Templates by BIGtheme NET
Home / সারাবাংলা / ঢাকা / মিরপুর থানার এএসআই আবু কাউসারের আসামী ‘ধরা ছাড়া বাণিজ্য’ ।। songbadprotidinbd.com

মিরপুর থানার এএসআই আবু কাউসারের আসামী ‘ধরা ছাড়া বাণিজ্য’ ।। songbadprotidinbd.com

  • ২৭-১২-২০১৭
  • Imadddgeস্টাফ রিপোর্টার- ডিএমপির মিরপুর বিভাগের মিরপুর মডেল থানা পুলিশের এএসআই আবু কাউসারের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আসামী ধরা-ছাড়ার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

    অপরাধীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বিনা ওয়ারেন্টে আটক করে পরে মোটা দাগের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের এই ‘ধরা-ছাড়া’ বাণিজ্যে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    মিরপুর থানাধীন কল্যানপুর নতুন বাজারস্থ পোড়া বস্তির নিরীহ লোকজনকে গ্রেপ্তার করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া ও হয়রানীর অভিযোগ বহুদিনের। এ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথেও থানা পুলিশের দুই একজন অসৎ কর্মকর্তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যায় রাজু নামে বস্তি এলাকার চিহ্নিত একজন সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেন মিরপুর মডেল থানা পুলিশের এএসআই আবু কাউসার। তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাৎক্ষনিক গোটা বস্তি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পরিণতি দেখার জন্য সকলেই গভীর আগ্রহে থাকে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বস্তিবাসী অভিযোগ করে বলেন, রাজু সবসময় বস্তি এলাকায় থাকে না। সে হেমায়েতপুরে থাকলেও বস্তির ইয়াবা সম্রাট হিসেবে সকলের কাছেই চিহ্নিত ও পরিচিত। সে বহুদিন যাবত নিয়মিত বস্তির খুচরা ও পাইকারী মাদক ব্যবসায়ীদেরকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সর্বরাহ করে আসছে। বস্তির বড় একটি অংশে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে কপালে জোটে শারীরিক নির্যাতন।

    গত সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুর থানার এএসআই কাউসার স্যার তাকে হাতনাতে পেয়ে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেলে আমরা বস্তিবাসী স্বতির নিঃশ্বাস ফেলি। অপরাধী কি শাস্তি পায় তা দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। কিন্ত পরে রাত আনুমানিক তিনটার দিকে থানা থেকে ছাড়া পেয়ে রাজু বস্তি এলাকায় পুনরায় প্রবেশ করে কয়েকজন বস্তিবাসীকে হুমকী দিয়ে বলতে থাকে, থানা তো আমাকে আটকে রাখতে পারল না। আমি যে পরিমান টাকার বিনিময়ে থানা থেকে মুক্ত হয়ে আসলাম তা তোমাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিলের সাথে তুলে নিব আমি। এতে বস্তির নিরীহ বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

    অভিযোগ উঠেছে, সোমবার মধ্যে রাতে মোটা অংকের টাকা নিয়েই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শুধু এ ঘটনাই নয়, প্রায় সময়ই লোকজনকে আটক করে টাকা-পয়সা আদায় করেন এএসআই আবু কাউসার। এছাড়া কিছু মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে রয়েছে তার দহরম-মহরম সম্পর্ক। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে নিয়ে থাকেন নিয়মিত মাসোয়ারা।

    জানতে চাইলে রাজুর বোন লাবনী রাজুকে গ্রেফতারের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় কাউসার স্যার আমার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছিল ঠিকই, কিন্ত কি কারণে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল তা আমার জানা নাই। পরে রাত তিনটার দিকে আমার ভাবী (রাজুর স্ত্রী) থানায় গিয়ে টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।

    এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানা পুলিশের এএসআই আবু কাউসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অজ্ঞাত কারনে তিনি রাজুকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

    এ প্রসঙ্গে মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ছুটিতে আছেন উল্লেখ করে বলেন, আমি ছুটিতে আছি। অভিযোগটি পেলাম ঠিক আছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সুষ্টু বিচারের মাধ্যমে অবশ্যই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুত্র সময়ের কণ্ঠস্বর

    (Visited 20 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *