Templates by BIGtheme NET
Home / সংবাদ প্রতিদিন » স্পেশাল / রাজধানীর সরবরাহকৃত ৯৭ শতাংশ জারের পানিতেই মানুষের মল ।। songbadprotidinbd.com

রাজধানীর সরবরাহকৃত ৯৭ শতাংশ জারের পানিতেই মানুষের মল ।। songbadprotidinbd.com

  • ২৮-১২-২০১৭
  • 1455386120_p-3সংবাদ প্রতিদিন বিডি রিপোর্টঃ  রাজধানীতে সরবরাহকৃত ৯৭ শতাংশ জারের পানিতেই ক্ষতিকর মাত্রায় মানুষ ও প্রাণীর মলের জীবাণু পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) একদল গবেষক। কলিফর্ম নামে এই জীবাণু মূলত কলেরা রোগের প্রধান উপসর্গ। শাকসবজিতে কীটনাশক দূষণ, বোতলজাত ও জার পানিতে বিদ্যমান খনিজ উপাদানের মাত্রা ও গুণাগুণ নির্ণয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এমন ভীতিকর তথ্য মিলে।

    কাউন্সিলের পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম জানান, গবেষকরা জার পানির গবেষণায় ২৫০টি নমুনা সংগ্রহ করেন। বিশেষ করে ঢাকার ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, চকবাজার, সদরঘাট, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, বাসাবো, মালিবাগ, রামপুরা, মহাখালী, গুলশান, বনানী, উত্তরা, এয়ারপোর্ট, ধানম-ি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী, আমিনবাজার, আশুলিয়া ও সাভার এলাকা থেকে এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

    গবেষণায় দেখা যায়, সংগৃহীত নমুনাগুলোতে টোটাল কলিফর্মের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে সর্বনিম্ন ১৭ ও সর্বোচ্চ ১৬০০ এমপিএন (সম্ভাব্য নম্বর) মাত্রা পাওয়া গেছে। আর ফেকাল কলিফর্মের ক্ষেত্রে মাত্রা ছিল সর্বনিম্ন ১১ ও সর্বোচ্চ ২৪০ এমপিএন। এলিফ্যান্ট রোড, চকবাজার, বাসাবো, গুলশান, বনানী থেকে পানির নমুনায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এই জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়।
    গবেষণায় বলা হয়, সদরঘাট এলাকার জারের পানির নমুনায় সবচেয়ে দূষণযুক্ত। যেখানে সর্বোচ্চ টোটাল কলিফর্ম ও ফেকাল কলিফর্মেও উপস্থিতির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৬০০ ও ২৪০ এমপিএন। টোটাল কলিফর্ম পরিমাপে পানিতে প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান এবং মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অন্ত্রে উপস্থিত অণুজীব ও মলমূত্র দ্বারা দূষণের সম্মিলিত মান পাওয়া যায়। আর ফেকাল কলিফর্ম পরিমাপের মাধ্যমে শুধু মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অন্ত্র ও মলমূত্রে দূষণের মাত্রা নির্দেশিত হয়।

    গবেষক দলের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, পানিতে উপস্থিত অণুজীব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কিনা, তা টোটাল কলিফর্ম গণনার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। সে জন্য ফেকাল কলিফর্ম কাউন্ট করা অত্যাবশ্যক। পানিতে এসব জীবাণুর পরিমাণ শূন্য থাকার কথা থাকলেও ৯৭ শতাংশ জার পানিতেই দুটোর উপস্থিতি রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    তিনি বলেন, কলিফর্ম মূলত বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও প্রোটোজোয়ার মতো প্যাথোজেন সৃষ্টিতে উৎসাহ জোগায় বা সৃষ্টি করে। রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বিশেষ করে ই-কোলাই (কলিফর্ম গোত্রের অণুজীব) মানবদেহে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটব্যথা, জ্বর-ঠা-া, বমির মতো নানা উপসর্গ সৃষ্টির পাশাপাশি ক্রমাগত মানুষের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। সংক্রমণের মাত্রা বেশি হলে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ষাটোর্ধ্ব মানুষের হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম হতে পারে। এই রোগের কারণে ক্রমান্বয়ে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কিডনিতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে ব্লাড ট্রান্সফিউশন অথবা কিডনি ডায়ালাইসিস করার মতো অবস্থা দাঁড়ায়।

    তিনি আরও বলেন, এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে সাধারণত রোগের উপসর্গ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রতীয়মান হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাত থেকে আট দিনও লেগে যেতে পারে।

    গবেষকদের মতে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) মাধ্যমে মান নির্ধারণ করা থাকলেও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অবাধে চলছে দূষিত পানির ব্যবসা। সুয়ারেজ লাইনে ছিদ্রসহ বিভিন্নভাবে ওয়াসার পানিতে মলমূত্রের জীবাণু মিশে যায়। আর সেগুলো কিছুটা শোধন করে বা শোধন ছাড়াই জারের পানিতে বিক্রি করা হচ্ছে। তাই জীবাণু থেকেই যাচ্ছে।

    ওয়াসার পানিতেই কলিফর্ম থাকে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, কেবল ফুটিয়ে খেলে সেই জীবাণু মুক্ত হতে পারে। কেবল জারের পানিতে প্রাণঘাতী জীবাণুর উপস্থিতিই নয়, বাজারে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত পানিতেও বিএসটিআই নির্ধারিত মান না পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে এ গবেষণায়।

    প্রাপ্ত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় শতভাগ বোতলের গায়ে নির্দেশিত উপাদানগুলোর মাত্রায় অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এ বিষয়ে ড. মনিরুল বলেন, ফল বিশ্লেষণে পানির স্বাদ নির্দেশকারী টিডিএসের পরিমাণ সর্বনিম্ন প্রতিলিটারে ৮ ও সর্বোচ্চ ২৮০ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে। বিডিএস স্ট্যান্ডার্ড অনুয়ায়ী এই মাত্রা প্রতিলিটারে ৫০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য। পানির মানের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর এভাবে মনগড়াভাবে বিডিএস মান বসিয়ে দেওয়া ঠেকাতে বিএসটিআইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানাই। আর এটি করা না হলে ভোক্তারা এভাবে প্রতারিত হতেই থাকবে। আর ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে তারা এ ধরনের পানি গ্রহণ থেকে দূরে থাকেন।

    (Visited 24 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *