Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / উপসম্পাদকীয় / ফেনীর মেয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভীন ।। songbadprotidinbd.com

ফেনীর মেয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভীন ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৪-১২-২০১৭
  • image-4847সাহিদা সাম্য লীনা:  নারী তো মমতাময়ী। ঘরের লক্ষী। সংসার সুখের কারিগর সে তো এক নারী। নারীর মধ্যেই পৃথিবীর অকৃত্তিম সুখ-শান্তি। নারীর ছায়ায় পরিবার গঠন সম্ভব। নারীবিহীন নয়। এই মাটি.এই ভূিম সব কিছুতেই নারীর হক বিদ্যমান। নারী পুরুষের যেমন অর্ধাঙ্গিনি; তেমনি ভেতরে বাহিরে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। কবি নজরুলের স্তুতিতে বলি ‘‘ এ পৃথিবীতে যাহা কিছু কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী ,অর্ধেক তার নর।’

    সেই আদি যুগের ক্রমবর্ধমানে দেখি নারীদের সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা, সংগ্রাম। কী সে নেই নারী! সব জায়গায় নারীরা লড়ছে বীরের মতো। সব পদবীতে সমান পারদর্শী নারী। প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা চষে বেড়াচেছন। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথাই বলি। সেখানেও ছিল নারীদের অবিশ্বাস্য অবদান। নারীদের সর্বোচ্চ বিসর্জন। কঠিন থেকে কঠিনে নারীদের বিভাষিকাময় দৃশ্য অবলোকন! এ তো আরেক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সোফান। এটি সম্ভব কেবল তাদের ধৈর্যশীলতার কারণে । সেসময়ের একজন নারী যিনি একাধারে ছিলেন কবি.সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। একাত্তরে যে কজন নারী সাংবাদিক ছিলেন তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি কবি সেলিনা পারভীন।

    আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে একমাত্র নারী সাংবাদিক শহীদ বুদ্ধিজীবী। সেলিনা পারভীন আমাদের ফেনীর কন্যা, আমাদের গৌরব,আমাদের অহংকার। একজন নারী হিসেবে যতগুণ থাকা দরকার তা তাঁর মধ্যে ছিল। ঘরকন্যার কাজ হতে শুরু করে বাইরের কাজে ছিলেন সমান পারদর্শী। সাহিত্যের প্রতি ছিল তার উদার ভাবনা ও দুর্বলতা। এতটা অনুরাগী ছিলেন সাহিত্য-সাংবাদিকতা যার কারণে সংসার মায়া ত্যাগ করেছিলেন। কেননা সংসার তাঁকে এ পথে বাধা প্রদান করেছিল। চেষ্টা করেছেন থাকতে, নইলে তার কোল জুড়ে ছেলে সুমনকে পেতেননা। স্বামী তাঁর প্রগতীশীলতায় বাধা দেয়ায় একমাত্র পুত্রকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সফলও হয়েছেন এই যুদ্ধে। অত্যন্ত আত্বমর্যাদাশীল নারী ছিলেন তিনি। এজন্য চাকরী বদল করেছেন বেশ কয়েকবার। নানা পদে থেকে অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন জীবনের বাঁকে বাঁকে। অন্যের পত্রিকায় যেমন কাজ করেছেন তেমনি নিজেও পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। তাঁর পত্রিকা শিলালিপি। সেই পত্রিকায় লিখতেনও তখনকার খ্যাতনামা লেখকগণ।

    এই লেখাটি লিখতে ও আরো একজন সম্পাদক শুভাকাঙ্খী ভাইয়ের জন্য (সেলিনা পারভীন সম্পর্কে) লেখার প্রয়োজনে আমাকে সেলিনা পারভীনের জীবনী জানতে উইকিপিডিয়া হতে শুরু করে এ যাবত যেখানে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তা ঘাটতে হয়েছে। ফলে সেলিনা পারভীন সম্পর্কে আরো জানার সুযোগ হয়। এ বিষয়টি আমাকে ঋদ্ধ করেছে। এ পর্যায়ে শহীদ সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদের প্রকাশনায় তার মায়ের বিরাশিতম মৃতুবার্ষিকীর উপলক্ষ্যে শিলালিপির একটি স্বরণিকা বের করে। স্বরণিকাটি পরে সুমন জাহিদের হাত হয়ে ফেনীর এক সাংবাদিক ভাইয়ের মাধ্যমে আমি পাই। স¦রণিকাটি পড়ে আমি অঝোর ধারায় কেঁদেছি আমার আবেগতার কারণে। একসাথে সব লেখা পড়তে পারছিলামনা কান্নার জন্যে।

    জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে তিনি লড়েছেন। তবু হার মানেননি। সমাজ ব্যবস্থায় নারীর অবস্থান সেই অনাদিকাল থেকেই তালাবদ্ধ। সেই সময়ের মতো কঠিন পরিবেশে তিনি লেখক, একজন সাংবাদিক! ভাবা যায়! অনুকূল বাঁধা ডিঙিয়েছেন তিনি। বেগম পত্রিকায় লিখতেন আবার জীবীকার জন্য বিজ্ঞাপন সংগ্রহে কাজ করতেন। একটা কঠিন কাজ এটি। বিজ্ঞাপন তো একবিংশতেও একটি জটিল অধ্যায়। আর তখন তো এটি ছিল দুষ্প্রাপ্র! তবে এই কাজে তিনি সফল নিশ্চয়। বহু সংস্থার সাথে তার পরিচয় গড়ে উঠে। আসতো বিজ্ঞাপন।এজন্য বেগম পত্রিকা থেকে তাঁকে এই কাজেই উপযুক্ত ভেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তারাও জানতেন সেলিনা লিখতে চাইতো । জীবীকার জন্য তিনিও তা গ্রহণ করেন।

    অসংখ্য কবিতা,গল্প, প্রবন্ধ,নিবন্ধ, কলাম লিখেছেন তিনি। ঐ সময়ের বহুল প্রচারিত দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক আজাদ,দৈনিক ইত্তেপাকে তার লেখা প্রকাশিত হতো। অনেক জ্ঞানীগুণী লেখক-সাংবাদিকের সাথে তাঁর ভাল সম্পর্ক ছিল। দেশ,সংস্কৃতির জন্য তিনি নিবেদিত ছিলেন। এটি তাঁর কাজ থেকেই বোঝা যায়। তাঁর পরিশ্রমের ফসল শিলালিপির বিক্রয় এর অর্থ দিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধারের গোপনে সাহায্য করতেন। লিখতেন পত্রিকায়ও জালিম দালালদের বিরুদ্ধে। ছাপাতেন প্রতিবাদের লেখা বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীর। কিনÍু সেসবই শত্রুর নজরে কাল হয়ে ধরা দেয়। আমরা যেমন গর্বিত শহীদ সেলিনা পারভীনকে নিয়ে তেমনি লজ্জি¦ত আলবদর বাহিনীর দালাল ফেনীরই কুখ্যাত চৌধুরী মাইনুদ্দিন এর সহায়তায় তাঁকে তার সিদ্ধেশরীর বাসা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়। নিজ শহরের বাসিন্দার কারণে কবিকে এই কঠিন সময় দেখতে হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ অন্যান্য বুদ্ধিজীবীর সাথে হায়েনারা তাঁকে হত্যা করে। ১৮ ডিসেম্বর রায়েরবাজার বদ্ধভুমি হতে তাঁর লাশ স্বজনরা সনাক্ত করে। অত্যন্ত রুচিশীল ব্যক্তিত্ববান নারী ছিলেন সেলিনা পারভীন। কখনো কোথাও ছোট হওয়ার মতো কাজ তিনি করতেননা। প্রয়োজনে চাকরী বদল করেছেন। তবু থেমে থাকেননি। শিশুপুত্র সুমনকে আগলে বাঁচতে চেয়েছেন। পারেননি। অবশেষে আলবদরের গুলিতে শহীদ হন আমাদের ফেনীর সেলিনা।

     

    সাহিদা সাম্য লীনা
    সম্পাদক আচঁল,ফেনী।

    (Visited 55 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *