Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / উপসম্পাদকীয় / পবিত্র ধর্মে জঙ্গিবাদের স্থান নেই ।। songbadprotidinbd.com

পবিত্র ধর্মে জঙ্গিবাদের স্থান নেই ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৩-০১-২০১৮
  • Islamফজলুল হক খান:  জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক সমস্যা। এ সমস্যার শেষ কোথায় আমরা কেউ জানি না। সম্প্রতি সিরিয়ার একটি ঘটনা বিশ্বমানবকে আরও বেশি ভাবিয়ে তুলেছে। বাবা-মা তাদের আদরের ছোট্ট দুই সন্ত্মানের গায়ে সুইসাইড বোম জড়িয়ে বললেন যাও পুলিশ লাইনে ঢুকে বোতাম টিপে দিবে। বেহেশতে আবার দেখা হবে। এরা কি মানুষ না অমানুষ। ধর্মান্ধ মানুষকে কীভাবে অমানুষে পরিণত করে এটা তার একটি নমুনা। আজ পৃথিবীতে যে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়েছে তার প্রেরণা বা মূল উৎস ধর্ম নয়, ধর্মান্ধ। পবিত্র ধর্ম কখনই জঙ্গিবাদ, হত্যা কিংবা আত্মহত্যাকে সমর্থন করেণা। অথচ বর্তমান জঙ্গিবাদের সঙ্গে এই তিনটি বিষয়ই ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। আমি কোরআন হাদিসের আলোকে বিষয় তিনটির ওপর পর্যায়ক্রমে একটু আলোচনা করব। শিরকের পরই নরহত্যার স্থান। নরহত্যা মহাপাপ। এটা আমার কথা নয়। পবিত্র কোরআনের কথা। পবিত্র কোরআনে আলস্নাহপাক বলেছেন, এ কারণেই বনি ইসরাইলদের প্রতি এই বিধান দিলাম যে, নরহত্যা এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ব্যতীত কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন পৃথিবীর সব মানুষকেই হত্যা করল আর কেউ কারও প্রাণ বাঁচালে সে যেন পৃথিবীর সব মানুষের প্রাণ বাঁচাল (সুরা মায়িদা আয়াত-৩২)। আল্লাহ্‌ পাক এই আয়াতে একটা সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন কাকে কীভাবে হত্যা করা যাবে। একমাত্র হত্যাকারী, যে মানুষ হত্যা করে এবং যারা ফেৎনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে সমাজে অশান্ত্মি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালায় ও বিবাহিত জীবনে ব্যভিচার করে তাদের হত্যা করা যাবে। তবে কোনো ব্যক্তি নিজে এ ধরনের অপরাধীদের হত্যা করতে পারবে না। তাহলে সে নিজেই হত্যাকারী হয়ে যবে। একমাত্র রাষ্ট্র তার নিজস্ব আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য মৃতু্যদ- দিতে পারে। রাষ্ট্র ব্যতীত ব্যক্তিগতভাবে কেউ কাউকে হত্যা করলে সে পৃথিবীর সব মানুষকে হত্যার অপরাধে অপরাধী এবং কেউ কারো প্রাণ বাঁচালে সে পৃথিবীর সব মানুষের প্রাণ বাঁচানোর পুণ্যে পুণ্যবান। এই আয়াতে আলস্নাহপাক হত্যা কত বড় পাপ এবং প্রাণ বাঁচান কত বড় মর্যাদার- এ কথাই বুঝিয়েছেন। যাতে করে মানুষ আলস্নাহর সৃষ্টি জীবের প্রতি দয়াশীল হয় এবং প্রাণ রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়।

    এই আয়াতের প্রথমেই আলস্নাহপাক বলেছেন, এ কারণেই বনি ইসরাইলদের প্রতি এই বিধান দিলাম যে, অর্থাৎ এই বিধানটি দেয়ার পেছনে একটা সুনির্দিষ্ট কারণ আছে। কারণটি জানতে সুরা মায়দার ২৭নং আয়াত থেকে ৩১নং- এ পাঁচটি আয়াতের মর্ম বুঝতে হবে। প্রত্যেকটি আয়াতের আলাদা আলাদা তাফসির করতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমি উক্ত পাঁচটি আয়াতের মুল মর্মার্থটুকু উপস্থাপন করব।
    হযরত আদমের (আ.) স্ত্রী হযরত হাওয়া প্রতি প্রসবে একজন পুত্র এবং একজন কন্যা সন্ত্মান জন্ম দিতেন। এভাবে বিশ বারে ৪০ জন সন্ত্মান জন্ম দিয়েছিলেন। প্রথম প্রসবে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল কাবিল এবং আকলিমা। দ্বিতীয় প্রসবে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল হাবিল আর লিমুজা। তারা যখন যৌবনপ্রাপ্ত হলেন, তখন আদম (আ.) কাবিলের সঙ্গে লিমুজা এবং হাবিলের সঙ্গে আকলিমার বিবাহ দেয়ার সিদ্ধান্ত্ম নিলেন। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি করল কাবিল। আকলিমা ছিলেন পরমাসুন্দরী। তাই কাবিল তার সহজন্মের বোনকে ছাড়তে রাজি হলো না। সে সিদ্ধান্ত্ম নিল আকলিমাকেই বিয়ে করবে। আদম (আ.) বললেন, তোমার জোড়া বোন তোমার জন্য বৈধ নয়। এটা আলস্নাহপাকের বিধান। কাবিল বলল, না এটা আলস্নাহর বিধান নয়, আপনার ব্যক্তিগত অভিমত। হযরত আদম (আ.) বললেন ঠিক আছে। তোমরা দু’জনেই কোরবানি কর। যার কোরবানি কবুল হবে সেই লাভ করবে আকলিমাকে। তখন কোরবানি কবুল হওয়ার নিদর্শন ছিল আকাশ থেকে সাদা আগুন এসে কোরবানি ভস্মীভূত করে দিত। তারা দু’জনেই কোরবানি করার পর আকাশ থেকে সাদা আগুন এসে হাবিলের কোরবানি ভস্মীভূত করে দিলো। কাবিলের কোরবানি স্পর্শও করল না অর্থাৎ কাবিলের কোরবানি কবুল হলো না। কাবিল রাগে ফুঁসতে লাগল। সব রাগ গিয়ে পড়ল হাবিলের ওপর। সিদ্ধান্ত্ম নিল হাবিলকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে। সুযোগের অপেক্ষায় থাকল সে। কাঙ্ক্ষিত সুযোগও এসে গেল। কিছুদিনের মধ্যেই হযরত আদম (আ.) হজ সম্পাদনের জন্য মক্কা অভিমুখে যাত্রা করলেন; কিন্তু সমস্যা হলো, সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না হত্যাকা- সংঘটিত করবে কীভাবে? তখন শয়তান তার রূপ পরিবর্তন করে কাবিলের সামনে একটি পাখিকে ধরে পাথরের ওপর রেখে অন্য একটি পাথর দ্বারা মাথা থেতলে দিল এবং পাখিটি মারা গেল। কাবিল ভাবল এভাবেই তো হত্যা করা যায়। একদিন হাবিল পাথরের ওপর মাথা রেখে নিদ্রিত ছিলেন কাবিল এ সুযোগে পাথর দ্বারা তার মস্ত্মক চূর্ণ করে দিল।

    পৃথিবীতে সংঘটিত হলো প্রথম হত্যাকা- এবং পৃথিবী প্রকম্পিত হলো। পৃথিবীর মাটি হলো প্রথম রক্তে রঞ্জিত। হাবিলকে হত্যা করার সময় আদম (আ.) ছিলেন মক্কায়। আদম (আ.) লক্ষ্য করলেন বৃক্ষ হয়ে পড়েছে কণ্টকাকীর্ণ, আহার্য্য বস্তু হয়ে পড়েছে স্বাদহীন। ফলবান বৃক্ষ থেকে ঝরে পড়তে লাগল ফলসম্ভার। পানি হলো লবণাক্ত। মাটি হলো বালুকাময়। এসব পরিবর্তন দেখে আদম (আ.) আপন মনে বললেন, পৃথিবীতে নিশ্চয়ই কোনো অঘটন ঘটেছে। তিনি গৃহ অভিমুখে ফিরে চললেন। গৃহে ফিরেই জানতে পারলেন কাবিল হাবিলকে হত্যা করেছে। তিনি পুত্র বিরহে কাতর হয়ে শোকবাণী আবৃত্তি করলেন এভাবে, ‘পৃথিবীবাসী তাদের রূপ পরিবর্তন করেছে। দেখ না পৃথিবী কেমন ধুসর অসুন্দর, আহার্য্য হয়ে পড়েছে স্বাদহীন, পরিবর্তিত হয়েছে নিঃসর্গের রঙ। সুন্দর যা কিছু তা হয়ে পড়েছে ক্ষণজন্মা। এই শোকবাণীই পৃথিবীর প্রথম কবিতা।
    কাবিলের ওপর নেমে এলো অভিশাপ। তাকে বলা হলো যাও বিভ্রান্ত্মের মতো যত্রতত্র বিচরণ কর। কোথাও তুমি শান্ত্মি লাভ করতে পারবে না। কাবিল তার সহজন্মের বোন আকলিমাকে নিয়ে ইয়েমেনের এডেন নামক স্থানে চলে গেল। সেখানে ইবলিশ সুহৃদ সেজে তাকে বলল, হাবিল ছিল অগ্নিউপাসক। তাই আকাশ থেকে আগুন এসে তার কোরবানি ভস্মীভূত করেছিল। তুমিও অগ্নিপূজার প্রচলন করো। তাহলে আগুনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে তোমার এবং তোমার বংশধরের একচ্ছত্র অধিকার। ইবলিশের পরামর্শে কাবিল অচিরেই অগ্নিমন্দির প্রতিষ্ঠা করে সর্বপ্রথমে সে উপাসনা করল আগুনের।

    আলস্নাহপাক কাবিলের শাস্ত্মি নির্ধারণ করলেন দোজখের অর্ধেক আজাব ভোগ করবে কাবিল একা আর বাকি অর্ধেক আজাব ভোগ করবে সমস্ত্ম দোজখবাসী। হত্যাকারীরা হবে কাবিলের সাথী। দোজখে প্রবেশের আগে আর কাবিল থেকে পৃথক হতে পারবে না। যাদের ধারণা মানুষ হত্যা করে কিংবা আত্মহুতি দিয়ে তথাকথিত শহীদ হবে এবং বেহেশতের দারোয়ান, পিয়ন, হুরপরীরা তাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। প্রকৃতপক্ষে তাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দোজখের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর প্রথম হত্যাকারী কাবিল। মহান আলস্নাহতালা অসীম দয়ালু। তার সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের প্রতি অত্যন্ত্ম দয়াশীল। তার প্রিয় বান্দা মানুষ যেন নরহত্যা করে কাবিলের সঙ্গী না হয় তাই সাবধান করার জন্য এই বিধান দিয়েছেন।

    আত্মহত্যা আর এক মহাপাপ। সুইসাইডাল স্কোয়াড এ নামের মধ্যেই এর পরিচয় নিহিত। আত্মহত্যা ছাড়া আত্মঘাতী হওয়া যায় না। আত্মহত্যাকারী জাহান্নামি এটা পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। আলস্নাহতায়ালা ইরশাদ করেন, এবং তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা কর না, নিশ্চিত জেনে রাখ, আলস্নাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। যে ব্যক্তি সীমা লঙ্ঘন ও জুলুমের সঙ্গে এরূপ করবে আমি তাকে আগুনে ঢোকাব আর আলস্নাহর পক্ষে এটা অতি সহজ (সুরা নিসা আয়াত-২৯, ৩০)। বোখারি এবং মুসলিম শরিফেও আত্মহত্যাকারীর পরিণাম জাহান্নাম একথা স্পষ্টভাবে বলা আছে। রাসুল পাক (স.) বলেন, পূর্ববর্তী উম্মতে এক ব্যক্তি ছিল, তার হাতে একটি ক্ষত ছিল। সে এক সময় যন্ত্রণা সইতে না পেরে অধৈর্য্য হয়ে ছুরি দ্বারা তার হাত কেটে ফেলে, ফলে রক্তক্ষরণে তার মৃতু্য হয়। তখন আলস্নাহতালা বলেন, ‘আমার বান্দা তার মৃতু্যর ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত্মের অপেক্ষা করেনি। অতএব, আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বোখারি শরিফ)

    এই জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে আর একটি বিষয় জড়িত হলো তথাকথিত জিহাদ। এ ধরনের জিহাদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সংস্রব নেই। এই ভ্রান্ত্ম মতবাদীরা জিহাদের প্রকৃত অর্থই জানে না। জিহাদ একটি আরবি শব্দ এর অর্থ হলো কোনো কিছুর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা। প্রথম হলো, নিজের নফসের বিরম্নদ্ধে জিহাদ করা। খারাপ চিন্ত্মা-চেতনা এবং খারাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। দ্বিতীয় হলো ভালো কাজের আদেশ করা, মন্দ কাজে নিষেধ করা। তৃতীয় জিহবার দ্বারা জিহাদ করা অর্থাৎ হিকমত ও উত্তম পন্থায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা, মানুষকে আলস্নাহর রাস্ত্মায় আহ্বান করা এবং সর্বশেষ ধাপ হলো সশস্ত্র জিহাদ। সশস্ত্র জিহাদের চারটি শর্ত আছে। তা হলো (১) একজন মানুষ মুসলমান, শুধু এই কারণে যদি তার সম্পদ কেড়ে নেয়া, বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা, দেশত্যাগে বাধ্য করা (২) ইবাদত করতে মসজিদে যেতে বাধা দেয়া হয় (৩) তাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য যদি মুশরিকরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় এবং সৈন্য সমাবেশ ঘটায় (৪) জিহাদ ঘোষণা করতে পারবে শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জিহাদ ঘোষণার অধিকার নেই। ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ওপর মুশরিকরা অত্যাচার করেছে, ধর্ম ত্যাগ করার জন্য চাপ দিয়েছে, তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। এমতাবস্থায় রাসুল পাক (সা.) আলস্নাহ তায়ালার কাছে সত্তর বার জিহাদের অনুমতি চেয়েছেন কিন্তু আলস্নাহতায়ালা জিহাদের অনুমতি দেননি। শেষ পর্যন্ত্ম তিনি আলস্নাহর নির্দেশে নিজ জন্মভূমি ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করেছেন। মক্কা মুসলমানদের তীর্থস্থান। হোদাইবিয়ার সন্ধির আগ পর্যন্ত্ম মুশরিকরা কাবা শরিফে হজ পালনে বাধা দিয়েছে। যখন মদিনা থেকেও মুসলমানদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে, সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে তখনই আলস্নাহপাক রাসুল পাক (সা.) কে শর্তসাপেক্ষে মুশরিকদের বিরম্নদ্ধে জিহাদ করার অনুমতি দিয়েছেন। আলস্নাহপাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘যারা তোমাদের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ করে তোমরাও আলস্নাহর পথে তাদের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ কর; কিন্তু সীমালঙ্ঘন কর না। আলস্নাহ সীমা লঙ্ঘনকারীকে ভালোবাসেন না (সুরা বাকারা আয়াত-১৯০)।

    এ আয়াতে তোমরা সীমালঙ্ঘন কর না এ কথার মাধ্যমে আলস্নাহপাক জিহাদে কোনো শিশু, নারী, বৃদ্ধ, ধর্মযাজককে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। সন্ধিভুক্ত অর্থাৎ যাদের সঙ্গে ইতিপূর্বে মুসলমানদের সন্ধিচুক্তি হয়েছে এবং চুক্তির কোনো শর্ত লংঘন করেনি তাদের বিরম্নদ্ধেও জিহাদ করতে নিষেধ করেছেন। যুদ্ধকালীন সময়ে কোনো ফলবান বৃক্ষ নষ্ট করা যাবে না। মুশরিকরা পরাজিত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নরত অবস্থায় পিছন থেকে আঘাত করা যাবে না। পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতীত জিহাদে অংশগ্রহণ করা যাবে না। কেউ যদি পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতীত জিহাদে অংশগ্রহণ করে এবং শহীদ হন তার জন্য পিতা-মাতার অনুমতি না নেওয়ার জন্য জান্নাত হারাম এবং জিহাদে শহীদ হওয়ার জন্য জাহান্নাম হারাম। এমতাবস্থায় তাদের স্থান হবে জান্নাত এবং জাহান্নামের মাঝামাঝি আরাফ নামক স্থানে।
    বিরিয়ানি আর হুরপরীর আশায় ইবাদত করলে বেহেশত পাওয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে আমি তাওরাতের একটা কথার উদ্ধৃতি দিতে চাই, তাওরাত কিতাবে আলস্নাহপাক বলেছেন, ‘যে বেহেশতের আশায় এবং দোজখের শাস্ত্মি থেকে নাজাত পাওয়ার জন্য আমার ইবাদত করে তার চেয়ে বড় জালিম কে হতে পারে? আমি যদি বেহেশত দোজখ সৃষ্টি না করতাম তা হলে কি ইবাদত পাওয়ার যোগ্য হতাম না।’ এ প্রসঙ্গে ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বেহেশতের আশায় আলস্নাহর ইবাদত করে সে ব্যক্তি উদর এবং কাম প্রবৃত্তির দাস। কেননা, সে এমন স্থানে যাওয়ার অভিলাষী হয়ে ইবাদত করে থাকে সেখানে উদরপূর্তি ও কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থকরণের প্রচুর উপকরণ বিদ্যমান। আর যারা দোজখের শাস্ত্মির ভয়ে এবাদত করে তারা দুষ্ট প্রকৃতির গোলাম সদৃশ্য। লাঠি উঁচিয়ে ধমক না দিলে কাজ করতে চায় না। এ দু’শ্রেণির আবেদগণের সঙ্গে আলস্নাহর কোনো সংস্রব নেই। কারণ তারা নিজেদের সুখ শান্ত্মির জন্য আলস্নাহর ইবাদত করে থাকে। আলস্নাহপাকের দর্শন লাভের চিন্ত্মা তাদের মাঝে নেই। আলস্নাহতালার প্রকৃত বান্দা তারাই যারা একমাত্র আলস্নাহতালার সন্ত্মষ্টি লাভের জন্য ইবাদত করে থাকে।

    কোরআন হাদিসের আলোকে একথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, হত্যা এবং আত্মহত্যাকারীদের দুনিয়া এবং আখেরাত দুটোই বরবাদ। এই জঘন্য পাপ কাজকে যারা পুণ্যের কাজ মনে করছে তাদের জন্য সুরা রম্নম আয়াত-৩২-এর তাফসিরের অংশ বিশেষ উদ্ধৃতি দিতে চাই। উক্ত আয়াতের তাফসিরের এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘এক দিন ইবলিশ তার সাঙ্গপাঙ্গদের ডেকে বলল, তোমরা আদম সন্ত্মানদের বিভ্রান্ত্ম করার জন্য কিরূপ প্রচেষ্টা চালাও? সাঙ্গপাঙ্গরা বলল, আমরা যথারীতি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সমস্যা হলো একাত্মবাদের সঙ্গে মার্জনার মত একটি বিষয় জড়িত আছে। আমরা সারাদিন পরিশ্রম করে আদম সন্ত্মানদের দু’চার জনকে পাপ কাজে নিয়োজিত করি। কিন্তু তারা যখন আলস্নাহর কাছে মার্জনা প্রার্থনা করে আলস্নাহতালা তখন তাদের মাফ করে দেন। একথা শুনে ইবলিশ বলল, ঠিক আছে আমি এমন এক প্রথার প্রচলন ঘটাব, যাতে আদম সন্ত্মানরা পাপকে পাপই মনে করবে না বরং পাপকে পুণ্যের কাজ মনে করবে। বর্তমানে জঙ্গিরা হত্যা এবং আত্মহত্যাকে সেভাবে পুণ্যের কাজ মনে করছে তাতে মনে হয় ইবলিশ কামিয়াব হয়েছে।

    জঙ্গিবাদীরা যেসব পাপকে পুণ্যের কাজ মনে করছে এবং যেভাবে তাদের মগজ ধোলাই করা হয়েছে তাতে মনে হয় শুধু নীতিবাক্য, কোরআন-হাদিসের ব্যাখ্যা করে তাদের সঠিক পথে আনা যাবে না। ইতিমধ্যে যাদের মগজ ধোলাই হয়ে গেছে তাদের ফিরিয়ে আনতে না পারলেও নতুন করে যাতে জঙ্গি সৃষ্টি হতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রশাসনকে নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

    ফজলুল হক খান: গীতিকার, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক

    (Visited 29 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *