন্দ্র থেকে কক্ষে যাওয়ার সময়ে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগে কোনো ‘দুষ্টু’ লোক মোবাইলে ছবি তুলে গ্রুপগুলোয় ছেড়ে দেয়। এমসিকিউ পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই কাজ বেশি হয়। এই প্রশ্ন সরাসরি ছাত্রদের মধ্যে পৌঁছানো বেশ কঠিন। বেশির ভাগ সময় পরীক্ষার সকালে, কখনো কখনো পরীক্ষার আগের দিন রাতে একেক গ্রুপ একেক ধরনের প্রশ্নের সেট বিক্রি ও সরবরাহ করতে থাকে, যা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। তাঁরা এসব প্রশ্ন বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে পাঁচ শ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বোর্ডের কারও সম্পৃক্ততা এ পর্যন্ত তদন্তে তাঁরা পাননি বলে জানান আবদুল বাতেন।

    ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার পরীক্ষায় ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর পর বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং ধর্ম বিষয়ের পর গতকাল গণিতেরও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়।

    প্রথম দুদিনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু সেই কমিটি এখনো কাজই শুরু করেনি। ফাঁস হওয়া বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল হবে কি না, তা এই কমিটির দেখার কথা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এই কমিটির কার্যপরিধি ঠিক করে দেওয়ার কথা।

    কমিটির প্রধান কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এখনো কমিটির আদেশই পাননি।

    (Visited 19 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *