Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / কর্পোরেট নিউজ / গ্রাহককে সুনির্দিষ্ট সেবা না দিয়েই সার্ভিস চার্জ আদায় করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ।। songbadprotidinbd.com

গ্রাহককে সুনির্দিষ্ট সেবা না দিয়েই সার্ভিস চার্জ আদায় করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৫-১২-২০১৭
  • full_842132206_1439288942সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদনঃ  গ্রাহককে সুনির্দিষ্ট সেবা না দিয়েই সার্ভিস চার্জ আদায় করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। সার্ভিস চার্জ আদায়ের বাহারি খাত রয়েছে ব্যাংকটির। গ্রাহককে না জানিয়ে বছরে দুবার অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি এ টাকা কেটে রাখা হয়। গ্রাহক গ্রহণ করেননি, এমন সেবার বিপরীতেও চার্জ আদায় করছে তারা। যারা এটিএম কার্ড সেবা নেননি, তাদের কাছ থেকেও বছরে দেড় হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সেবাগ্রহণকারীদের কাছ থেকে একই সেবার ভিন্ন নামে আরেকটি সার্ভিস চার্জ বাবদ বছরে ৪৬০ টাকা আদায় করছে বেসরকারি ব্যাংকটি।

    সূত্র জানায়, গ্রাহক কোনো লেনদেন না করলেও শুধু অ্যাকাউন্ট থাকলেই প্রায় ৪ থেকে ৫ ধরনের সার্ভিস চার্জ আদায় করছে ব্যাংকটি। এমনকি একই সার্ভিস চার্জ দুই নামে আদায় করা হচ্ছে। গ্রাহকের অজান্তেই অ্যাকাউন্ট থেকে এ টাকা কাটা হয়। সাধারণ সঞ্চয়ী বা স্যালারি অ্যাকাউন্টে জমা টাকার বিপরীতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হয় না। ফলে এসব হিসাবে গ্রাহকের কোনো আয়ও হয় না। এতে জমানো মূল টাকা থেকে চার্জ কেটে রাখে। ফলে এক সময় অ্যাকাউন্ট ব্যালান্সশূন্য হয়ে পড়ে। সার্ভিস চার্জ বকেয়া হিসেবে রেখে পরবর্তীতে টাকা জমা করার সঙ্গে সঙ্গে কেটে রাখে ব্যাংকটি। এ জন্য গ্রাহককে কোনো ধরনের নোটিশও করা হয় না।

    ব্যাংকের এমডি আবুল কাশেম শিরিন দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে ডিএমডি মঞ্জুর মফিজ জানান, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এটি করা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি আমরা অবশ্যই দেখব।

    জানা গেছে, সব ব্যাংকেরই এটিএম কার্ডের সার্ভিস চার্জ রয়েছে। ব্যাংক এটিএম কার্ড দিলেই তার বিপরীতে সেবা গ্রহণ করেন গ্রাহকরা। কিন্তু এটিএম কার্ড নেননি, এমন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকেও এটিএম সার্ভিস চার্জ আদায় করেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংক এটিএম কার্ড সেবা বাবদ চার্জ আদায় করলেও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ‘নেটওয়ার্ক ফি’ নামে আরেকটি চার্জ কেটে রাখছে। ওই নেটওয়ার্ক ফি বছরে ৪০০ টাকা; ভ্যাটসহ ৪৬০ টাকা। নেটওয়ার্ক ফি নামে কোনো সার্ভিস চার্জ অন্য কোনো ব্যাংকে নেই।

    কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করে জানান, তারা এটিএম কার্ড গ্রহণ করেননি। অথচ তাদের কাছ থেকে ছয় মাসে ৪৬০ টাকা এবং নেটওয়ার্ক ফি হিসেবে আরও ২৩০ টাকা সার্ভিস চার্জ কেটে রাখা হয়েছে। কার্ড রিনিওয়াল ফি হিসেবে আরও ৫০১ টাকা কেটে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন গ্রাহক বিষয়টি ব্যাংকের কাছে অভিযোগ দেন। পরে ব্যাংক তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত দিয়েছে। কিন্তু যারা অভিযোগ করেননি, তাদের টাকা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক আয় বাড়াতে সব শাখা ম্যানেজারকে সার্ভিস আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর গণহারে চার্জ আদায় করা হচ্ছে। সব অ্যাকাউন্ট অটোমেটেড সিস্টেমের আওতায় রয়েছে। আগে আইটি বিভাগ থেকে সার্ভিস চার্জ আদায় করা হতো। সেখানে এটিএম কার্ড নম্বর ধরে তার সঙ্গে সংযুক্ত অ্যাকাউন্ট থেকে সার্ভিস চার্জ কাটা হতো। এতে শুধু কার্ডধারীদের কাছ থেকে সার্ভিস আদায় করা হতো। এখন সব সার্ভিস চার্জ আদায় করে সংশ্লিষ্ট শাখা। শাখা কর্মকর্তারা তাদের পারফরম্যান্স ভালো দেখানোর জন্য গণহারে সার্ভিস চার্জ আদায় করে মুনাফা দেখাচ্ছে। সিস্টেম ব্যবহার করে নিমিষেই সব অ্যাকাউন্ট থেকে সার্ভিস আদায় হয়ে যাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। সেবা না নিয়েই সেবার বিপরীতে সার্ভিস দিতে হচ্ছে।

    একজন গ্রাহক জানান, ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্ট আছে কিন্তু এটিএম কার্ড নেননি। তার ব্যাংক স্টেটমেন্ট তোলার পর দেখেন নেক্সাস ডেবিট কার্ড নামে নবায়ন ফি বাবদ ৪৬০ টাকা এবং এটিএম নেটওয়ার্ক চার্জ নামে ২৩০ টাকা মোট ৬৯০ টাকা কেটে নিয়েছে ব্যাংক। পরে অভিযোগ জানালে ব্যাংক তার অর্থ ফেরত দেয়।

    আরও দুজন গ্রাহক জানান, তাদের কার্ড না থাকলেও ডেবিট কার্ড নবায়নের নামে ৫০১ টাকা, নেটওয়ার্ক ফি নামে ৪৬০ টাকা এবং নবায়ন ফি নামে আরও ৪১৯ টাকা সর্বমোট ১ হাজার ৩৮০ টাকা কেটে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০১ টাকা কেটে রাখে চলতি বছরের ৪ মে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৮ মে সে টাকা ফেরত দেয় ব্যাংক। আবার কার্ড বাবদ ৯ মে ৮৭৯ কেটে রাখা হয়। ওই দিন অভিযোগ করলে তা ফেরত দেওয়া হয়।

    ব্যাংক সূত্র জানায়, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবধারী গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৬৫ লাখ। এদের অধিকাংশের ডেবিট কার্ড রয়েছে। ডেবিড কার্ড নেই, এমন গ্রাহকের সংখ্যাও কম নয়। তবে ঠিক কী পরিমাণ গ্রাহকের ডেবিট কার্ড নেই, সেটি জানাতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

    ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যমতে, চলতি হিসাব থাকলে বার্ষিক ১ হাজার টাকা এবং সঞ্চয়ী হিসাব থাকলে বার্ষিক ২০০ থেকে ৬০০ টাকা সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয়। এটিএম ডেবিট কার্ড সার্ভিস চার্জের মধ্যে রয়েছে নেক্সাস কার্ড প্রথম বছর ফ্রি এবং ভিসা বা মাস্টারকার্ড হলে ৭৫০ টাকা। কার্ড নবায়ন ফি ৪০০ টাকা অথবা ৭৫০ টাকা। এ ছাড়া নেটওয়ার্ক ফি ২০০ টাকা। বছরে দুবার এই সার্ভিস চার্জগুলো আদায় করা হয়। এ হিসাবে কোনো অ্যাকাউন্টধারী ডেবিড কার্ড ব্যবহার করলে তার কাছ থেকে বছরে ২ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকা সার্ভিস চার্জ আদায় করে ব্যাংকটি। এ চার্জের ওপর আরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে রাখা হয়। অন্যদিকে পিন নম্বর পরিবর্তন করলে ২০০ টাকা এবং রিপ্লেসমেন্ট কার্ড নিলে ৪০০ এবং ৭৫০ টাকা কাটা হয়।

    (Visited 20 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *